কাপ্তাই উপজেলার ১৭টি উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে চন্দ্রঘোনায় অবস্থিত পাহাড়িকা উচ্চ বিদ্যালয়টি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। প্রতিষ্ঠার ৬০ বছর পেরিয়ে গেলেও এ বিদ্যালয়ে যাতায়াতেরও কোনো সুব্যবস্থা ছিল না। ১৫০০ ফুট উচ্চতায় স্কুলে যাতায়াতের সুব্যবস্থা না থাকায় দুর্ভোগ নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাতায়াত করতেন। বৃষ্টির সময় যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়ত। যাতায়াতের জন্য সড়ক নির্মাণ করতে স্কুলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ বরাবর একাধিকবার আবেদন নিবেদন করেও কোন ফল পাওয়া যায়নি। অবশেষে দৈনিক আজাদীতে গত বছরের ১ নভেম্বর একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর পাহাড়িকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।
পাহাড়িকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নুর নবী জানান, দীর্ঘ ৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছি। প্রতিদিন সময়মত বিদ্যালয়ে আসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু বিদ্যালয়ের উপরে উঠার যে দুর্গম পথ সেই পথ অতিক্রম করা ছাত্র শিক্ষক সকলের জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল। অবস্থানগত কারণে বিদ্যালয়টি লোকালয় থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন ছিল। পাহাড়ের উচ্চ চূড়ায় অবস্থানের কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসতে অনিহা জানাত। যাতায়াতের সুবিধা না থাকায় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা কখনো স্কুলে ভর্তি হতো না। স্কুলে কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন করলে দুর্গম পথের কারণে আমন্ত্রিত অতিথিরা সাধারণত স্কুলের উপরে উঠতে চাইতেন না।
তিনি জানান, স্কুলে যাতায়াতের এই দুরবস্থার কথা তুলে ধরে গত বছরের ১ নভেম্বর দৈনিক আজাদীর পাতায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সেই প্রতিবেদনের কপিসহ আমরা পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডে একটি আবেদন করি। সেই আবেদনে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রুহুল আমিন সুপারিশ করেছিলেন। প্রতিবেদনটি পড়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাহাড়িকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন সড়ক নির্মাণের অনুমোদন দেন এবং ২ মাসের মাথায় সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হয়। গত ৯ জানুয়ারি আমরা গাড়ি নিয়ে স্কুলে উঠতে সক্ষম হয়েছি। স্কুল প্রতিষ্ঠা হবার ৬০ বছর পর পাহাড়িকা উচ্চ বিদ্যালয়ের উপরে গাড়ি নিয়ে উঠতে পেরে আমরা খুশি। সড়ক নির্মিত হওয়ায় আমাদের সকল ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক মন্ডলী এবং অভিভাকরা অত্যন্ত আনন্দিত। আমি গত ৪ জানুয়ারি বিদ্যালয় থেকে অবসর নিয়েছি। আমার হয়তো স্কুলে যাবার আর বিশেষ প্রয়োজন হবে না। কিন্তু স্কুলের ছাত্র শিক্ষক সবাই উপকৃত হবে এতে আমিও আনন্দিত। আর এটা বাস্তবায়ন হয়েছে দৈনিক আজাদীতে প্রতিবেদন প্রকাশের কল্যাণে। পাহাড়িকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক মন্ডলী এবং অভিভাবক ও স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ স্বাধীন বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রথম দৈনিক আজাদীকে ধন্যবাদ জানাই।
পাহাড়িকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রপ্ত প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম হেলালী বলেন, বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র কল্যাণ পরিষদ সমপ্রতি স্কুলে একটি পুনর্মিলনীর আয়োজন করে। এই আয়োজনে যোগ দিতে শিক্ষার্থীরা গাড়ি নিয়ে সরাসরি স্কুলের উপরে উঠে আসে। আপাতত মাটির রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। তবে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ইট আনা হয়েছে। ২/১ দিনের মধ্যে মাটির সড়কে ইট বিছানোর কাজ শুরু করবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। ইট বিছানোর কাজ সম্পন্ন হলে পাহাড়িকা উচ্চ বিদ্যালয়ে যাতায়াত আরো সহজ হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রুহুল আমিন বলেন, গত বছরের জানুয়ারি মাসে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পাহাড়িকা উচ্চ বিদ্যালয়ে উঠেছিলাম। তখন স্কুলে উঠার মতো সড়ক ছিল না। অনেক কষ্টে এবং ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেঁটে উপরে উঠেছিলাম। সেখানে এখন সড়ক নির্মিত হয়েছে। এর ফলে স্কুলে শিক্ষার পরিবেশ সমৃদ্ধ করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।












