ফেব্রুয়ারিতে ঐতিহাসিক ও গ্লানি মোচনের নির্বাচন : উপদেষ্টা ফাওজুল

মুসলিম হাই স্কুলে কৃতী ছাত্র সংবর্ধনা ও পুনর্মিলনী জীবনে অসম্ভব বলে কিছুই নেই : এম এ মালেক

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ at ৬:২৭ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম সরকারি মুসলিম হাই স্কুল প্রাক্তন ছাত্র সমিতির কৃতী ছাত্র সংবর্ধনা ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনটা যাতে ঐতিহাসিক নির্বাচন হয়আমরা সরকারের পক্ষ থেকে যা যা করার সব কিছু করে দিয়েছি। এখন এগুলো সব নির্বাচন কমিশন ও জনসাধারণের হাতে। আপনারা নিশ্চিত করবেন, এই নির্বাচনটা যেন ঐতিহাসিক নির্বাচন হয় এবং আগের নির্বাচনের মতো যেন কোনো কালো অধ্যায় রচিত না হয়! এ নির্বাচন যাতে গ্লানি মোচনের নির্বাচন হয়। গতকাল সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সরকারি মুসলিম হাইস্কুল প্রাক্তন ছাত্র সমিতি আয়োজিত ২০২৪ ও ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ৫ প্রাপ্ত কৃতী ছাত্র সংবর্ধনা ও পুনর্মিলনী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

সরকারি মুসলিম হাইস্কুল প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সভাপতি লায়ন শাহআলম বাবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির সাবেক ভিসি প্রফেসর মু. সিকান্দার খান, একুশে পদকপ্রাপ্ত বংশীবাদক শিল্পী উস্তাদ আজিজুল ইসলাম, চমেক হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. ইমরান বিন ইউনুস, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোরশেদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সরকারি মুসলিম হাইস্কুল প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সহ সভাপতি মোহাম্মদ আলী।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, আপনারা জানেন সামনের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এটা যেমন তেমন নির্বাচন নয়। একটি যুগান্তকারী নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য দাঁড়িয়ে আছি। এখানে আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে। মানুষ যাকে চায়তিনি যেন নির্বাচিত হতে পারেন। যিনি প্রার্থী হতে চান তিনি যাতে প্রার্থী হতে পারেন। যিনি ভোট দিতে চান তিনি যাতে ভোট দিতে পারেন। যিনি ভোট দিয়েছেন, তার ভোট যেন সঠিকভাবে হিসাব করা হয়। যিনি ভোটে বিজয়ী হবেনতিনি যেন বিজয়ী হতে পারেন। এটিই হচ্ছে আমাদের জাতির প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, সেই নির্বাচনে মানুষ যাকেই চান, যে দলকে চান, আমরা জাতি হিসেবে তার পিছনে দাঁড়াবো। যে দল কিংবা ব্যক্তিকেই আমরা নির্বাচিত করি; ভবিষ্যতে যারাই দেশের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী হবেন আমরা তাদের পেছনে থাকবো। আপনারা দোয়া করবেন এই নির্বাচনটা যেন ঐতিহাসিক হয় এবং আগের নির্বাচনের যে গ্লানি সেগুলো যাতে মুছে ফেলতে পারে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক, দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক কৃতী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা আমাদের ভবিষ্যৎ নও, বর্তমান। বর্তমানকে সবচেয়ে বেশি কাজে লাগাতে হবে। ভবিষ্যতের জন্য কিছু ফেলে রাখা যাবে না। বর্তমানকে কাজে লাগালেই ভবিষ্যত উজ্জ্বল হতে বাধ্য। তোমাদের চেষ্টা করতে হবে যেন নিজেকে উদাহরণ হিসেবে গড়ে তোলা যায় এবং সবার মধ্যে সেই লক্ষ্যই থাকা উচিত।

জীবনে অসম্ভব বলে কিছু নেই উল্লেখ করে দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, ইম্পসিবল শব্দকে ভেঙে লিখলে আই এম পসিবল হয়, অর্থাৎ আমার দ্বারা সবই সম্ভব। তোমাদেরকে এই মনোবল নিয়ে বড় হতে হবে যে, অসম্ভব বলে কিছুই নেই; সবকিছুই আমরা করতে পারবো। আমাদের শুরুটা করতে হবে। আপনি শেষ করতে না পারলেও অন্যজন শেষ করবে। সাধ্যের মধ্যে যদি আমরা চাইতাহলে জীবনে আমরা কখনো গরীব হবো না।

তিনি বলেন, হুমায়ূন আহমেদের একটি কথা আমার সব সময় মনে পড়ে ‘সাধারণ হওয়াটা একটা অসাধারণ বিষয়, সবাই সাধারণ হতে পারেন না।’ তোমাদেরকে নিজের মেধা ও যোগ্যতায় যোগ্যতম আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আমরা যে যত বড়ই হই না কেননিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশকে ভালোবেসে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে। সব সময় চেষ্টা থাকতে হবে তোমার কারণে দেশ যেন সম্মানিত হয়।

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবাদপত্র দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, সমাজ এগিয়ে গেলে দেশ এগিয়ে যাবে। আমাদের জাতীয় সংগীতে একটি লাইন আছে ‘মা, তোর বদনখানি মলিন হলে, ও মা, আমি নয়ন জলে ভাসি’। সবার আগে দেশকে ভালোবাসতে হবে। তোমাদের মধ্যে মেধার যে অগ্নি শিখা আছে সেটাকে জাগিয়ে দেয়ার কাজটি করেন শিক্ষকরা।

তিনি বলেন, এই পৃথিবীতে মাত্র তিনজন মানুষ আছেন যারা তোমার থেকে কোনো কিছু প্রত্যাশা না করে তোমাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেন; তারা হলেনমা, বাবা এবং তোমার শিক্ষক। মা, বাবা এবং শিক্ষক কোনো কিছুর বিনিময় ছাড়া একজন সন্তান এবং একজন ছাত্রকে ভালোবেসে তার ভবিষ্যৎ গড়তে সাহায্য করেন। এই তিনজনকে সবসময়ই সম্মান দেবে, না হয় তোমরা হারিয়ে যাবে।

সরকারি মুসলিম হাই স্কুলের ১৯৬৮ ব্যাচের কৃতী শিক্ষার্থী উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিক্ষার্থীদের উচ্চ অর্জনটা কী? সেটা যাতে সঠিকভাবে তারা বুঝতে পারে। ছাত্রছাত্রীদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তাদের লক্ষ্যটা উপরে নিয়ে যেতে হবে। এই উচ্ছ্বাসটা যদি এক হাজার জনের মধ্যে সৃষ্টি হয়, তার মধ্যে হয়ত ১’শ জন এটা অর্জনের জন্য কাজ করবে। তারপরে হয়ত সেখান থেকে একজন সফল হবে। এজন্যই আমাদের লক্ষ্যটাকে সুনির্দিষ্ট করতে হবে। জীবনের বড় অর্জনটা কী? উপদেষ্টা হওয়া কিংবা মন্ত্রী হওয়াএটা কোনো বড় অর্জন নয় উল্লেখ করে উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বড় অর্জনটা তাহলে কী ? বড় ব্যবসায়ী হওয়াটা কি বড় অর্জন? নাকি অর্থবিত্তের মালিক হওয়াটাই বড় অর্জন। নাকি অন্য কিছু বড় অর্জন। আমি মনে করি যে, ওস্তাদ আজিজুল ইসলামের মতো একজন বড় বংশীবাদক হওয়াটাই বড় অর্জন। কিংবা আমাদের ডাক্তার ইমরান বিন ইউনুসের মতো একজন বড় কিডনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হওয়াটাই বড় অর্জন। আমরা যাতে অর্জনের মধ্যে গুলিয়ে না ফেলি।

সংবর্ধিত কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, সংবর্ধনার উদ্দেশ্যটা হচ্ছে আরো বড় অর্জনের জন্য উদ্বুদ্ধ করা। আমরা আশা করি তোমরা সামনে আরও বড় অর্জন করতে পারবে। আমি আশা করব তোমরা আরো বড় অর্জনের জন্য উদ্বুদ্ধ হবে।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সরকারি মুসলিম হাইস্কুল থেকে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ৫ প্রাপ্ত কৃতী ছাত্রদের ক্রেস্ট প্রদানের মাধ্যমে সংবর্ধনা দেয়া হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাংলাদেশে পাটভিত্তিক উৎপাদনে বড় বিনিয়োগে আগ্রহী চীন
পরবর্তী নিবন্ধকৌতুক কাণিকা