ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের তিনটি আসনের প্রার্থীদের গতকাল মনোনয়নপত্র বাছাইকালে মোট ১০ জন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে। এসময় এই তিন আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দলের মোট ১৪ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দিনভর যাচাইবাছাই শেষে এসব মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
চট্টগ্রাম–১ (মীরসরাই) আসনের তিনজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং অফিসার। অপরদিকে চট্টগ্রাম–২ (ফটিকছড়ি) আসনের চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে এবং চট্টগ্রাম–৩ (সন্দ্বীপ) আসনে তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম–১ মীরসরাই আসন : চট্টগ্রাম–১ মীরসরাই আসনের প্রার্থীদের গতকাল মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাইকালে ৭ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে এবং ৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ‘বিএনপির প্রার্থী হিসেবে’ চট্টগ্রাম–১ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী। তবে তার দলের মনোনয়ন না থাকায় গতকাল বাছাইকালে সেটি বাতিল হয়েছে। একই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন মোহাঃ এরশাদ উল্যা। কিন্তু মনোনয়নপত্রে তিনি নিজেই নিজের প্রস্তাবকারী হওয়ায় নির্বাচন বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এছাড়া একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন মোহাম্মদ আশরাফ ছিদ্দিকি। তার জমা দেওয়া ভোটারের স্বাক্ষরের তালিকা যাচাই করে সত্যতা মেলেনি।
যাচাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আশরাফ ছিদ্দিকির মনোনয়নপত্রে দাখিল করা প্রয়োজনীয় ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের তালিকায় একজন মৃত ব্যক্তির নাম ও স্বাক্ষর পাওয়া যায়। বিষয়টি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়ার পর নির্বাচন বিধি অনুযায়ী তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।
যাচাইবাছাই শেষে চট্টগ্রাম–১ আসনে বৈধ প্রার্থী আছেন সাতজন। তারা হলেন– বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নুরুল আমিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান, জাতীয় পার্টির সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (বিএমএল) শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) এ কে এম আবু ইউছুপ, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের রেজাউল করিম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী।
চট্টগ্রাম–২ ফটিকছড়ি আসন: চট্টগ্রাম–২ (ফটিকছড়ি) আসনে গতকাল মনোনয়নপত্র বাছাইকালে চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বাছাইকালে এ আসনে বৈধ হয়েছে ৫ প্রার্থীর মনোনয়ন। মনোনয়নপত্র বাছাইকালে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিন্নাত আক্তার ও আহমদ কবির, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এইচ এম আশরাফ বিন ইয়াকুব এবং গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জিন্নাত আক্তারের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা ১ শতাংশ ভোটারের তালিকা থেকে দৈবচয়নের মাধ্যমে ১০ জনকে যাচাই করা হয়। যাচাইকৃতদের মধ্যে আটজনই স্বাক্ষরের বিষয়টি অস্বীকার করেন। এ কারণে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী আহমদ কবিরের ক্ষেত্রে নির্বাচন বিধিমালার ১২ (ক–১) ধারা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর না থাকায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এইচ এম আশরাফ বিন ইয়াকুব নির্বাচনী ব্যয় ফরম, দলীয় মনোনয়নপত্র ও হলফনামা দাখিল না করায় তার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়।
আরেক প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসানের মনোনয়নপত্রে সমর্থনকারীর স্বাক্ষর না থাকায় সেটি বাতিল করা হয়। স্বাক্ষর দাখিলের জন্য তাকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হলেও তিনি সমর্থনকারীকে আনতে পারেননি। এই কারণে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
ফটিকছড়ি আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন–বিএনপির সরোয়ার আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ নুরুল আমিন, জনতার দলের মোহাম্মদ গোলাম নওশের আলী, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ এবং সুপ্রিম পার্টির অপর প্রার্থী মো. ওসমান আলী।
চট্টগ্রাম–৩ সন্দ্বীপ আসন: চট্টগ্রাম–৩ (সন্দ্বীপ) আসনে তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এখন এই আসনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে রয়েছে বিএনপি–জামায়াতের দুই প্রার্থী। তারা হলেন– বিএনপির প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ আলা উদ্দীন।
সন্দ্বীপ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ আমজাদ হোসেনের দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তার মনোনয়ন পত্র বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এছাড়া ঋণখেলাপি ও এক শতাংশ ভোটারের তথ্যে সত্যতা না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোয়াহেদুল মাওলার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। অপরদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এম এ ছালামের দলের মনোনয়ন ‘সঠিক নয়’ বলে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন বাতিল করেন।












