কোরবানির ঈদে ট্রেনে অগ্রিম টিকিটে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন যাত্রীরা। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে আগেভাগেই চট্টগ্রাম ছাড়ছেন কর্মসূত্রে বিভিন্ন জেলা থেকে এসে এই নগরীতে বসবাসকারীরা। ঈদ উপলক্ষে রেলওয়ের দেশব্যাপী পাঁচ দিনের অগ্রিম টিকিটের যাত্রা শুরু হয়েছে গতকাল থেকে।
ঈদযাত্রার প্রথম দিন গতকাল শনিবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম রেল স্টেশন থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি ট্রেনে স্বাভাবিক দিনের চেয়ে বেশি যাত্রী ছিল বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম স্টেশন মাস্টার আবু জাফর মজুমদার। সবগুলো ট্রেনেই যাত্রীদের চাপ ছিল। ঈদের বন্ধে অনেকে আগেভাগে পরিবারকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। অনেকে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন। এই কারণে ঈদের অগ্রিম টিকিটের বাড়ি ফেরার প্রথম দিনে সব আন্তঃনগর ট্রেন ভিড় ছিল। প্রায় প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনে অতিরিক্ত বগি যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে জামালপুরগামী বিজয় এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম–সিলেট রুটে চলাচলরত একমাত্র ট্রেন পাহাড়িকা–উদয়ন এক্সপ্রেস, ঢাকাগামী মহানগর গোধূলী, চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনে ভিড় ছিল বেশি।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতিদিন ১৬ জোড়া (আসা–যাওয়া ৩২টি) ট্রেনের ১০ হাজার যাত্রী সিটে বসে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারবেন। এছাড়া ট্রেন ছাড়ার ২ ঘণ্টা আগে মোট আসনের (উচ্চ শ্রেণি ব্যতীত) ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট স্টেশনের কাউন্টার থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন যাত্রীরা।
চট্টগ্রাম স্টেশন মাস্টার আবু জাফর মজুমদার জানান, ঈদের সময় অগ্রিম টিকিট, স্পেশাল এবং স্ট্যান্ডিং টিকিট মিলে প্রতিটি ট্রেনে প্রায় ১২ হাজারের বেশি ঈদযাত্রায় বাড়ি ফিরতে পারবেন। এছাড়া ঈদের দুইদিন আগে থেকে চট্টগ্রাম–চাঁদপুর রুটসহ বিভিন্ন রুটে স্পেশাল ট্রেন চলাচল করবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর আড়াইটায় স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের অনেক ভিড়। বিশেষ করে চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেস ও ঢাকাগামী সোনার বাংলা ট্রেনে যাত্রীদের ভিড় ছিল সবচেয়ে বেশি। প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষমাণ মানুষের চোখে–মুখে ছিল বাড়ি ফেরার আনন্দ। তবে ভিড় সামলাতে অনেক যাত্রীকে কিছুটা বেগ পেতে হয়। যাত্রীদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি দেখা গেছে।
স্টেশন মাস্টারসহ স্টেশনে দায়িত্বরত আরএনবির সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে স্টেশন জনস্রোত হয়ে উঠবে ২৫ তারিখ থেকে। আগামী ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।











