প্রাথমিক শিক্ষার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে তিন বছর পর আবার পরীক্ষা ফিরে আসছে। ২০২৩ সালে বিগত সরকারের প্রণীত নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরুর পর থেকে এ দুই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়ার নিয়ম উঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
এ বছর থেকে পরীক্ষা ফিরিয়ে এনে জাতীয় শিক্ষাক্রমের মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিমার্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি–এনসিসিসি। তবে পরীক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়নও থাকছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড–এনসিটিবির শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন শাখার ঊর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ মো. সাফায়েত আলম গতকাল সোমবার দুপুরে বলেন, গত ২৬ জানুয়ারি এনসিসিসির সভায় প্রাথমিকের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ওইদিন সকালে এনসিসিসির সভা হয়। খবর বিডিনিউজের।
বিগত সরকারের সময়ে ২০২৩ সালে প্রণীত নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী প্রাক–প্রাথমিক পর্যায়ের শিশু শিক্ষার্থীদের কোনো মূল্যায়নের ব্যবস্থা নেই। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে সব বিষয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়ন এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে পাঠ্যপুস্তকের বিষয়গুলোতে ৫০ শতাংশ সমষ্টিক মূল্যায়ন ও ৫০ শতাংশ ধারাবাহিক মূল্যায়নের বিধান ছিল। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট সরকার পরিবর্তনের পর মাধ্যমিক পর্যায়ের ওই কারিকুলাম বাতিল হয়ে গেলেও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে প্রাথমিক পর্যায়ের কারিকুলাম বহাল রাখা হয়েছিল। ২০২৫ সালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পরীক্ষা হয়নি। তবে সংশোধিত মূল্যায়ন পদ্ধতিতে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ৩০ শতাংশ ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও ৭০ শতাংশ সামষ্টিক মূল্যায়ন বা পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
এনসিসিসির সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও অ্যাসেসম্যান্ট শাখার ঊর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ মাফরুহা নাজনীন বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে যেসব বিষয়ে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক সহায়িকার মাধ্যমে পাঠদান করা হয়, সেসব বিষয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়ন ৫০ শতাংশ ও সামষ্টিক মূল্যায়ন বা পরীক্ষায় ৫০ শতাংশ নম্বর থাকবে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে যেসব বিষয়ে শুধু শিক্ষক সহায়িকার মাধ্যমে পাঠদান করা হয়, সেসব বিষয়ে শুধু (শতভাগ) ধারাবাহিক মূল্যায়ন থাকবে, কোনো সামষ্টিক মূল্যায়ন থাকবে না। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে যেসব বিষয়ে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক সহায়িকার মাধ্যমে পাঠদান করা হয়, সেসব বিষয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়নে ৩০ শতাংশ ও সামষ্টিক মূল্যায়নে ৭০ শতাংশ নম্বর থাকবে। এ তিন শ্রেণিতে যেসব বিষয়ে শুধুমাত্র শিক্ষক সহায়িকার মাধ্যমে পাঠদান হয়, সেসব বিষয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়ন থাকবে (শতভাগ) এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন থাকবে না।
নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি চলতি বছর থেকেই কার্যকর হবে জানিয়ে মাফরুহা নাজনীন বলেন, প্রত্যেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিজ উদ্যোগে প্রান্তিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করবে, সম্ভব না হলে পাশ্ববর্তী একাধিক বিদ্যালয় নিয়ে প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করতে পারবে। প্রতি প্রান্তিকে প্রত্যেক বিষয়ে সামষ্টিক মূল্যায়নে পাঠ্যপুস্তকের অনুশীলন থেকে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ প্রশ্ন রাখতে হবে।
এনসিসিসির সভার কার্যবিবরণী আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে পাওয়ার পর এনসিটিবি স্কুলগুলোর জন্য নির্দেশনা জারি করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাবে। প্রাক–প্রাথমিকে মূল্যায়ন পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন আসছে কিনা জানতে চাইলে মাফরুহা নাজনীন বলেন, না, আগের মতই প্রাক–প্রাথমিকে মূল্যায়ন থাকছে না।












