পক্ষাঘাতগ্রস্ত বা প্যারালাইজড রোগীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে চীন। বিশ্বে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে ব্রেইন চিপ ডিভাইসের অনুমোদন দিয়েছে দেশটি। ব্রিটিশ পত্রিকা ইন্ডিপেনডেন্ট প্রতিবেদনে লিখেছে, এক চীনা কোম্পানির তৈরি উদ্ভাবনী এক ব্রেইন কম্পিউটার ইন্টারফেইস বা বিসিআই সিস্টেমের অনুমোদন দিয়েছে চীনের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।
পক্ষাঘাতগ্রস্ত বা প্যারালাইজড ব্যক্তিদের হাতের নড়াচড়ার সক্ষমতা ফিরিয়ে আনার জন্য এটি তৈরি করেছে বোরুই কাং মেডিকেল টেকনোলজি। ঘাড়ের কাছাকাছি মেরুদণ্ডে আঘাতের কারণে যারা পক্ষাঘাত বা কোয়াড্রিপ্লেজিয়াতে আক্রান্ত তাদের হাত মুঠো করার ক্ষমতা ফিরিয়ে আনাই এ সিস্টেমের লক্ষ্য। বিশেষ এক গ্লাভস ব্যবহারের মাধ্যমে রোগীরা এ সুবিধা পাবেন। খবর বিডিনিউজের।
এটি ‘ইনভেসিভ’ বিসিআই সিস্টেম, অর্থাৎ এর বিভিন্ন ইলেকট্রোড মস্তিষ্কের ভেতরে সরাসরি স্থাপন করা হয়। অপারেশনটিতে তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ মিনিমালি ইনভেসিভ এঙট্রাডিউরাল ইমপ্লান্টেশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। চীনের ন্যাশনাল মেডিকেল প্রোডাক্টস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বলেছে, এ নতুন ডিভাইসটিসহ বিভিন্ন বিসিআই পণ্যকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
গত সপ্তাহে প্রকাশিত বেইজিংয়ের সর্বশেষ পাঁচ বছরের পরিকল্পনায় এ খাতকে ভবিষ্যতের শিল্প হিসেবে ঘোষণার বিষয়টি এর কৌশলগত গুরুত্বকে আরো স্পষ্ট করে তুলেছে। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন শীর্ষস্থানীয় বিসিআই বিশেষজ্ঞ বলেছেন, প্রযুক্তিটি আরো উন্নত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে চীনে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে।
মাস্কের নিউরালিংকের মতো মার্কিন বিভিন্ন স্টার্টআপের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বেইজিং এখন দ্রুতগতিতে কাজ করছে। চীনা ডিভাইসটি ব্যবহারের জন্য রোগীদের বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং তাদের মেরুদণ্ডের আঘাত একটি নির্দিষ্ট ধরনের থাকতে হবে। এছাড়া রোগীদের অসুস্থতা অন্তত এক বছরের পুরনো হতে হবে এবং সাধারণ চিকিৎসার পর পরবর্তী ছয় মাস তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকা আবশ্যক।
যে রোগীরা হাত দিয়ে কোনো কিছু ধরতে পারেন না, তবে হাতের উপরের অংশ সামান্য নাড়াচাড়া করতে পারেন তারাই এ চিকিৎসার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্যে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের হাত মুঠো করার সক্ষমতায় অনেক উন্নতি হয়েছে। চীনা নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি আরো বলেছে, এ উন্নতি রোগীদের জীবনযাত্রার মান বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।











