‘জামায়াত প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সাজানো নির্বাচনের যে নীলনকশা আঁটছে তা দলটির কেন্দ্রীয় পরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে’ বলে দাবি করেছেন নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। তিনি বলেন, ‘শাহজাহান চৌধুরী বলছেন, পুলিশ প্রশাসন নাকি জামায়াতের কথায় উঠবে বসবে। এমন বক্তব্যই প্রমাণ করে, তারা কেন্দ্র দখল ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে। এই চক্রটি ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচন বিলম্বিত এবং প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তিনি গতকাল শুক্রবার বিকেলে নগরের লালদীঘিস্থ জেলা পরিষদ চত্বরে গণসংযোগ পূর্ববর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম–৯ সংসদীয় আসনের ভোটারদের ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রদানে উৎসাহিত করে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নে জনমত গঠনের লক্ষ্যে কোতোয়ালী থানা বিএনপি এ সমাবেশের আয়োজন করে।
বক্কর বলেন, জামায়াত যে প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় নিজস্ব লোক বসানোর চেষ্টা করছে, বিএনপি তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রশাসনে যারা জামায়াতের হয়ে কাজ করছে তাদের তালিকা তৈরি হচ্ছে। ওই ধরনের কাউকে সামনে রেখে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।
বক্কর বলেন, তারা কখনো পিআর পদ্ধতির কথা বলে, কখনো গণভোটের দাবি তোলে। আবার ৩০০ আসনেই প্রার্থী দিয়ে রাত দিন প্রচারণা চালাচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার, তারা ধর্মকে ব্যবহার করছে এবং নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে চাইছে। ভোটের মাঠ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রস্তুতি চালাচ্ছে। শেখ হাসিনা যেভাবে প্রশাসনকে ব্যবহার করে দিনের ভোট রাতে ব্যালট বাক্সে ভরেছিল, জামায়াতও সে পথেই হাঁটতে চাইছে। শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যেই সেটা স্পষ্ট হয়েছে।
সমাবেশ শুরুর আগে গুরুতর অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। সমাবেশ শেষে বক্কর নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে লালদীঘির পাড় থেকে গণসংযোগ শুরু করে বক্সি বিট হয়ে আন্দরকিল্লা মোড়, চেরাগি মোড় হয়ে প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ করেন।
কোতোয়ালী থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মনজুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মান্নান, সদস্য খোরশেদ আলম, ইসমাইল বালি, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি লায়ন আর কে দাশ রুপু, বিপ্লব দে পার্থ, মহানগর সাহেদ বক্স, শাহ আলম।












