প্রবারণার আলোয় আলোকিত হোক বাংলাদেশ

শতদল বড়ুয়া | রবিবার , ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ at ৮:০৭ পূর্বাহ্ণ

আজ শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা। বৌদ্ধ সমপ্রদায়ের জন্য আজকের দিনটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ। সকল পূর্ণিমা তিথিই কোনো না কোনো কারণে বৌদ্ধদের জন্য শুভদিন। এবারের প্রবারণা পূর্ণিমা এমন সময়ে বৌদ্ধ সমপ্রদায় পালন করছে যখন বাংলাদেশে হাম ও ডেঙ্গু মারমুখী অবস্থানে। হাম এবং ডেঙ্গু নীল আকাশে অদৃশ্য হয়ে যাক, সাগরের পানিতে তলিয়ে দেশ রোগমুক্ত হোক—এ কামনায় প্রতিটি বিহারে বিশেষ প্রার্থনায় রত থাকবে বৌদ্ধ সমপ্রদায়রা।

রাতের প্রধান আকর্ষণ ‘ফানুস’ উড়ানো। এ ফানুসেরও বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। ফানুসে ফানুসে আকাশ ছেয়ে যাবে। ফানুসগুলো যেনো আকাশের তারার সাথে মিতালী করছে। আলোঝলমলে ফানুসের আলোয় রাতের আকাশ নবআঙ্গিকে রূপায়িত হবে।

কঠিন চীবরদান বৌদ্ধ সমপ্রদায়রা খুবই গুরুত্ব সহকারে সুসম্পন্ন করে। আশ্বিনী পূর্ণিমার পরদিন থেকে কার্তিকী পূর্ণিমা পর্যন্ত এক মাসের মধ্যে এ দান সম্পন্ন করার বিধান রয়েছে। অন্যান্য দানের সঙ্গে এ দানের তারতম্য এই যে, এ দান একটা বিহারে বছরে মাত্র একবার করতে পারে। উক্ত নির্ধারিত সময় ছাড়া অন্য সময়ে এ দান করতে পারে না। যে বিহারে ভিক্ষু প্রথম বর্ষা যাপন করেন সেখানেই তিনি এ দান গ্রহণ করতে পারবেন।

ভিক্ষুরা এক সঙ্গে তিনটি চীবর পরিধান করেন। সেগুলো হলো : উত্তরাসঙ্গ, সংঘাটি ও অন্তরবাস। উল্লিখিত এগুলোর যে কোনো একটা দিয়ে ‘কঠিনচীবর দান’ করা যায় । ইদানীং বাজার থেকে কাপড় ক্রয় করে কঠিনচীবর দান করা হয়। তবে এতে কায়িক, বাচনিক ও মানসিক অতিরিক্ত পুণ্য সঞ্চয় না–ও হতে পারে। এটাই কঠিনচীবর দানের বিশেষত্ব। তাই এ দানকে ‘দানশ্রেষ্ঠ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

আজকের এ মহাপুণ্যময় দিনে বুদ্ধবাণী স্মরণ ছাড়া আর কোনো অবস্থায় দেশ সংঘাতমুক্ত হতে পারে না বৌদ্ধ সমপ্রদায়রা বিশ্বাস করে। জাতি–ধর্ম–বর্ণ নির্বিশেষে যে যার অবস্থানে থেকে দেশের মঙ্গলময় ভবিষ্যৎ রচিত করা প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব এবং কর্তব্য বলে মনে করি। কারণ ধর্মমানে সুশৃঙ্খল জীবনযাপন। সুশৃঙ্খল জীবনযাপনই পারে দেশের কল্যাণ বয়ে আনতে। এতে প্রয়োজন সচেতনতা। নিজের বিবেকবোধকে সৎপথে চালিত করে অন্যকেও এপথে আসার জন্য উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জোগাতে পারলে পরিচ্ছন্ন এবং পাপমুক্ত দেশ আমরা আগামী প্রজন্মকে উপহার দিতে পারব। জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক। বাংলাদেশ সমৃদ্ধি লাভ করুক।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপ্রবারণা: শুদ্ধ বিনয়াচারে জীবন পরিচালনার আদর্শ গ্রহণ
পরবর্তী নিবন্ধদেশ হতে দেশান্তরে