কাপ্তাই উপজেলার ১৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থিত পাহাড়িকা উচ্চ বিদ্যালয়। সমতল থেকে প্রায় ১৫০০ ফুট উচ্চতায় স্কুলটির আশেপাশে কোনো বসতি বা দোকানপাট নেই। ৬০ বছর আগে পাহাড়ের চূড়ায় প্রতিষ্ঠিত ওই বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য নেই কোনো স্থায়ী রাস্তা বা সিঁড়ি। বর্তমানে শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করছেন বিপজ্জনক একটি অস্থায়ী সরু পথ দিয়ে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের খ্রীস্টিয়ান মিশন হাসপাতালের মাঠের পাশ দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। উপরে উঠার জন্য যে পথ রয়েছে সেটা ব্যবহারের অযোগ্য। বৃষ্টির দিনে চরম দুর্ভোগ নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাতায়াত করেন। একাধিক অভিভাবক জানান, পাহাড়িকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ভালো। কিন্তু যাতায়াত অসুবিধার কারণে অনেক ছাত্রছাত্রী স্কুলে যেতে অনিহা দেখায়। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় স্কুলে উঠতে এবং স্কুল থেকে নামতে গিয়ে অনেকে আহত হয়েছে। এই কারণে অনেক অভিভাবকও বৃষ্টির দিনে তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে আগ্রহ দেখান না।
বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, শিক্ষার্থীদের ভালো পাঠদানে তাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হচ্ছে। কিন্তু অবস্থানগত দিক থেকে অনেক পিছিয়ে আছে স্কুলটি। উঁচু পাহাড়ে অবস্থানের কারণে অনেক অভিভাবক এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অনেক অতিথিও বিদ্যালয়ে যেতে অনীহা প্রকাশ করেন। বিদ্যালয়ের যাতায়াত ব্যবস্থাটা ভালো থাকলে এই স্কুল কাপ্তাই উপজেলার মধ্যে একটি সেরা স্কুল হওয়ার মত অবস্থান তৈরি করতে পারতো বলেও তারা মন্তব্য করেন।
প্রধান শিক্ষক মো. নুর নবী বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে প্রতিকূলতা এই একটাই। ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও স্কুলের যাতায়াত ব্যবস্থা বরাবরই নাজুক ছিল। তিনি বলেন, এই বিদ্যালয়ে ২৪০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তন্মধ্যে ১১০ জন হলো ছাত্রী। যাতায়াত অব্যবস্থার কারণে ছাত্রীরাই বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে। আমরা বিদ্যালয়ে যাতায়াত পথ করে দেওয়ার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডে প্রায় এক বছর আগে আবেদন করেছিলাম। উন্নয়ন বোর্ড থেকে আমাদের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। তবে এখনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তবে বিদ্যালয়ের একটি ভবনে ভাঙ্গন প্রতিরোধে ধারক দেওয়াল করার কার্যক্রম চলছে। নির্মাণ সামগ্রী সমতল থেকে উপরে উঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার নিজেদের প্রয়োজনে আপাতত মাটি সমান করে একটি অস্থায়ী পথ তৈরি করেছে। এই অস্থায়ী পথের উপর যদি স্থায়ী রাস্তা করে দেওয়া যায় তাহলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সবাই উপকৃত হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।












