জয়ের স্বপ্ন নিয়েই শেষ দিনের খেলা শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে চতুর্থ দিনের শেষ ভাগে প্রতিরোধ গড়ে তুলে লড়াইয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে আফগানিস্তানও। ৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে তাদের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৩২ রান। জিততে হলে শেষ দিনে আরও ৩৪৭ রান করতে হবে আফগানদের। অন্যদিকে, বাংলাদেশের চাই ৭ উইকেট।
বাংলাদেশের লিড হৃষ্টপুষ্ট হয়েছে লিটন কুমার দাসের দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে। আগ্রাসী ব্যাট চালিয়ে ১১৭ বলে ১০২ রান করেন তিনি। অবশ্য তিন দফায় জীবন পেয়েছেন। তাতে কিন্তু তার নান্দনিক ইনিংসের মহিমা খুব একটা কমেনি। সবশেষ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ইনিংসেই শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন তিনি। এবার এক টেস্টেই করলেন ফিফটি ও সেঞ্চুরি। তার সঙ্গে ১৪৯ রানের জুটিতে ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন মেহেদী হাসান মিরাজ। লিটনের জন্য দিনটি পরে আরও স্মরণীয় হয়ে থাকে উইকেটের পেছনে কীর্তিতেও। বাংলাদেশের হয়ে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ আট ডিসমিসালের রেকর্ড গড়েন তিনি।
বাংলাদেশ ইনিংস ঘোষণার পর শেষ ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে আফগানদের দ্রুত দুটি উইকেট পড়লেও পরে দারুণ প্রতিরোধ গড়েন আটাল ও রহমত। ২১৪ বলে ৮২ রানের বন্ধন গড়েন দুজন। এই জুটির সৌজন্যেই কিছুটা জিইয়ে আছে আফগানদের সম্ভাবনা। আফগানদের বিশাল লক্ষ্য দেওয়ার পর বাংলাদেশের শুরুটা ছিল প্রত্যাশিতই। ইবাদত হোসেনের দুর্দান্ত এক ডেলিভারি দলকে উইকেট এনে দেয় ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই। ব্যাটসম্যান আব্দুল মালিকের তেমন কিছুই করার ছিল না। তিনে নামা শাহিদউল্লাহর শুরুটা ছিল ইতিবাচক। কিন্তু তাকে ১৯ রানে থামায় হাসান মাহমুদের শর্ট বল। সেখান থেকে আটাল ও রহমত জুটির প্রতিরোধ। ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের বোলারদের হতাশ করে এগোতে থাকেন দুজন। ভালোভাবে জমে ওঠার আগেই অবশ্য জুটি ভাঙার সুযোগ এসেছিল। কিন্তু হাসানের বলে স্লিপে সহজ সুযোগটি হাতছাড়া করেন তানজিদ হাসান। ১৬ রানে সেই ভুল করার পর ফিফটি পর্যন্ত কোনো সুযোগই দেননি রহমত।
আরেক প্রান্তে আটাল ছিলেন ধৈর্যের প্রতিমূর্তি। আগের ইনিংসে সেঞ্চুরি করা রহমত এবার ফিফটি করেন ১২১ বলে। এর পরপরই তার প্রতিরোধের দেয়ালে ফাটল ধরান ইবাদত। অফ স্টাম্প ঘেঁষা ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন আফগান অধিনায়ক। তবে আটালের মনোসংযোগে সামান্যতম চিড় ধরেনি। দিন শেষ করেন তিনি ১২৬ বলে ৩৫ রান। তার সঙ্গে জুটিতে দিন শেষ করেন হাশমতউল্লাহ শাহিদি।
সকালে বাংলাদেশ দিন শুরু করে ৬ উইকেটে ২২৩ রান নিয়ে। দিনের তৃতীয় ওভারেই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে রক্ষা পান লিটন। ১২ রানে বেঁচে যাওয়া লিটন আরেকটু পর জীবন পান ২৬ রানে। দফায় দফায় জীবন পেলেও লিটনের ব্যাটিংয়ে অস্বস্তি খুব একটা ছিল না। রান উঠতে থাকে বেশ দ্রুততায়। দ্বিতীয় নতুন বল নিয়েও রানের গতি আটকানো বা উইকেটের দেখা, কোনোটিই পায়নি আফগানরা।
লিটনের ফিফটি আসে ৬১ বলে। আরেক দফায় ভাগ্যকে পাশে পান তিনি ৬৭ রানে। এবার তার ব্যাটে আলতো ছুঁয়ে বল কিপারের গ্লাভসে গেলেও আম্পায়ার আউট দেননি। আফগানিস্তানের ছিল না কোনো রিভিউ। এর মধ্যে ১৯ রানে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে পার পেয়ে যান মিরাজও। আরেকবার তিনি টিকে যান রান আউট হতে হতেও।
এত সুযোগ হারিয়ে ক্রমে ধার হারায় আফগানদের আক্রমণ। ধ্রুপদি সব ক্রিকেট শট খেলে ১১৫ বলে সেঞ্চুরিতে পৌঁছে যান লিটন। তার সপ্তম টেস্ট শতরান এটি। শতরানের পরপরই বিদায় নেন লিটন। তখনই ইনিংস ঘোষণা করে দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ৫২ রানে অপরাজিত রয়ে যান মিরাজ।












