বিএনপির বিজয় মশাল রোড শো’র সূচনা চট্টগ্রামে, সমাপ্তি ঢাকায়

১৬ দিনের বিশেষ এ কর্মসূচি শুরু কাল । কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বিজয় মশাল যাবে বিপ্লব উদ্যানে মিছিলে মশাল বহন করবেন একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং একজন জুলাই যোদ্ধা

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ at ৬:০৯ পূর্বাহ্ণ

বিজয় দিবস উপলক্ষে এ বছর বিএনপি ঘোষিত দেশব্যাপী ১৬ দিনের বিশেষ কর্মসূচি ‘বিজয়ের মাসে বিজয় মশাল রোড শো’এর সূচনা হবে চট্টগ্রাম থেকে। কর্মসূচির প্রথম দিন আগামীকাল সোমবার (১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক নগরের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বিজয় মশাল যাত্রা শুরু করে পৌঁছাবে বিপ্লব উদ্যানে। বিজয় মিছিলে মশাল বহন করবেন ১৯৭১ সালের একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং ২০২৪ সালের একজন জুলাই যোদ্ধা।

গতকাল শনিবার রাজধানীতে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানান, চট্টগ্রামের পর পর্যায়ক্রমে কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর বিভাগে বিজয় মশাল রোড শো এবং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। দেশের সকল বিভাগ ঘুরে সর্বশেষে ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় এসে পৌঁছাবে বিজয় মশাল। এদিন রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ‘বিজয়ের মাসে বিজয় মশাল রোড শো’।

এদিকে কর্মসূচি সফল করতে গতকাল পৃথক প্রস্তুতি সভা করেছে নগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি। এর মধ্যে বিকেলে দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবন চত্বরে নগর বিএনপি ও সন্ধ্যায় দোস্ত বিল্ডিং দলীয় কার্যালয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রস্তুতি সভা থেকে জানানো হয়, বিজয় মিছিল বিপ্লব উদ্যানে পৌঁছানোর পর সেখানে জনসভা হবে। সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান। চট্টগ্রামের বিজয় মিছিল ও সমাবেশ সফল করতে দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেয়া হয় প্রস্তুতি সভা থেকে।

নগর বিএনপি : গতকাল বিকেলে দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবন চত্বরে অনুষ্ঠিত নগর বিএনপির প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মাহবুবের রহমান শামীম, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুল আলম, নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। সভাপতিত্ব করেন নগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান।

মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, বিপ্লব উদ্যানে অনুষ্ঠেয় বিশাল জনসভাকে জনগণের মিলনমেলায় পরিণত করতে হবে। এ জন্য প্রতিটি ইউনিটের নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ ও সংগঠনী শক্তি দিয়ে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

ব্যারিস্টার মীর মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, বিপ্লব উদ্যানের জনসভাকে একটি সত্যিকারের জনসমুদ্রে পরিণত করা এখন আমাদের দায়িত্ব। তিনি বলেন, বিএনপি জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশের জনগণের অধিকার রক্ষা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আপোষহীন সংগ্রাম চালিয়ে আসছে। স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনা, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে বিএনপি সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত।

সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ আজম উদ্দিন, এডভোকেট আব্দুস সাত্তার, কাজী বেলাল উদ্দিন, নিয়াজ মোহাম্মদ মোহাম্মদ খান, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, শওকত আজম খাজা, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, শিহাব উদ্দিন মোবিন, মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু।

দক্ষিণ জেলা বিএনপি : কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে গতকাল চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। নগরের দোস্ত বিল্ডিং দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া ও সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দীনের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। প্রধান বক্তা ছিলেন বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, হাজার হাজার মানুষের ঢল নামবে সমাবেশে। মীর হেলাল বলেন, স্বৈরাচারমুক্ত নতুন বাংলাদেশে এবার সর্বস্তরের মানুষ আরও উজ্জীবিতভাবে বিজয় দিবস উদযাপন করবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন আলী আব্বাস, নুরুল আনোয়ার চৌধুরী, জামাল হোসেন, রেজাউল করিম নেচার, সাইফুদ্দীন সালাম মিঠু, বদরুল খায়ের চৌধুরী, এস এম মামুন মিয়া, কামরুল ইসলাম হোসাইনী, নাজমুল মোস্তফা আমিন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মাস্টার মোহাম্মদ লোকমান, মাস্টার মোহাম্মদ রফিক, সাজ্জাদুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির, আমিনুল ইসলাম, মোজাম্মেল হক বেলাল, জসিম উদ্দিন, সালাউদ্দিন চৌধুরী সোহেল, ফৌজুল কবির ফজলু, ইখতিয়ার হোসেন ইফতু, খন্দকার হেলাল উদ্দিন, মেহেদী হাসান সুজন, দিল মোহাম্মদ মনজু, এম মনছুর উদ্দিন, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, শাহাদাত হোসেন সুমন, দেলোয়ার হোসেন।

যে কারণে চট্টগ্রাম থেকে কর্মসূচি শুরু : চট্টগ্রাম থেকে কর্মসূচির সূচনা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। সুতরাং কালুরঘাট আমাদের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের অনিবার্য অংশ। এই ঐতিহাসিক কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকেই শুরু হবে এবারে বিএনপির বিজয় মাস উদযাপন কর্মসূচি।

রোড শো’তে যা যা থাকবে : বিএনপির ভেরিফইড ফেসবুক পেইজে জানানো হয়, বিশেষ রোড শো উদযাপনের সময় বিভিন্ন বিভাগের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন, জাতীয় সঙ্গীত, মুক্তিযুদ্ধের ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করা হবে। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, মাদার অফ ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যের নির্বাচিত অংশ প্রচার করা হবে। জাসাসের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হবে। এছাড়া জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি। এই পুরো আয়োজনে পরিবেশিত হবে বিএনপির থিম সং, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

পূর্ববর্তী নিবন্ধইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটের স্থান পরিদর্শন
পরবর্তী নিবন্ধভারতের অনুমতি মেলেনি, ভুটানের ট্রানশিপমেন্ট পণ্য বুড়িমারীতে আটকা