চট্টগ্রাম ও চিটাগাং দুটোই ঐতিহাসিক শব্দ। এ দুটো শব্দ কখনো সাংঘর্ষিক ছিল না। বরং কোন জনমত না নিয়ে ও কোন ফোরাম আলোচনা না করে হঠাৎ চিটাগাং শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া চিটাগাং শব্দটি বাদ দিতে কারো কোন দাবিও ছিল না। এটা নিয়ে কারো সমস্যা ও প্রশাসনিক জটিলতাও ছিল না। বরং গত পতিত সরকার কর্তৃক চিটাগাং শব্দটি বাদ দিয়ে নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি করা হয়েছে। চিটাগাং এর যে আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও কানেক্টিভিটি রয়েছে তাকেও খাটো করা হয়েছে। তাই আমরা আগের মত ‘চট্টগ্রাম ও চিটাগাং’ দুটোই চাই।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম ঐতিহ্য রক্ষা পরিষদ আয়োজিত চট্টগ্রাম ও চিটাগাং বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় সংগঠনের সভাপতি ও প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি আরও বলেন, চিটাগাং বন্দরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব রয়েছে। তাই বন্দরসহ অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনার নামের আগে যে চিটাগাং ছিল তা পুনরায় বহাল হউক। আমরা চট্টগ্রাম শব্দটির বিরুদ্ধে নই। তবে চাই আগের মত বাংলায় চট্টগ্রাম ও ইংরেজিতে চিটাগাং দুটোই থাকুক।
সাজ্জাদ উদ্দিনের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিশেষ অতিথি সারোয়ার আমিন বাবু, ফরিদা করিম, এএফএম বোরহান, ইউসুফ বাঁহার চৌধুরী, মোহাম্মদ মারুফ, এসএম শফি, রবিউল ইসলাম, মিজানুর রহমান প্রমুখ। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নথিপত্রের পাতায় পাতায় চট্টগ্রাম ও চিটাগাং এর জয়গান। চিটাগাং একটি আন্তর্জাতিক কানেক্টিভিটি শব্দ। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট, শিপিং, আমদানি–রফতানি, ব্যাংকিং, সফটওয়ার, গুগল, ইয়াহু, ফেইসবুক, টুইটার, সব অনলাইন সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত জনপ্রিয় চিটাগাং। এমনকি চিটাগাং যে দ্রতগতিতে এগোচ্ছে তাকে দমিয়ে রাখার জন্য এই চট্টগ্রাম ও চিটাগাং দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা। এটা সফল হবে না। প্রধান উপদেষ্টার কাছে আকুল আবেদন আমরা চট্টগ্রাম ও চিটাগাং দুটোই চাই। ঐতিহাসিক বিবর্তনে চট্টগ্রাম ও চিটাগাং দুটোই স্বমহিমায় বিকশিত হয়েছে। চট্টগ্রামে কৃতি সন্তান ড. ইউনূস বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পুনর্বিবেচনা করবেন আশা করি। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।