বায়েজিদ-হাটহাজারী থেকে তিন অস্ত্র ব্যবসায়ীসহ গ্রেপ্তার ৪

বিপুল অস্ত্র-গুলি ও সরঞ্জাম উদ্ধার

আজাদী প্রতিবেদন | শুক্রবার , ১ মে, ২০২৬ at ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ

নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী ও হাটহাজারী এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তিনজন অস্ত্র ব্যবসায়ীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দেশীয় তৈরি দুটি শটগান, একটি একনলা বন্দুক, ম্যাগাজিন ও শটগানের ২০ রাউন্ড গুলি, একটি ব্যারেল, তিনটি রিকয়েলিং স্প্রিং এবং তিনটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়। গত বুধবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সাতকানিয়া উপজেলার দক্ষিণ কাঞ্চনা বকশির খীল মোজাফফর সওদাগরের বাড়ির নুরুল হোসেনের ছেলে নুর উদ্দীন সোহেল (৩০), পটিয়া থানার ধলঘাট ইউনিয়নের ধলঘাট গ্রামের পালিত বাড়ির মৃত সন্তোষ পালিতের ছেলে তাপস পালিত প্রকাশ শিমুল (৫১), ভূজপুর থানার হারুয়ালছড়ি উত্তরপাড়া ননী বাবুর বাড়ির মৃত ননী গোপাল দে এর ছেলে দীপক কান্তি দে (৫৮) এবং অপর অভিযানে মো. হাসান (২৮) নামে আর একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উত্তর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম জানান, বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন লিংক রোডস্থ ১ নম্বর ছিন্নমূল হারুনের সিএনজি অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে এক ব্যক্তি অবৈধ অস্ত্র ক্রয়বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করার সময় নুর উদ্দীন সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি খালি ম্যাগাজিন, দুটি চায়না রাইফেলের গুলি এবং ১৮টি পিস্তলের গুলি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নূর উদ্দিন সোহেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নগরের কোতোয়ালী থানার চেরাগী পাহাড় এলাকা থেকে তাপস পালিতকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকেও একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি খালি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাপসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নগরের বায়েজিদ ওয়াজেদিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দীপক কান্তি দে’কে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ১০টি পিস্তলের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে নুর উদ্দীন সোহেল, তাপস পালিত প্রকাশ শিমুল ও দীপক কান্তি দে দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। তারা নগরীসহ আশপাশের জেলাগুলোতে অস্ত্র সরবরাহ করে আসছিল।

এদিকে পৃথক অভিযান চালিয়ে দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ মো. হাসান নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার রাতে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন ড্রিমল্যান্ড আবাসিক এলাকার ১নং গলির মুখ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মো. হাসান হাটহাজারী থানার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের সৈয়দপাড়া আব্দুল হাশেমের বাড়ির মো. জাফর আহমেদের ছেলে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি উত্তর বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান জানান, বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন ড্রিমল্যান্ড আবাসিক এলাকায় একটি চক্র অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয়বিক্রয়ের জন্য অবস্থান করছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে মো. হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে হাসানের তথ্যের ভিত্তিতে দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে হাটহাজারী থানাধীন খন্দকিয়া রাজখান পাড়ার একটি বাসায় অভিযানে দেশীয় তৈরি দুটি শটগান, একটি একনলা বন্দুক, শটগানের ২০ রাউন্ড গুলি, একটি ব্যারেল, তিনটি রিকয়েলিং স্প্রিং এবং তিনটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার মো. হাসান স্বীকার করেছে, তিনি এসব অস্ত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় বায়েজিদ বোস্তামী থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হাসানের বিরুদ্ধে চুরি, মারামারি ও হত্যাচেষ্টাসহ মোট চারটি মামলা রয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধক্ষতি পুষিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় প্রবর্তক-মেডিকেল এলাকার ব্যবসায়ীরা
পরবর্তী নিবন্ধমুসলমানদের অস্তিত্ব রক্ষায়ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই