চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কৃষি জমির টপ সয়েল কাটার কাজে সহায়তা করায় মোঃ রিদুয়ান (২৯), নুরুল আলম (৪৫) ও মোঃ ইব্রাহিম (৪৫) নামের তিনজনকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) রাত ১২টা থেকে সাড়ে ৩ টা পযন্ত উপজেলার সরল ইউনিয়নের জালিয়াঘাটা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বাঁশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আকন দৈনিক আজাদীকে বলেন,দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনার সময় উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে মাটি কাটার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে আসছিল।
ফলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোবাইল কোর্ট টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও একাধিকবার অভিযান ব্যর্থ হয়। অভিযানের তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত এক্সক্যাভেটর ও মিনি ড্যাম্পার ট্রাক নিয়ে পালিয়ে যায় সংশ্লিষ্টরা।
সর্বশেষ উপজেলার দুইটি স্থানে মাটি কাটার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ১২ টা থেকে ৩.৩০ টা পর্যন্ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করা যায়।অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করলেও পরবর্তীতে পুরো এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে একাধিক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এ সময় মো. রিদুয়ান (২৯), নুরুল আলম (৪৫) ও মো. ইব্রাহিম (৪৫)-এর ফোনকল রেকর্ডে অভিযানের তথ্য সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।
পরে তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা অপরাধের বিষয়ে স্বীকারোক্তি প্রদান করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল কোর্ট অভিযানের খবর পেয়ে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের ফোনে সতর্ক করে পালিয়ে যেতে সহায়তা করতেন তারা।বিনিময়ে এ চক্রটি মাটি কাটার লভ্যাংশ ভোগ করত।
কৃষি জমির টপ সয়েল কর্তনে সহায়তা করায় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) আইন, ২০১০ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মোঃ রিদুয়ানকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং নুরুল আলম ও মোঃ ইব্রাহিমকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।












