বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সমপ্রসারণের আহ্বান

ইন্দোনেশিয়ায় ট্রেড এক্সপোতে মেজর এমদাদ

| শনিবার , ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ at ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ

ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়া–বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (আইবিসিসিআই)-এর সহ–সভাপতি মেজর মো. এমদাদুল ইসলাম। গতকাল শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার তানগেরাংয়ে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়া কনভেনশন এঙিবিশনের হল নুসানতারা আইএ–তে আয়োজিত ইন্দোনেশিয়া–বাংলাদেশ গ্যাদারিং অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং সেশনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়া দূতাবাসের উদ্যোগে ৪১তম ট্রেড এঙপো ইন্দোনেশিয়া উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ১৪–১৮ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পাঁচ দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য প্রদর্শনী, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও বিনিয়োগকারীরা অংশগ্রহণ করছেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে মেজর এমদাদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া দুটি বৃহৎ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। উভয় দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের মিল এবং পারস্পরিক আস্থা রয়েছে। এসব সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বহুগুণ বৃদ্ধি করার সুযোগ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইন্দোনেশিয়া দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি এবং দেশটির জ্বালানি, শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতি, কৃষিপণ্য, অটোমোবাইল, অবকাঠামো উন্নয়ন ও উৎপাদন প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক সক্ষমতা রয়েছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান শিল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইন্দোনেশিয়া গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে।

অন্যদিকে বাংলাদেশও তৈরি পোশাক, বস্ত্র, ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, সিরামিকসহ বিভিন্ন শিল্পপণ্য ইন্দোনেশিয়ায় রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশটির বাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারে। মেজর এমদাদুল ইসলাম বলেন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য শুধু একমুখী হওয়া উচিত নয়। ইন্দোনেশিয়ার পণ্য যেমন বাংলাদেশে বাজার সমপ্রসারণের সুযোগ পাবে, তেমনি বাংলাদেশের উৎপাদিত পণ্যও ইন্দোনেশিয়ার বিশাল বাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তিনি দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধি, যৌথ বিনিয়োগ, শিল্পকারখানা স্থাপন, প্রযুক্তি বিনিময় এবং ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আইবিসিসিআই–এর ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়ার উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারকদের সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানিকারক, পরিবেশক ও সম্ভাব্য ক্রেতাদের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে চেম্বার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। একইভাবে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের ইন্দোনেশিয়ার বাজারে প্রবেশ এবং নতুন ব্যবসায়িক অংশীদার খুঁজে পেতেও আইবিসিসিআই সহযোগিতা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি ইন্দোনেশিয়ার ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ এবং ব্যবসা সমপ্রসারণের আহ্বান জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধতৃতীয় সন্তানের মা হলেই মাতৃত্বকালীন সুবিধা কেন কমবে?
পরবর্তী নিবন্ধআনোয়ারায় কৈনপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন