বিদায় ২০২১

আলোড়ন তোলা নানা দৃশ্যপটের সাক্ষী

আজাদী প্রতিবেদন | শুক্রবার , ৩১ ডিসেম্বর, ২০২১ at ৫:৫৮ পূর্বাহ্ণ

শীতের ঝিম ধরা রাতে কুয়াশার চাদর সরিয়ে আজ সূর্যটা পূর্বাকাশে উঠেছে ঠিকই, তবে তার ঔজ্জ্বল্য ম্লান। কেননা সেই সূর্যটা আজ পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়তেই কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে আরো একটি বছর। বিদায় ২০২১। আগামীকাল নতুন ভোর বার্তা শোনাবে নতুন একটি বছরের। কথা ছিল সকল ব্যর্থতা, দুঃখ কষ্ট সংকোচের বিহ্বলতা পুরনোর কোলে সঁপে দিয়ে নতুন আশায় বুক বাঁধবে মানুষ।
বিদায়ী বছরটি চট্টগ্রামের মানুষের জীবনকে নানাভাবে আন্দোলিত করেছে। করোনার ছোবলে আতংক, উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তা গতবছরও মানুষের জীবনটাকে বিষময় করে রেখেছিল। সাথে জাতীয় পর্যায়ের ঘটনা, সংঘাতের রাজনীতির মর্মমূল থেকে উৎসারিত এক একটি অঘটন চট্টগ্রামের মানুষকেও ক্ষুদ্ধ, ব্যথিত করেছে। বছরজুড়ে পুরনো আদলেই চলেছে দেশের রাজনীতি। সেই একই দৃশ্যপট। দুই মেরুতে অবস্থানকারী সরকার ও বিরোধী দল গত বছরও সাম্য আর ভ্রাতৃত্বের রাজনীতি চর্চার পরিবর্তে চেষ্টা করে গেছে কীভাবে পরস্পরের থেকে আরো দূরে সরে যাওয়া যায়। অবিশ্বাসের কাছে রাজনীতি নতজানু হওয়ায় নানা সংশয়, শঙ্কার কথা এখন মানুষের মুখে মুখে। আবার করোনার ধাক্কা কাটিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল হতে দেখে সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছে দল মত নির্বিশেষে সকল মানুষ।
চলতি বছরটাতে আমরা অনেককে হারিয়েছি; তাদের সান্নিধ্য আর কখনো পাওয়া হবে না ভেবে চোখের কোণে জল জমে। আবার পরক্ষণে সম্ভাবনাময় আগামীর হাতছানি স্মৃতির পানসী তরী ভাসিয়ে নেয় বহুদূর। মিনিট-ঘণ্টা-দিন-মাস পেরিয়ে বছর চলে যায়। জাগতিক এ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাবে এমন সাধ্য কার? তবু এটাও তো সত্য যে অতীত সে যতোই অতীত হোক, তারই মাঝে লুকিয়ে থাকে বর্তমানের চোখ। অতীতের সেই ভুলত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন বছর হবে জাগরণের বছর সেটাই সবার প্রত্যাশা।
প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির মাঝের দুস্তর ব্যবধান কখনো পূরণ হবার নয়। সরকারি মহল থেকে নানাভাবে প্রতিশ্রুতি আর পরিকল্পনার কাসুন্দি গাওয়া হলেও প্রকৃত সত্য হলো বছর শেষ হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু প্রতিশ্রুতি আর পরিকল্পনা প্রণয়ন আজও শেষ হয়নি। সাধারণ মানুষের স্বপ্নগুলো বারে বারে হোঁচট খেয়েছে স্বাধীনতার পর থেকেই। বিদায়ী বছরটিতেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি।
২০২১ সাল অনেক তাল বেতাল অবস্থার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে আতংকের মধ্যে মানুষ দিন অতিবাহিত করেছে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দমনের তাড়া না থাকায় পুলিশ স্বস্তিতে থাকলেও নগরীতে অপরাধের কমতি ছিল না। খুনের ঘটনা ঘটেছে, ঘটেছে অপহরণের ঘটনাও। সাথে মাদকের বিস্তারতো আছেই। বিদায়ী বছরে পাচারের নির্ভরযোগ্য রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে চট্টগ্রাম। মানব পাচার, ইয়াবা পাচার, স্বর্ণ পাচারসহ সকল ধরনের পাচারের কাজে চট্টগ্রাম হয়ে উঠেছিল গোল্ডেন রুট। তবু মানুষ আশা করে কষ্টের পরে সুখ আসতে পারে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধথার্টি ফার্স্ট নাইটে পতেঙ্গা পারকি সৈকতে যেতে মানা
পরবর্তী নিবন্ধজিপিএ-৫ ও পাসের হারে মেয়েরাই এগিয়ে