চট্টগ্রাম বন্দর ও বাণিজ্যিক রাজধানী নিয়ে কথা বলেছেন জামায়াত ইসলামীর চট্টগ্রামের নেতারা। তারা বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে চট্টগ্রাম সত্যিকারের বাণিজ্যিক রাজধানী হবে এবং চট্টগ্রাম বন্দরে দুর্নীতি বন্ধ হবে।
গতকাল সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে চট্টগ্রাম বন্দর কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তারা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন নগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সাধারণ নির্বাচন নয়। যে ফ্যাসিবাদী সরকার আমাদের শোষণ করেছে, শত শত হত্যা করেছে, আয়নাঘরে নিয়ে নির্যাতন করেছে, লক্ষ লক্ষ মামলা দিয়েছে, এরপরও তাদের কাজ বন্ধ হয়নি। তারা মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, ভোট দিতে দেয়নি। এ জন্য এই ফ্যাসিবাদী সরকারকে হঁটানের জন্য ছাত্র–জনতা বুকের রক্ত দিয়েছে, ওই ফ্যাসিবাদী শক্তি বিদায় নিয়েছে।
তিনি বলেন, একটি সুন্দর বাংলাদেশ উপহার দেয়ার জন্য ১১ দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। যে যেখানকার ভোটার ১১ দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করার চেষ্টা করবো। ১১ দল থেকে যারা মনোনয়ন পেয়েছে তারা সবাই যোগ্য। অতীতে যারা ফ্যাসিজম চালু করেছে তাদের চির বিদায় দিতে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।
চট্টগ্রাম–১০ আসনের জামায়াতের প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালী তার বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন আশাবাদ ব্যক্ত করে তার কাছে দুটো দাবি উত্থাপন করেন। দাবি দুটো হচ্ছে– চট্টগ্রামকে সত্যিকার অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী করা এবং চট্টগ্রাম–ঢাকা মহাসড়ককে ১০ লাইনে উন্নীত করা।
চট্টগ্রাম–১১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শফিউল আলম বলেন, চট্টগ্রামবাসী বিশ্বাস করে কোনো দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করা সম্ভব নয়। ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর চট্টগ্রাম সত্যিকারের বাণিজ্যিক রাজধানী হবে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহছানুল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, লন্ডন থেকে এসে এক মুফতি বলেছেন, তিনি নাকি ১৬ বছর জামায়াত–এনসপি’কে দেখেননি। আরে লন্ডন থেকে কি দেখা যায়?
চট্টগ্রাম–৮ আসনের এনসিপি প্রার্থী জোবাইরুল হোসাইন আরিফ বলেন, একজন এসে বলছেন, আই হ্যাভ এ প্লান। ওনার প্ল্যানের ফলে শেরপুরে জামায়াতের নেতা খুন হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি এস. এম. লুৎফর রহমান বলেন, বন্দর নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। বন্দর নিয়ে দুর্নীতি বন্ধ করতে চাইলে এবং শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে দাড়িপাল্লায় ভোট দিতে হবে। চট্টগ্রামকে সত্যিকার অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী করতে চাইলে ডা. শফিকুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করতে হবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির সভাপতি মুহাম্মদ ইব্রাহীম হোসেন রনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কোনো আধিপাত্যবাদীর এজেন্টকে দেয় হবে না। জুলাই শহীদ ওমর বিন আফসারের মা রুবি আক্তার বলেন, আমি শহীদ উমরের আম্মু্। জুলাইকে ধারণ করতে হবে, জুলাইকে বিক্রি করা যাবে না। আমার সন্তানের রক্ত যেন বৃথা না যায়। শহীদ শান্তর বাবা জাকির হোসেন বলেন, আমার সন্তান যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রক্ত দিয়েছে তা একমাত্র ইসলামী ছাত্রশিবিরই পূরণ করতে পারবে।
নগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মুহাম্মাদ উল্লাহ, ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী’র যৌথ সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়াবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহাজাহান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাত উল্লাহ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের নায়েবে আমীর শায়খুল হাদীস মাওলানা আলী ওসমান, জাগপা সহ–সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহছানুল্লাহ ভূঁইয়া, শহীদ শান্তর বাবা জাকির হোসেন, শহীদ ওমর বিন আফসারের মা রুবি আক্তার, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ ইব্রাহীম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ, চট্টগ্রাম–১০ আসন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, চট্টগ্রাম–৯ আসন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডাঃ এ.কে.এম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম–১১ আসন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শফিউল আলম, চট্টগ্রাম–৮ আসন এনসিপি মনোনীত প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ, খাগড়াছড়ি আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী, চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি এস. এম. লুৎফর রহমান, খেলাফত মজলিশ চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি অধ্যাপক খুরশিদ আলম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মাওলানা এমদাদুল্লাহ সোহাইল, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি ছৈয়দ গিয়াস উদ্দিন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি আবু মোজাফ্ফর মোহাম্মদ আনাস, বাংলাদেশ নেজাম ইসলাম পাটির চট্টগ্রাম মহানগর আমির মাওলানা জিয়াউল হোসাইন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরীর সহ–সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মোতালেব, আমার বাংলাদেশ পাটি চট্টগ্রাম মহানগরী আহ্বায়ক এডভোকেট গোলাম ফারুক, বাংলাদেশ লেবার পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আলা উদ্দিন আলী, চাকসু ভিপি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির সভাপতি মুহাম্মদ ইব্রাহীম হোসেন রনি, ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরী দক্ষিণ সভাপতি মুহাম্মদ মাইমুনুল ইসলাম (মামুন)।












