চট্টগ্রাম নগরীকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিটি ঘর থেকে নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, কোনো এজেন্ট বা ভেন্ডার কাজ না করলেও সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা বসে থাকবে না, ডোর টু ডোর গিয়ে ময়লা সংগ্রহ করতেই হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের সভায় মেয়র বলেন, ডোর টু ডোর বর্জ্য সংগ্রহের জন্য প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার কর্মচারী নিয়োজিত আছে। তাদের মূল দায়িত্বই হচ্ছে বাসা বাসা গিয়ে ময়লা নেওয়া। এজেন্সি বা ভেন্ডাররা সহায়ক শক্তি (অঙিলারি ফোর্স), মূল দায়িত্ব আমাদের কর্মীদেরই পালন করতে হবে।
‘চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন ও শৃঙ্খলাবদ্ধ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে দায়িত্বশীলতা ও সততা প্রয়োজন। দায়িত্বে অবহেলা করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে আমি এক মুহূর্তও দ্বিধা করবো না।’
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, সমপ্রতি বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে একাধিক অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে–কোথাও তিন–চার দিন পরেও ময়লা তোলা হচ্ছে না। একাধিক ওয়ার্ডের উদাহরণ টেনে মেয়র বলেন, এই ধরনের অবহেলা আমি বরদাস্ত করবো না। সুপারভাইজাররা দায়িত্বে অবহেলা করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সভায় মেয়র নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ভেন্ডার বা এজেন্ট যদি কোনো এলাকায় কাজ না করে বা ময়লা না তোলে, তাহলে সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা সরাসরি গিয়ে ময়লা সংগ্রহ করবে। প্রয়োজনে কাজ না করা ভেন্ডারদের চুক্তি বাতিল করার কথাও জানান মেয়র। মেয়র আরও বলেন, আগের মতো প্রতিটি এলাকায় নিয়মিত তদারকি ও শৃঙ্খলার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কোথাও ময়লা না তুললে সঙ্গে সঙ্গে সুপারভাইজারদের গিয়ে জিজ্ঞাসা করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ডাস্টবিন পুনঃস্থাপন করতে হবে। পুরোনো ডাস্টবিন অপসারণ করা যাবে না, আগে যেভাবে ছিল সেভাবেই রিপ্লেসমেন্ট দিতে হবে।
পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি নগরের শৃঙ্খলা রক্ষাও সুপারভাইজারদের দায়িত্ব উল্লেখ করে মেয়র বলেন, অবৈধ হকারদের কারণে জনদুর্ভোগ, যানজট ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তাই নিয়মিত তদারকি, ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি, উপ–প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, মেয়রের একান্ত সহকারী মারুফুল হক চৌধুরী (মারুফ) সহ পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তা–কর্মচারীবৃন্দ।












