দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেছেন, বিশ্বজিৎ চৌধুরীকে কথাসাহিত্যে ‘ফয়েজ নুরনাহার সাহিত্য পুরস্কার’ প্রদান করে চট্টগ্রাম একাডেমি প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে। বিশ্বজিৎ চৌধুরী, যিনি একাধারে কবি, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কলামলেখক, নাট্যকার, সমালোচক ও কিশোর সাহিত্যিক। যখন যেটা লিখেছেন এবং লিখছেন, সেটা অসাধারণ হয়ে পাঠকের কাছে ধরা দেয়। তার লেখা আমার চোখে পড়লেই আমি পড়ি। তিনি প্রথম আলো পত্রিকায় ‘আঁরার আজাদী’ শিরোনামে একটি লেখা লিখে আমাদের অভিভূত করেছিলেন। প্রথম আলোতে কাজ করে প্রথম আলোতেই লিখলেন ‘আঁরার আজাদী’ হিসেবে। আজাদীকে তিনি ওন করেছেন। এই উদারতা সবার থাকে না। বিশ্বজিৎ চৌধুরী প্রতিটি ক্ষেত্রেই সৃষ্টি করেছেন নতুন ধারা। এই পুরস্কার প্রবর্তন করে চট্টগ্রাম একাডেমি ও ফয়েজ নুরনাহার পরিবারের সদস্যরা মহৎ কাজ করেছেন। আমি তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।
তিনি গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম একাডেমি– ফয়েজ নুরনাহার সাহিত্য পুরস্কার ২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন। সাহিত্যিক–কলাম লেখক ড. আনোয়ারা আলমের সভাপতিত্বে আলোচক ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব শিশির দত্ত, কবি ওমর কায়সার, ই–লার্নিং বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল হুদা খান, প্রাবন্ধিক আমিনুর রশীদ কাদেরী, কবি সুলতানা নুরজাহান রোজী, অ্যাডভোকেট রফিক মিয়া। স্বাগত বক্তব্য দেন –একাডেমির মহাপরিচালক জাহাঙ্গীর মিঞা। কবি–সাহিত্যিক রাশেদ রউফের পরিচালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রফেসর রীতা দত্ত, কবি অরুণ শীল, কবি জিন্নাহ চৌধুরী। অনুভূতি ব্যক্ত করেন পুরস্কারপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক কবি সাংবাদিক বিশ্বজিৎ চৌধুরী।
বক্তারা বলেন, বিশ্বজিৎ চৌধুরী বহুমাত্রিক ও আধুনিক মনস্ক সাহিত্যিক। সমাজের নানা চরিত্রগুলোকে তিনি কথাসাহিত্যে ফুটিয়ে তোলেন অত্যন্ত সাবলীল ভাষায়। তিনি নাগরিক লেখক। নগরের প্রতি রয়েছে তাঁর দায়বদ্ধতা। জীবনের অন্য সব ক্ষেত্রের মতো সাহিত্যও যে অপরিহার্য বিষয়, যেটা আমরা বুঝতে পারি, বিশ্বজিৎ চৌধুরীর মতো লেখকদের উপস্থিতিতে। তাঁর সমগ্র সাহিত্য মানব জীবনেরই প্রতিচ্ছবি এবং মানুষের উজ্জীবনী শক্তি। পাঠকের সুপ্রবৃত্তিকে জাগিয়ে তোলার কষ্টার্জিত শ্রমলব্ধ প্রয়াস লক্ষ্যণীয়। তাঁর প্রতিটি রচনা যেমন গভীর ও অতলস্পর্শী, তেমনি ব্যাপক। তাতে আছে বিষয় ও ভাষার কারুকাজ, আছে অভিনব বর্ণনা, আছে ঔদার্য ও বিস্ময়। তাঁরা বলেন, সাহিত্যের নানা শাখায় স্বতঃস্ফূর্ত ও সক্রিয় হলেও এবং কবি হিসেবে ব্যাপক পরিচিত হলেও কথাসাহিত্যই তাঁর প্রধান চর্চিত মাধ্যম। এ অঙ্গনে তাঁর কাজ ব্যাপক ও উল্লেখযোগ্য। জীবন ও ইতিহাস–আশ্রিত উপন্যাস রচনা করে তিনি সমকালের অন্যতম মেধাবী কথাসাহিত্যিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন, দিয়েছেন তাঁর শক্তির পরিচয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।











