প্রতিমা বিসর্জনে লোকে লোকারণ্য সমুদ্র সৈকত

কক্সবাজার প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার , ২২ অক্টোবর, ২০২৬ at ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিমা বিসর্জনে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে সমপ্রীতির বন্ধনে এক অন্য রকম মিলনমেলা বসে। লাখো পর্যটক আর ভক্তদের উপস্থিতিতে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে হয়ে গেল প্রতিমা বিসর্জন। রং ছিটিয়ে, আতশবাজি ফাটিয়ে, ঢাকঢোল বাজিয়ে জেলা ও শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমুদ্রসৈকতের উদ্দেশ্যে বের করা হয় শোভাযাত্রা।

বিসর্জন উপলক্ষে সৈকতে সমাগম হয় পর্যটক আর ভক্তদের ঢল। নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে পুরো বিসর্জন পর্যবেক্ষণে রাখে পুলিশ। নানা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য আর উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিমা বিসর্জন। এর মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে দুর্গোৎসবের।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা গতকাল বুধবার ছিল প্রতিমা বিসর্জন ও বিজয়া দশমী। দুপুরের পর থেকে কক্সবাজারের বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে প্রতিমা বহনকারী ট্রাকগুলো কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দিকে আসতে থাকে। পুরো শহর এবং সৈকত জুড়ে নেয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিকেল ৩টার পর থেকে সৈকতের লাবণী পয়েন্ট ভক্ত আর পর্যটকদের পদচারণায় লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। লাবনী পয়েন্ট থেকে সুগন্ধা পয়েন্ট পর্যন্ত সনাতন ধর্মাবলম্বী আর সৈকত আসা পর্যটকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবে বাংলাদেশে নতুন ইতিহাস রচিত হয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও রংপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবে শামিল হয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কক্সবাজার জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উদয় শংকর পাল মিটুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক স্বপন দাশের সঞ্চালনায় সমপ্রীতির অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী, সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না। অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ধর্মীয় সমপ্রীতির তীর্থ কেন্দ্র বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে শান্তি ও সমপ্রীতির দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেছে। বিসর্জন অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল বলেন, কক্সবাজার ধর্মীয় সমপ্রীতির তীর্থ কেন্দ্র।

কক্সবাজার পৌরসভা আয়োজিত এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কক্সবাজার জেলা শাখার সহযোগিতায় এ বৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান, ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি নিশাত এ্যাঞ্জেলা, কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক মো. শামীম আল ইমরান, পৌরসভার সাবেক মেয়র সরওয়ার কামাল, বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক সোমেশ্বর চক্রবর্তী, বাবুল শর্মা, ট্রাস্টি দোলন ধর।

এবার জেলার ১০টি উপজেলায় ৩২৪টি মণ্ডপে পূজা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৫৫টি প্রতিমা ও ১৬৯টি ঘটপূজা। বুধবার বিকেল ৫টার পর মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে সৈকতে সমবেত সব প্রতিমা একযোগে সাগরে বিসর্জন দেওয়া হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে
পরবর্তী নিবন্ধসামপ্রদায়িক সমপ্রীতিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে