প্রবাসী বর হাতছাড়া না করতে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৫) মাদরাসা শিক্ষার্থীকে জোর করে বিয়ে দেওয়ার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে অভিভাবকরা। এরই অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে হবু কনের বাড়িতে বর যাত্রীদের জন্য রান্না–বান্নাসহ বিয়ের ধুমধাম আনুষ্ঠানিকতাও শুরু হয়। কিন্তু গোপনে এই সংবাদ পেয়ে উপজেলা প্রশাসন কনের বাড়িতে গিয়ে সেই বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দেয়। প্রাপ্তবয়স্ক হলেই মেয়েকে বিয়ে দেবেন– এ মর্মে কনের বাবা ও মায়ের কাছ থেকে নেয়া হয় মুচলেকাও।
উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলাম নগর গ্রামে ওই কনের বাড়ি। সে আমজাদিয়া রফিকুল উলুম ফাজিল মাদরাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রবাসী ওই বরের বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী এলাকায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের নির্দেশে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, মাদরাসার সুপার ড. এনামুল হক, থানার একদল পুলিশ বাল্যবিয়ের এই কার্যক্রম বন্ধ করতে কনের বাড়িতে যায়। এই বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ইউএনও স্যারের নির্দেশনা পেয়েই মাদরাসা সুপার ও থানা পুলিশসহ নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর বাড়িতে গেলে দেখা যায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে গেছে। এ সময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বাবা ও মাকে বাল্য বিয়ের কুফল এবং এ সংক্রান্ত আইনের বিষয়ে বিস্তারিত বলা হয়। তখনই নিজেরা (বাবা–মা) মুচলেকা দেন এবং এই বাল্যবিয়ে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন বর পক্ষকে। বলা হয়– প্রাপ্তবয়স্ক হলেই মেয়েকে বিয়ে দেবেন। আর এতেই বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পায় ওই শিক্ষার্থী।
এ ব্যাপারে চকরিয়ার ইউএনও মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক হলেও প্রবাসী বর পেয়ে মেয়ের পরিবার তাকে হাতছাড়া করতে চাননি। তবে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এই বাল্যবিয়ে থেকে সরে আসে মেয়ের পরিবার। একইভাবে বিবাহ নিবন্ধন তথা নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাজীর দায়িত্বে যারা রয়েছেন তাদেরও উচিত এই ধরনের বাল্যবিয়ে পড়ানো থেকে নিজেদের বিরত রাখা।