কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি বসতবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে চার পরিবারের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, প্রয়োজনীয় মালামাল, নগদ অর্থ ও দীর্ঘদিনের সঞ্চয়সহ সহায়–সম্বল পুড়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডের পর ক্ষতিগ্রস্ত চার পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে পেকুয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মইয়্যাদিয়া এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হলো– আবুল বশর, আবুল কাশেম, আবু তাহের ও আবু তালেবের পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আবু তাহেরের বসতঘরে থাকা একটি কুপিবাতি অসাবধানতাবশত মাটিতে পড়ে যায়। এতে মেঝেতে বিছানো পলিথিনে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে পাশের বসতঘরগুলোতেও আগুন ধরে যায়।
স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলে পেকুয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। তবে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যাতায়াতের উপযোগী রাস্তা না থাকায় দলটি সময়মতো সেখানে পৌঁছাতে পারেনি। এরই মধ্যে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনটি বসতবাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডে চার পরিবারের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, প্রয়োজনীয় সামগ্রী, দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও নগদ অর্থসহ সহায়–সম্বল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে পরিবারগুলো সর্বস্ব হারিয়ে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, আগুনে তাদের ঘরবাড়ির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সবকিছু পুড়ে গেছে। বর্তমানে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও নেই। দ্রুত সরকারি ও বেসরকারিভাবে সহায়তা না পেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন পেকুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আনিসুল ইসলাম। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে তাদের ক্ষয়ক্ষতির খোঁজখবর নেন এবং সরকারি উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন। স্থানীয়দের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য, পোশাক ও অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা এবং আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসতে প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।












