ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ কর্মকর্তাদের কী কাজ, জানাল মন্ত্রণালয়

| সোমবার , ৩০ মার্চ, ২০২৬ at ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ

দেশজুড়ে ফিলিং স্টেশন তদারকির দায়িত্ব পাওয়া ‘ট্যাগ’ কর্মকর্তাদের কর্মপরিধি নির্ধারণ করে দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। গতকাল রোববার মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেল সরবরাহে অস্থিরতা, পাম্পে দীর্ঘ লাইন এবং কৃত্রিম সংকটের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খবর বিডিনিউজের।

এর আগে শনিবার দেশব্যাপী প্রতিটি ফিলিং স্টেশন তদারকিতে একজন করে ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এবার এসব কর্মকর্তার দায়িত্ব ও কাজের পরিধি নির্ধারণ করা হলো।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাঠপর্যায়ে জ্বালানি তেল গ্রহণ, মজুদ, বিক্রি ও সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে তদারকির জন্য ট্যাগ কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করতে হবে। নির্ধারিত কর্মপরিধি অনুযায়ী, ট্যাগ কর্মকর্তাদের প্রতিদিন ফিলিং স্টেশনের প্রারম্ভিক জ্বালানি মজুদ রেকর্ডভুক্ত করতে হবে। ডিপো থেকে সরবরাহ করা জ্বালানি তেল সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশনে উপস্থিত থেকে পরিমাপ করে গ্রহণ করতে হবে এবং পেঅর্ডার ও চালান বা রসিদের সঙ্গে পরিমাণ মিলিয়ে দেখতে হবে। ডিপরড বা ডিপস্টিকের মাধ্যমে সরবরাহ করা জ্বালানির পরিমাণও নিশ্চিত করতে হবে তাদের।

ফিলিং স্টেশনের রেজিস্টারে ডিপো থেকে দৈনিক জ্বালানি গ্রহণের হিসাব সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ হয়েছে কিনা সেটিও তদারকির মধ্যে থাকবে। ডিসপেন্সিং মেশিনের দৈনিক মিটার রিডিং রেজিস্টার পর্যবেক্ষণ করে বিক্রয়ের সঙ্গে তার সামঞ্জস্য যাচাই করতে হবে। প্রতিদিন বিক্রি শেষে সমাপনী মজুদ পর্যালোচনার দায়িত্বও থাকবে ট্যাগ কর্মকর্তাদের উপর।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ডিসপেন্সিং মেশিনের পরিমাপ সঠিক রয়েছে কিনা তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। অনুমোদিত লেআউট প্ল্যান অনুযায়ী পণ্যভিত্তিক মজুদ ক্ষমতা ও বিদ্যমান মজুদ সক্ষমতাও যাচাই করতে হবে। ফিলিং স্টেশনের আশপাশে কোনো অননুমোদিত ট্যাংক বা স্থাপনা রয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থাকে দৃশ্যমান করতে ডিপো থেকে পাম্প এবং পাম্প থেকে ভোক্তা পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে ট্যাগ কর্মকর্তাদের। ডিপো, ট্যাঙ্কার, পাম্প ও খুচরা বিক্রির তথ্য সমন্বিতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং প্রতিটি পাম্পে দিনে অন্তত তিন বেলা সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় হালনাগাদ করতে হবে।

জ্বালানি গ্রহণের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিক্রি শুরু নিশ্চিত করার নির্দেশনাও রয়েছে কর্মপরিধিতে। এক ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি শুরু না হলে তা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে সতর্কতা, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং সাময়িক স্থগিতাদেশের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

এছাড়া পাম্প খোলা থাকা, স্টক রেজিস্টার, ডিসপ্লে বোর্ড, ক্যাশ মেমো প্রদান, নির্ধারিত সীমা অনুসরণ এবং অবৈধভাবে কন্টেইনারে বিক্রি হচ্ছে কিনা সেসব বিষয়ে জিওট্যাগযুক্ত প্রমাণসহ নিয়মিত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

মন্ত্রণালয় বলেছে, এসব নির্দেশনা যথাযথ বাস্তবায়ন করা গেলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, অনিয়ম প্রতিরোধ এবং ভোক্তা পর্যায়ে সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদুর্বল থাকায় অন্তর্বর্তী সরকার মব নিয়ন্ত্রণে সফল হয়নি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধসাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ ও মামুনকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ