চট্টগ্রাম বন্দরে ঢাকা আইসিডিমুখী কন্টেনারের সংখ্যা ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ হয়েছে। রমজানকে সামনে রেখে বাড়তি আমদানি, বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে এনসিটি ইস্যু নিয়ে কয়েকদিনের কর্মবিরতি এবং রেলওয়ে কন্টেনার পরিবহনের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। গত কয়েকদিন বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ঢাকা আইসিডিতে একটি কন্টেনারও পাঠানো সম্ভব হয়নি। এতে করে বন্দরের অভ্যন্তরে আইসিডিমুখী কন্টেনারের সংখ্যা প্রতিদিন বেড়েছে।
অপরদিকে জাহাজ থেকে ঢাকা আইসিডিমুখী কন্টেনার নেমেছে। বন্দরের জেটিতে এবং বহির্নোঙরে অবস্থানকারী জাহাজগুলোতেও প্রচুর কন্টেনার নামার অপেক্ষায় রয়েছে। সবগুলো কন্টেনার নামলে পরিস্থিতি আরো নাজুক হবে মন্তব্য করে সূত্র বলেছে, রমজানের আগে ঢাকার আমদানিকারকদের কন্টেনারগুলো ঠিকভাবে পৌঁছানো নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, ঢাকার আমদানিকারকদের স্বাভাবিক আমদানির পাশাপাশি রমজানকে সামনে রেখে মৌসুমী আমদানিকারকেরাও প্রচুর পণ্য আমদানি করেছে। এতে করে চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরে ঢাকা আইসিডিগামী কন্টেনারের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। বন্দরের আইসিডিগামী কন্টেনারের ধারণক্ষমতা ৮৭৬ টিইইউএস। কিন্তু গতকাল ওই ইয়ার্ডে আইসিডিগামী কন্টেনার ছিল ১৬শ’ ৬০ টিইইউএস। সূত্র বলেছে, ঢাকা আইসিডিগামী কন্টেনারগুলো প্রেরণের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে রেলওয়ে। কিন্তু রেলওয়ের কন্টেনার পরিবহনের সক্ষমতা চাহিদা পূরণের তুলনায় অত্যন্ত কম। রেলওয়ে দিনে সর্বোচ্চ ২শ’ টিইইউএস কন্টেনার ঢাকায় নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়গুলোতে এর পরিমান অনেকটা কমে এসেছে। এর মধ্যে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে কয়েকদিন ধরে চলা আন্দোলন সংগ্রামে ঢাকামুখী কন্টেনার প্রেরণের সংখ্যা তলানীতে নেমে আসে।
ধারণক্ষমতার দ্বিগুন কন্টেনার নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায় দিশেহারা। এর মাঝে বন্দরের জেটিতে অবস্থানকারী এবং বহির্নোঙরে অপেক্ষমান জাহাজগুলোতে আরো অন্তত এক হাজার টিইইউএস আইসিডিগামী কন্টেনার রয়েছে। এসব কন্টেনার ঠিকঠাকভাবে সামাল দেয়া বন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠবে বলেও সূত্রগুলো মন্তব্য করেছে।
ঢাকা আইসিডিগামী কন্টেনারগুলো চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাসের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করে একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, পণ্য আমদানির সময় তা কোত্থেকে খালাস করা হবে তা উল্লেখ করতে হয়। ঢাকা অঞ্চলের আমদানিকারকেরা তাদের পণ্য আমদানির সময় ঢাকা আইসিডির নামোল্লেখ করে থাকেন। যা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জাহাজ থেকে নামানোর পর ঢাকা আইসিডিতে পাঠিয়ে দেয়। ওখান থেকে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক চালানটি খালাস করে। রমজানকে সামনে রেখে পণ্য আমদানি বেড়েছে। ঢাকা অঞ্চলের ব্যবসায়ী শিল্পপতিরাও প্রচুর পণ্য আমদানি করছে। যা আইসিডিতে প্রেরণ করা সম্ভব না হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের নির্ধারিত ইয়ার্ডে জড়ো হচ্ছে। এসব কন্টেনার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস করার সুযোগ না থাকায় ঢাকার আমদানিকারকেরা চরম বেকায়দায় পড়েছেন বলেও সূত্র মন্তব্য করেছে।
সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড যদি এসব কন্টেনার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস করে সড়কপথে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ আমদানিকারকদের প্রদান করে তাহলে বহু আমদানিকারকই উপকৃত হতেন। কিন্তু এজন্য বেশ কিছু প্রক্রিয়ার দরকার। যা সময়সাপেক্ষ। অপরদিকে রেলওয়ে যদি ওয়াগনের সংখ্যা বাড়িয়ে ঢাকামুখী কন্টেনার পরিবহন বাড়িয়ে দিতে পারতো তাহলেও রমজান উপলক্ষ্যে আমদানিকৃত পণ্যগুলো ঢাকায় পৌঁছাতো।
১৯৮৭ সালে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের পাশে বত্রিশ একর জায়গার উপর গড়ে তোলা ঢাকা আইসিডিতে কন্টেনার পরিবহন পুরোপুরি রেলওয়ের উপর নির্ভরশীল। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আইসিডিগামী কন্টেনারগুলো নিয়ে ঢাকা আইসিডিতে পৌঁছে দেয়। ওখান থেকে কাস্টমস প্রক্রিয়া শেষ করে চালান খালাস করা হয়। রেলওয়ে প্রতিদিন চারটি ট্রেনে গড়ে ২শ’ টিইইউএস–এর মতো কন্টেনার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকা আইসিডিতে নিয়ে যায়। কিন্তু গত বেশ কিছুদিন ধরে ইঞ্জিন সংকটের কারনে রেলওয়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আইসিডিতে কোনদিন দুইটি, কোনদিন তিনটি ট্রেন চলাচল করছে। এতে করে একদিকে কন্টেনারের সংখ্যা বাড়লেও বিপরীতে কন্টেনার পরিবহন কমে গেছে। কন্টেনার পরিবহন স্বাভাবিকভাবে না হওয়ায় বন্দরে প্রতিদিনই জটলা বাড়ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, বন্দরে আইসিডিমুখী কন্টেনারের সংখ্যা ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ হয়ে গেছে। একটি অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করে এসব কন্টেনার রমজানের আগে আমদানিকারকদের হাতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।












