বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি আমদানি জোরদার

২ লাখ টন এলএনজি একটি ট্যাংকার কুতুবদিয়ায় বাকি দুটি আসবে বুধবার

হাসান আকবর | শনিবার , ২৮ মার্চ, ২০২৬ at ৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মাঝে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে পাঁচ দিনের ব্যবধানে প্রায় ২ লাখ টন এলএনজি নিয়ে তিনটি ট্যাংকার চট্টগ্রামে আসছে। এলএনজি আমদানির স্বাভাবিক ধারা ধরে রাখা সম্ভব হলে চট্টগ্রামের গ্যাস এবং বিদ্যুৎ সেক্টরে সংকটের যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল তা থেকে নিস্তার মিলবে বলে সংশ্লিষ্টরা বলেছেন।

সূত্রে জানা যায়, এলএনজি নিয়ে আসা তিনটি জাহাজে প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার টন গ্যাস রয়েছে। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া থেকে ৬১ হাজার ৯৯৭ টন এলএনজি বহনকারী ‘এইচএল পাফিন’ ট্যাংকারটি ইতোমধ্যে কুতুবদিয়া উপকূলে পৌঁছেছে। ইন্দোনেশিয়া থেকে ৬১ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘নিউ ব্রেভ’ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৭০ হাজার টন এলএনজি বহনকারী ‘সেলসিয়াস গ্যালাপাগোস’ ট্যাংকার দুটি আগামী বুধবারের মধ্যে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জাহাজ দুটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিডিউল অনুযায়ী ট্যাংকার দুটি নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দেশে এলএনজি খাতের পুরোটাই আমদানিনির্ভর। দেশে এলএনজি সরবরাহ শুরু হওয়ার পর আমদানির প্রায় ৭০ শতাংশ আনা হয় কাতার থেকে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে আসার কথা থাকলেও অন্তত দুটি ট্যাংকার নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে পারেনি। একটি ট্যাংকার এলএনজি বোঝাই করে কাতারের বন্দরে আটকে রয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধের কারণে জাহাজটির চট্টগ্রামে আসা হয়নি।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চলতি মাসে এখন পর্যন্ত দেশে সাতটি এলএনজিবাহী জাহাজ এসেছে। যেগুলো চট্টগ্রামসহ সারা দেশে গ্যাসের ন্যাশনাল গ্রিডে সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে মাসে ১০ থেকে ১১টি ট্যাংকার এলেও যুদ্ধের কারণে এই সংখ্যা কমে এসেছে। যুুদ্ধের কারণে কাতার থেকে এলএনজি আমদানি থমকে যাওয়ায় দেশে গ্যাস সংকট প্রকট হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। বিশেষ করে চট্টগ্রামের গ্যাস সেক্টরের পুরোটাই আমদানিকৃত এলএনজিনির্ভর। এলএনজি আমদানি কোনো কারণে বন্ধ থাকলে চট্টগ্রামে গ্যাস পাওয়া যাবে না। এতে করে গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং সার উৎপাদনে সমস্যা হবে।

উল্লেখ্য, আগে আশুগঞ্জবাখরাবাদ পাইপলাইনের মাধ্যমে সিলেট ও কুমিল্লা অঞ্চলের গ্যাস চট্টগ্রামে সরবরাহ দেওয়ার সুযোগ থাকলেও দেশে এলএনজি আমদানি শুরু হওয়ার পর থেকে ওই পাইপলাইন একমুখী করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই পাইপলাইনে কেবলমাত্র চট্টগ্রামের দিক থেকেই এলএনজি সরবরাহ দেওয়া যায়। কুমিল্লা বা সিলেট অঞ্চলের গ্যাস চট্টগ্রামে আনা যায় না।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি আমদানির ব্যবস্থা করায় চট্টগ্রামের গ্যাস সেক্টর সংকটজনক পরিস্থিতি থেকে আপাতত নিস্তার পাচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি আমদানির চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা থাকলেও আপাতত গ্যাস সেক্টরে বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের শঙ্কা নেই।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৩০ ড্রামে অবৈধভাবে মজুদ ৬ হাজার লিটার ডিজেল
পরবর্তী নিবন্ধঋণের টাকা আর টমটম কেনার স্বপ্ন পুড়ল আগুনে