চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের গরীব রোগীদের হার্টে বিনামূল্যে রিং লাগানোর জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হচ্ছে– রোগীকে হার্ট অ্যাটাকের ১২ ঘণ্টার মধ্যে আসতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আসলে বিশেষজ্ঞরা চিকিৎসকরা রোগীকে ক্যাথলেবে নিয়ে প্রাইমারী পিসিআই (আক্রান্ত হওয়ার দ্রুত সময়ে রিং পরানো) করাবেন। হৃদরোগের এই আধুনিক চিকিৎসার জন্য বেসরকারি খাতে ২ থেকে ৩ লাখ খরচ হয়, সেই চিকিৎসা এখন গরীব রোগীরা পাবেন বিনামূল্যে।
চমেক হাসপতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইসিভিডি) সরকারিভাবে প্রাইমারী পিসিআইয়ের সেবাটি চালু আছে। সেখানে ধনী–গরীব সবাইকে এই সেবা দেয়া হয়, তবে চট্টগ্রামে বাজেট বরাদ্দ এবং সীমাবদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শুধুমাত্র গরীব রোগীদের সেবাটি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া কারা ‘গরীব’ এই বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য একটি বোর্ড করে দেয়া হবে। তারা রোগীর আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে বিনামূল্যে প্রাইমারি পিসিআই করার সুপারিশ করবেন।
এদিকে চমেক হাসপাতালে প্রাইমারী পিসিআই করার সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও এখন পর্যন্ত এনজিওগ্রাম মেশিনের সক্ষমতা বাড়েনি। গত মাসের ১২ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম হৃদরোগ বিভাগে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসা অব্যবহৃত এনজিওগ্রামটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলেও এখনো চালু করা যায়নি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন–মানিকগঞ্জ থেকে মেশিনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ এখনো এসে পৌঁছায়নি। এছাড়া মেশিনের সাথে থাকা ১০টি রেডিয়েশন প্রটেক্টিভ অ্যাপ্রনও দেয়নি মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে গত পাঁচ বছর ধরে জাপানের শিমার্জু ব্র্যান্ডের একটি মেশিন দিয়ে টিপিএম, পিপিএম, এনজিওগ্রাম, পেরিপাইরাল এনজিওগ্রাম ও রক্তনালীতে রিং স্থাপনের কাজ চলছে। অতিরিক্ত চাপের কারণে গত সেপ্টেম্বরে মেশিনটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। ফলে কাজ বন্ধ থাকে পাঁচদিন। এছাড়া গত ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে একইভাবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় দুই সপ্তাহ মেশিনটি বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে মেশিনটির সরবরাহকারী কোম্পানির প্রতিনিধিরা পিকচার টিউব স্থাপন করে সচল করে। এছাড়া গত ২০২১ সালের শেষের দিকে অপর একটি এনজিওগ্রাম মেশিনের পিকচার টিউব নষ্ট হয়ে যায়। মেশিনটি সচল করার জন্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জানায় মেরামত করতে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা প্রয়োজন হতে পারে। সেটি আর মেরামত করা হয়নি। সেটি এখনো বিকল অবস্থায় পড়ে আছে।
হৃদরোগ বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, হৃদরোগ বিভাগে এনজিওগ্রাম মেশিন সংকটের সমাধান হলে কাজের গতিও দ্বিগুণ হবে। দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় চট্টগ্রামে হৃদরোগের প্রকোপ বেশি। হৃদরোগের চিকিৎসায় উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ প্রতিবেশী দেশ ভারত, সিঙ্গাপুর–ব্যাংককসহ বিশ্বের উন্নত দেশে চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। তবে এক্ষেত্রে গরীব ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের একমাত্র ভরসা চমেক হাসপাতাল। চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের কয়েক কোটি মানুষ এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল।
জানতে চাইলে চমেক হাসপাতাল হৃদরোগ বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. নূর উদ্দিন তারেক দৈনিক আজাদীকে বলেন, প্রাইমারি পিসিআই হৃদরোগের একটি আধুনিক চিকিৎসা। হার্ট অ্যাটাকের পর যত দেরি হতে থাকে, তত হার্টের মাংসপেশিগুলো দুর্বল হতে থাকে। তাই চিকিৎসা প্রটোকল অনুযায়ী হার্ট অ্যাটাকের ১২ ঘণ্টার মধ্যে যদি রোগী হাসপাতালে আসে, তখন রিংয়ের মাধ্যমে রক্তনালীর ব্লক খুলে দিলে রোগী বিপদমুক্ত হয়ে যায়। এই কাজটি বেসরকারি হাসপাতালে সচরাচর হলেও এবার স্বাস্থ্য উপদেষ্টার নির্দেশে গরীব রোগীদের পিসিআই করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেজন্য ইতোমধ্যে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ফলে হাসপাতালে আসা গরীব রোগীরা উপকৃত হবে।
জানতে চাইলে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, হৃদরোগ বিভাগে প্রাইমারী পিসিআই করার জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। বরাদ্দ এই মাসে চলে আসবে।











