বিএনপি সরকার গঠন করলে জাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করবে

সম্পাদকদের সঙ্গে তারেক রহমানের শুভেচ্ছা বিনিময় ৫ আগস্টের আগের পরিস্থিতিতে ফিরতে চাই না মতপার্থক্য থাকবে, সেটা যেন মতবিভেদ পর্যায়ে না যায়

| রবিবার , ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ at ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ

বিএনপি সরকার গঠন করলে জাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন দলটির নতুন চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আমাদের সমস্যা ছিল, আমাদের সমস্যা আছে; অবশ্যই আমরা ৫ আগস্টের আগে ফিরে যেতে চাই না। আমি আমার অবস্থান থেকে যদি চিন্তা করি, আমার এক পাশে ১৯৮১ সালের একটি জানাজা; একইসাথে আমার এক পাশে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের একটি জানাজা; আর আমার আরেক পাশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের একটি ঘটনা। কাজেই আমার মনে হয়, এটি আমার একার জন্য নয়, যারা আমার দলের নেতাকর্মী, সদস্য এবং সামগ্রিকভাবে পুরা দেশের মানুষের সামনে এই দুটি উদাহরণ বোধ হয় সবচাইতে ভালো উদাহরণ যে, আসলে ৫ আগস্টের আগে ফিরে যাওয়ার কোনোই কারণ নেই আমাদের। খবর বিডিনিউজের।

গতকাল শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, হিংসাপ্রতিশোধপ্রতিহিংসা একটি মানুষ, একটি দল বা যেভাবে আমরা বিবেচনা করিতার পরিণতি কী হতে পারে আমরা দেখেছি ৫ আগস্ট। এবং আমি সেজন্যই সকলকে অনুরোধ করব দলমত নির্বিশেষে আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে; কিন্তু আমরা যদি চেষ্টা করি, তাহলে সে মতপার্থক্যটাকে মতপার্থক্যের মধ্যে রেখে আলোচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান হয়তো বের করে আনতে সক্ষম হব। কিন্তু কোনোভাবেই সেটি যাতে মতবিভেদের পর্যায়ে চলে না যায়। মতবিভেদ হলে, বিভেদ হলে, জাতিকে বিভক্ত করে ফেললে কী হতে পারে আমরা দেখেছি। আজকে সেজন্যই অনেকের মুখে অনেক হতাশার কথা আমরা শুনি; কিন্তু তারপরও আশার কথা হচ্ছে যে, তাদের কাছে ভবিষ্যতের চিন্তাও আছে, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা আছে।

যুক্তরাজ্যে দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ২৫ ডিসেম্বর সপরিবারে দেশে ফেরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরপর ৩০ ডিসেম্বর তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মারা যান। এর ১০ দিনের মাথায় শুক্রবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তাকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। এর পরদিন প্রথম কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন তিনি।

তিনি বলেন, আমার দেশে ফিরে আসার পরে যে কয়বার আমার বাইরে যাওয়ার একটু বেশি সুযোগ হয়েছে, আমি সাভারে গিয়েছিলাম, আরও কয়েকটি জায়গায় গিয়েছিলাম। আমার কাছে মনে হয়েছে নতুন প্রজন্ম একটি গাইডেন্স চাইছে, নতুন প্রজন্ম একটি আশা দেখতে চাইছে। শুধু নতুন প্রজন্ম নয়, আমার কাছে মনে হয়েছে প্রত্যেকটি প্রজন্মই কিছু একটি গাইডেন্স চাইছে। আমরা যারা রাজনীতি করি, আমাদের কাছে হয়তো অনেক প্রত্যাশা। সকল প্রত্যাশা হয়তোবা পূরণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা রাজনীতিবিদরা যদি ১৯৭১ সাল, ১৯৯০ সাল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টএই সবগুলোকে আমাদের সামনে রেখে যদি দেশের স্বাধীনতা, দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করি, তাহলে নিশ্চয়ই আমার কাছে মনে হয় একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা জাতিকে একটি সঠিক ডাইরেকশনে নিয়ে যেতে সক্ষম হব।

দেশে দেড় কোটির মতন কৃষক আছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, এত বিশাল সংখ্যক মানুষ, যারা ২০ কোটি মানুষের খাওয়াপরার ব্যবস্থা করছে; খাওয়ার, অন্নের সংস্থান করছে, সেই এত বড় সমাজটাকে কীভাবে সাপোর্ট দেওয়া যায়। তাদের হয়তো সেভাবে বলার সুযোগ নেই এখানে। আপনারা সংবাদপত্রের যারা কর্মী আছেন, আপনারা আপনাদের কিছু সমস্যার কথা বলেছেন। আপনাদের সমস্যাটা আমাদের জন্য শুনতে, জানতে সহজ হয়। বিকজ আমাদের জন্য একটা ভেন্যু আছে, যেখানে আমরা আলাপ করতে পারি। কিন্তু ওই কৃষকগুলো, যাদের কোনো ভেন্যু নেই, যারা এ রকম একটা প্রোগ্রাম অর্গানাইজ করতে পারছে না, তারা কীভাবে বলবে কথাগুলো? কাজেই তাদের কথা তো আমাদের জানতে হবে।

দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর অবদানের কথা তুলে ধরে তার বড় ছেলে তারেক বলেন, মরুহুমা বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার ব্যাপারটা নিশ্চিত করেছিলেন। আগামী নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। এই নারীরাই শিক্ষিত হয়েছে, এদেরকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা। একটু আগে আমি যে ফ্যামিলি কার্ডটি বলেছিলাম, সেটির লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হচ্ছে, এই নারী সমাজকে গড়ে তোলা। আমাদের হিসাব মতে বাংলাদেশে ৪ কোটি ফ্যামিলি আছে। আমরা যদি পরিবার হিসেবে ভাগ করি, এভারেজে একটি পরিবারে ৫ জন করে সদস্য ধরা হয়েছে।

কৃষকদের সহায়তার জন্য কৃষি কার্ড চালুর ভাবনা রয়েছে জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, একটি বড় সমস্যা হচ্ছে হেলথ ইস্যু। বাংলাদেশে ২০ কোটি মানুষ। আমরা স্লোগান দিয়ে হয়তো বলতে পারি যে, সকলের জন্য স্বাস্থ্যের ব্যবস্থা করব, আমরা সকলকে স্বাস্থ্য সুবিধা দেব। যেকোনো ধরনের, সেটি বাইপাস হোক, কার্ডিয়াক হোক, ক্যানসার হোকসবরকম চিকিৎসা ইউকে দেয়। এখন কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে যে, এই কাজটা করতে গিয়ে ইউকের মতন দেশগুলো, ইউরোপের যে ডেভেলপ দেশগুলো আছে, তারা হিমশিম খাচ্ছে। তারা এখন যেটা চাচ্ছে সেটা হচ্ছে প্রিভেনশন। মানুষকে যদি সচেতন করা যায়; তাহলে দেখা গেছে, তাতে রাষ্ট্রের খরচ অনেক কমে আসে, মানুষও সুস্থ থাকে। এটার ওপর বেস করে আমরা হেলথ কেয়ারার অ্যাপয়েন্ট করতে চাই।

অনুষ্ঠানে সম্পাদকদের মধ্যে ছিলেন দৈনিক যায়যায়দিনের শফিক রেহমান, ডেইলি স্টারের মাহফুজ আনাম, মানব জমিনের মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউএজের নুরুল কবির, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী, দৈনিক ইনকিলাবের এএমএম বাহাউদ্দিন, আমার দেশের মাহমুদুর রহমান, যুগান্তরের আবদুল হাই শিকদার, সংবাদের আলতামাশ কবির, কালের কণ্ঠের হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের আবু তাহের, বণিক বার্তার হানিফ মাহমুদ, দৈনিক সমকালের শাহেদ মোহাম্মদ আলী, প্রতিদিনের বাংলাদেশএর মারুফ কামাল খান সোহেল, দেশ রূপান্তরের কামাল উদ্দিন সবুজ, নয়া দিগন্তের সালাহ উদ্দিন বাবর, ডেইলি সানের মো. রেজাউল করিম, খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, কালবেলার সন্তোষ শর্মা, আজকের পত্রিকার কামরুল হাসান প্রমুখ। ছিলেন বাসসের চেয়ারম্যান আনোয়ার আল দীন, প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মাহবুব আলম প্রমুখ। এছাড়া বেসরকারি টেলিভিশনের শীর্ষ প্রধানরা, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল ও চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকাপ্তাই লেকে পানির স্তর দ্রুত হ্রাস, ব্যাহত বিদ্যুৎ উৎপাদন
পরবর্তী নিবন্ধনির্বাচনের আগে চট্টগ্রামে বিদ্যুতের সব সাবস্টেশন সংস্কার