দিল্লি পুলিশের বাধা এড়িয়ে গতকাল ভারতের সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আবেদন দাখিল করলেন রাহুল গান্ধী সহ বিরোধী নেতারা। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ, কথিত ভোট চুরি রোখা ও এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবিতে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে যাত্রার ডাক দিয়েছিল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ব্লক। বিরোধী নেতাদের সেই আবেদনে সাড়া দেননি বিচারপতি সূর্য কান্ত। কিন্তু তার প্রতিক্রিয়া কিছুটা ‘উপেক্ষা’ করেই নিজেদের ঘোষিত কর্মসূচিতে অনড় থেকেছে ইন্ডিয়া জোট। ওই মিছিল আটকানোর চেষ্টা করেছিল পুলিশ, তবে কিছুক্ষণ ধ্বস্তাধ্বস্তির পরে অন্য একটি রাস্তা দিয়ে বিরোধী নেতারা সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছান।
নির্ধারিত কর্মসূচির আগে সাংবাদিক সম্মেলন করে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন রাহুল গান্ধী। তারপরই পাল্টা সাংবাদিক সম্মেলন করে রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করেন বিজেপির শিবরাজ সিং চৌহান। তিনি বলেন, আসামে কংগ্রেসের অবস্থা কী? রাজস্থানে কী হয়েছে? তার আগে হিমাচলে কী হয়েছে? একের পর এক নির্বাচনে হেরে যাওয়া এবং তারপর প্রতিবাদে রাস্তায় নামা এটা কংগ্রেসের নিয়তি হয়ে গিয়েছে। তার অভিযোগ, ভোটে হারার ‘দায়’ কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনের উপর চাপাচ্ছে। তার কথায়, কংগ্রেসের হারের কারণ তাদের দিশাহীন নেতৃত্ব। খবর বিবিসি বাংলার।
নির্বাচন কমিশন এবং এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতা জানিয়ে গতকাল দুপুরে শুরু হয় ইন্ডিয়া জোটের কর্মসূচি। কনট প্লেস থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত এই অভিযানে যোগ দেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, মমতা ব্যানার্জী, আরজেডির তেজস্বী ইয়াদভ, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ ইয়াদভ, তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি–সহ ইন্ডিয়া জোটে সামিল দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বদের মধ্যে অনেকেই। কংগ্রেস এবং অন্যান্য শরিক দলের সদস্যরাও সামিল ছিলেন।ছিলেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেহা বোরাও। পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বলেন, আমরা ন্যায় বিচার চাইছি, অন্য কিছু নয়। এটা মানুষের জন্য, মানবজাতির জন্য এবং ন্যায় বিচারের জন্য। ইন্ডিয়া জোটের শরিকদের বহু সমর্থক এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচিতে বহু তরুণ–তরুণীও সামিল ছিলেন। কনট প্লেস ও মান্ডি হাউসের মধ্যবর্তী রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের ভিড় ছিল। মাঝ পথে রাহুল গান্ধী ও ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের বাধা দেয় পুলিশ।
অন্যদিকে, দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে বসার অনুমতি না মেলায় পুলিশের কাছেই বিক্ষোভের দিন স্থির করে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। এর জন্য দিল্লি পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার সময়ও বেঁধে দিয়েছে তারা। আর এসবের মাঝেই দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে যে যন্তর মন্তর এতদিন প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য পরিচিত ছিল, তা সেখানে আর বিক্ষোভ কর্মসূচি হবে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত। তার বদলে রামলীলা ময়দান বুরারি মাঠ, পূর্ব দিল্লির সিবিডি–এই তিনটি স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া যাবে। এবার থেকে এই তিন জায়গায় কর্মসূচি পালন করা যাবে।
সরকারের এই নোটিশ প্রকাশ্যে আসার পরই সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদ কর্মসূচির স্থলের তালিকা থেকে নরেন্দ্র মোদী সরিয়ে দিয়েছেন। প্রতিবাদ স্থল নিয়ে কোনো সমস্যা ছিল না, তার সমস্যা আসলে প্রতিবাদকে ঘিরে।
এদিকে, শনিবারের মতো না হলেও গতকাল সোমবারও দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল চোখে পড়ার মতো। দিল্লির ছয়টা মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন জায়গায় প্রচুর পরিমাণে পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশান ফোর্স এবং সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়। মিছিল আটকাতে জায়গায় জায়গায় ব্যারিকেডও দেওয়া হয়।
সিজেপি–র সহ–প্রতিষ্ঠাতা সৌরভ দাস বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানানোটা একটা অধিকার–সাংবিধানিক অধিকার, এবং মানুষ ইতিমধ্যেই তা প্রয়োগ করছে। মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করবে। পুলিশ সবসময় অভিযোগ করে যে আমাদের ১০ দিন আগে তাদের কাছে যেতে হবে। আমরা এখন সিদ্ধান্তটা তাদের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি এবং তাদের নির্দিষ্ট তারিখ ও সময় জানাতে বলছি। তবে, আমরা তাদের বিষয়টা ঝুলিয়ে রাখতে দেব না। আমরা তাদের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেব–দেখা যাক।












