পৌরকরের অসঙ্গতি চিহ্নিত করতে গণশুনানি হবে

মেয়রকেও আমন্ত্রণ জানাবে করদাতা সুরক্ষা পরিষদ চলবে ওয়ার্ড অভিযাত্রা কর্মসূচি

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ at ৪:২৯ পূর্বাহ্ণ

ভাড়ার ভিত্তিতে ধার্য্যকৃত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) পৌরকরের অসঙ্গতি চিহ্নিত করতে ‘গণশুনানি’র আয়োজন করবে চট্টগ্রাম করদাতা সুরক্ষা পরিষদ। আগামী ২১ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় এ গণশুনানিতে সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীসহ সাবেক মেয়রদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। এছাড়া গণশুনানিকে সামনে রেখে আগামী ১ অক্টোবর থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত ‘ওয়ার্ড অভিযাত্রা’ কর্মসূচি পালিত হবে।
স্থাপনার ভাড়ার উপর নির্ধারণ করা গৃহকর আইন- ১৯৮৬ বাতিল করে আয়তনের ভিত্তিতে গৃহকর নেয়ার দাবিতে গতকাল কদমতলীতে অনুষ্ঠিত গণমিছিল পূর্ব সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি নুরুল আবছারের বিরুদ্ধে সিটি মেয়রের ব্যক্তিগত সহকারীর দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। সিটি মেয়র জনগণের ন্যায্য আন্দোলনে ভীত হয়ে এ মামলা করিয়েছেন বলেও দাবি করেন বক্তারা। তারা বলেন, ভাড়ার উপর নির্ধারণ করা গৃহকর চট্টগ্রামবাসীর উপর গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে যা আপিলেও সহনীয় হচ্ছে না। ভাড়ার উপর কর নির্ধারণের এমন আজব নজির পৃথিবীর কোথাও নেই, এমনকি বাংলাদেশের কোন কর্পোরেশন বা পৌরসভায় নেই-তাহলে চট্টগ্রামবাসীর অপরাধ কি?
এদিকে কদমতলী থেকে মিছিল নিয়ে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব পর্যন্ত যাওয়ার পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি থাকলেও পুলিশের নিষেধাজ্ঞার কারণে তা স্থগিত করার ঘোষণা দেয়া হয় সমাবেশ থেকে। পরবর্তীতে মিছিল নিয়ে আগ্রাবাদ পর্যন্ত যাওয়ার ঘোষণা দিলেও উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাতে বাধা দেয় বলে দৈনিক আজাদীকে জানান সংগঠনের সমন্বয়ক হাসান মারুফ রুমী। তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত আমরা মিছিল নিয়ে শুভপুর বাস স্ট্যান্ড হয়ে নিউমার্কেট যাওয়ার পরিকল্পনা করি। কিন্তু শুভপুর বাসস্ট্যান্ডেও বাধা পাই। এরপরও মাদারবাড়ির দিকে একটু অগ্রসর হলে বাধা দেয়। যেহেতু কোনো বিশৃঙ্খলা করার উদ্দেশে জমায়েত হয়নি তাই বাধা ডিঙ্গিয়ে বেশি দূর যায়নি।
সমাবেশে চট্টগ্রাম করদাতা সুরক্ষা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মুহম্মদ আমির উদ্দিন বলেন, হাস্যকর বিষয় নিয়ে মামলা করিয়েছেন মেয়র। আবছার ভাই তো গালি দেন নি। তিনি বলেন, পদ-পদবী ও টেন্ডারের সুবিধা নেয়ার জন্য অনেকে মেয়রকে তোষামোদী করছেন। তারাই আমাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদেরকে চট্টগ্রামবাসীর প্রতি কথা বলার আহবান জানান তিনি।
আমির উদ্দিন বলেন, ভাড়ার উপর ট্যাঙ আমরা দিব না। আমরা তো ইনকাম ট্যাঙ দিই। আবার কেন। এ যেন এক মুরগীকে দুইবার জবাই করা। এসময় তিনি কর্পোরেশনে দুর্নীতি হচ্ছে। জন্মসনদ নিতে গেলেও টাকা দিতে হয়। তিনি বলেন, আবছার ভাইয়ের বক্তব্য নিয়ে আমরা এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছি। মেয়র আসলে যদি তিনি আমাদের সাথে আলোচনায় বসেন সেখানেও দুঃখ প্রকাশ করবো। কিন্তু চট্টগ্রামের স্বার্থে আমরা বিন্দুমাত্র ছাড় দেব না। সুরক্ষা কোন রাজনৈতিক সংগঠন নয় এটি সামাজিক সংগঠন যা চট্টগ্রামের মানুষের দুঃসময়ের বন্ধু। মেয়রের পক্ষে যারা সংক্ষুদ্ধ হয়ে সভা-মিছিল করছেন তাদের মধ্যে আমাদের অনেক বন্ধু-বান্ধব আছেন যারা সত্যিকার অর্থে নিবেদিত রাজনীতিবিদ-ভালো মানুষ। কিন্তু তাদের সাথে মিশে আছে পদ-পদবী আর কর্পোরেশনের দুর্নীতির হালুয়া রূটির ভাগ নেয়ার প্রত্যাশায় অতি উৎসাহী ধান্ধাবাজ চক্র যারা এসব করে মেয়র তথা সরকারকে বেকায়দায় ফেলছে-জনবিচ্ছিন্ন করছে। সভায় মামলার আসামি নুরুল আবছারের স্ত্রী তাহমিনা আবছার ও ছেলে নুরুল হুদা তানভীর বক্তব্য রাখেন। তাহমিনা আবছার বলেন, আমার স্বামী ৬০ লক্ষ মানুষের দুঃখের কথা বলতে গিয়ে মামলার শিকার হয়েছেন। তিনি কোন অপরাধ করেননি। আমি আমার স্বামীকে চট্টগ্রামের মানুষের জন্য উৎসর্গ করলাম। যতক্ষণ পর্যন্ত এ গলাকাটা হোল্ডিং ট্যাঙ বাতিল না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এ আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে চালানোর জন্য নেতৃবৃন্দের কাছে অনুরোধ রাখছি। ছেলে তানভীর মেয়রের উদ্দেশে বলেন, আপনি মেয়র হলেও জনগণের নেতা হতে পারেননি। আমার আব্বু পেরেছেন। তার জন্য আমি গর্বিত।
সাবেক কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌস পপি বলেন, মেয়র ভীত হয়ে মামলা করিয়েছেন। ভীত না হলে আলাপ-আলোচনা করতেন। তিনি বলেন, আবছার ভাই একা নেতা নন। আন্দোলনের সবই নেতা। এটা ৬০ লক্ষ মানুষের আন্দোলন। মামলা দিয়ে দমানো যাবে না। তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলন কিছু কাউন্সিলর অফিস আর মেয়রের অফিসকে জনতার অফিসে রূপান্তর করা। আমাদের সংগ্রাম আপিলের নামে বিগত মাস দু’য়েক জনগণের কাছ থেকে যে ঘুষ গ্রহণ করা হয়েছে তা জনগণকে ফেরত দিতে বাধ্য করার আন্দোলন। সর্বোপরি আমাদের আন্দোলন গলাকাটা হোল্ডিং ট্যাঙ আইন বাতিলের মাধ্যমে চট্টগ্রামবাসীর গলার ফাঁস ছুড়ে ফেলার আন্দোলন।
সাজ্জাদ হোসেন জাফর ও সোহেল আহমেদের সঞ্চালনায় সভায় অন্যন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সুরক্ষার নেতা সাবেক কাউন্সিলর এম, এ, মালেক, সৈয়দ হোসেন, শ্রমিক নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম, মফিজুর রহমান, হাজী হারুনুর রশীদ, ইসমাইল হোসেন মনু, খেলাঘরের অ্যরশাদ হোসেন, এডভোকেট এ. আর জাহাঙ্গীর, এডভোকেট বিশুময় দেব, নজরুল ইসলাম সর্দার, মীর মো. ইসলাম, মীর আক্তার হোসেন, মাসুদ খান মুন্না, হাজী আবদুর রহিম, জাহেদ আলী, আরমান আলী, হাবিবুল্লা, মোজাম্মেল হোসেন জ্যাকি, মুন্না খান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে সবজির দাম
পরবর্তী নিবন্ধচেয়ারে বসা নিয়ে দুই গ্রুপে সংঘর্ষ