নগরীর বাকলিয়া থানাধীন কল্পলোক আবাসিক এলাকার পান–সিগারেটের দোকানে চুরির চেষ্টার অভিযোগে ইমন (২১) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহত ইমনের ফুফুর দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে বাকলিয়া থানা–পুলিশ।
গত মঙ্গলবার রাতে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডের প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গত বুধবার আড়াইটার দিকে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামির মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলো, আব্দুর রহমান জিসান (২১), ইয়াছিন আরাফাত (২৩), মো. হাসান (৩৩) ও মো. মিজানুর রহমান (২৭)। এজাহারে আলমগীর (৫০) নামে আরও একজনের নাম রয়েছে। নিহত ইমন চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় তাঁর ফুফু রেহানা বেগম বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার–পাঁচজনকে আসামি করে বাকলিয়া থানায় মামলা করেছেন।
জানা গেছে, আসামিরা বিভিন্ন সময়ে নগরের বাকলিয়ার কল্পলোক আবাসিক এলাকা ও আশপাশে বসবাস করতেন। তাদের মধ্যে জিসানের বাড়ি বাকলিয়ার বাস্তুহারা এলাকায়, ইয়াছিনের কক্সবাজারের চকরিয়ায়, হাসানের পটিয়ায় এবং মিজানুরের নোয়াখালীর সুবর্ণচরে।
পুলিশ জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত আড়াইটার দিকে কল্পলোক আবাসিক এলাকার একটি দোকানে চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেন ইমন। এ সময় দোকানের ভেতরে তাকে ধরে ফেলেন মিজানুর রহমান। পরে তাকে কল্পলোক আবাসিক এলাকার রাতের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কয়েকজনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর লাঠিসোঁটা দিয়ে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে কল্পলোক মডেল মসজিদের দক্ষিণে সাজেদা ফাউন্ডেশনের পাশের একটি খালি মাঠে নিয়ে তাকে আবারও মারধর করা হলে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের দাবি, হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে আসামিরা বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ৬টা ২০ মিনিটে বাকলিয়া থানাধীন কল্পলোক আবাসিকের ২নং রোডের মুখে ৫নং ব্রিজের নিচে বেইজের ওপর ভিকটিম ইমনের লাশ ফেলে রেখে চলে যায়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাদী রেহানা বেগম ও তাঁর ছেলে মো. সবুজ ঘটনাস্থলে গিয়ে ইমনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে বাকলিয়া থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। এ ঘটনায় ইমনের ফুফুর অভিযোগের ভিত্তিতে বাকলিয়া থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে।
এই ব্যাপারে বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে কল্পলোক আবাসিক এলাকার একটি দোকানে চুরির উদ্দেশ্যে ইমন প্রবেশ করলে তাকে দোকানের ভেতরে মিজানুর রহমান ধরে ফেলেন। পরে অন্যান্য আসামিরাসহ মিলে তাকে লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। তারা লাশটি কল্পলোক আবাসিকের ২নং রোডের মুখে ৫নং ব্রিজের নিচে বেইজের ওপর ফেলে রেখে চলে যায়। খবর পেয়ে আমরা লাশটি উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এই ঘটনায় মামলা হয়েছে। ঘটনার পর আমরা অভিযান চালিয়ে ৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার মো. হাবিবুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীনুর আলম। ওসি শাহীনুর আলমের অভিযানে ছিলেন এসআই নুরুল ইসলাম, এএসআই জমির উদ্দিন, এএসআই মোশারফ হোসেন প্রমুখ। তারা রাত আড়াইটায় গোপন খবরের ভিত্তিতে বাকলিয়া থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ঘটনায় জড়িত ৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।










