বাঁশখালী পৌরসভায় চতুর্থবারের মতো অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী অ্যাডভোকেট এসএম তোফায়েল বিন হোছাইন। তিনি ১৪ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনে কারচুপির লিখিত অভিযোগ এনে স্বতন্ত্র প্রার্থী, সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা কামরুল ইসলাম হোছাইনী (মোবাইল) গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। তিনি পেয়েছেন ১৩৬৫ ভোট। এদিকে বিজয়ী এসএম তোফায়েল বিন হোছাইন সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
নির্বাচনে ১১টি কেন্দ্রে ভোটার ২৬ হাজার ৯৮০ জন। মেয়র পদে ২ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১০ জন আর সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ভোটে প্রতিটি কেন্দ্রে ১জন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ বিপুল পরিমাণ পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।

১১টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে বেশ কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, কোথাও কোনো ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। প্রতিটি কেন্দ্রে পুরুষ ভোটারের চেয়ে মহিলা ভোটারের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল ১০টায় ৬ নং ওয়ার্ডের উত্তর জলদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে কথা হয় ভোটার রাজন দাশের সঙ্গে। তিনি বলেন, জীবনে এত নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারিনি।
৫ নং ওয়ার্ডের রুহুল্লা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কঠোর নজরদারি।
তবে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ৪ নং ওয়ার্ডে পূর্ব জলদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকরা পটকা ফাটালে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হকসহ পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির বিশেষ দল। তারা বলেন, এ ধরনের আর কোনো ঘটনা ঘটলে সকল প্রার্থীকে আইনের আওতায় আনা হবে। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়। আর কোনো কেন্দ্রে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট শেষে সন্ধ্যায় ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের হল রুমে সকল কেন্দ্রের ফলাফল আসার পর তা ঘোষণা করেন জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ও বাঁশখালী পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান চৌধুরী, বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কামাল উদ্দিন, উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও পৌরসভা নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার মুহাম্মদ ফয়সাল আলম বক্তব্য দেন।
বাঁশখালী থানার (ওসি) মো. কামাল উদ্দিন বলেন, শতভাগ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে।
কারচুপির অভিযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট বর্জন : স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা কামরুল ইসলাম হোছাইনী বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদে এসে দায়িত্বরত নির্বাচন কর্মকর্তাকে লিখিত অভিযোগ করে ভোট বর্জন করেন। লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, আমি বেশ কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শন করে দেখেছি, ইভিএমে নৌকার ভোট নিয়ে আমার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে বাইরের লোকজন জড়ো করেছে। আমার ভোটারদের ভোটদানে বাধা প্রদান করছে।
তবে এ অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ মিলেনি বলে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান নির্বাচনের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। তারা বলেন, কোথায় কোন কেন্দ্রে কাকে বের করা হচ্ছে তার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকলে কীভাবে চিহ্নিত করব?












