চট্টগ্রাম একাডেমি প্রবর্তিত অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ শিশুসাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হলেন দুই গুনীলেখক। তাঁরা হলেন গদ্য বিভাগে ‘অঙ্ক স্যারের বুদ্ধি’ গ্রন্থের জন্য শিশুসাহিত্যিক আখতারুল ইসলাম এবং পদ্য বিভাগে ‘চাঁদ নেমেছে দিঘির জলে’ কিশোর কবিতা গ্রন্থের জন্য কানিজ ফাতিমা। গত ২২শে ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম একাডেমির ফয়েজ নুরনাহার মিলনায়তনে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রফেসর রীতা দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন সাপ্তাহিক স্লোগান পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ জহির। আলোচক ছিলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক অরুণ শীল, জসীম মেহবুব ও আজিজ রাহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম একাডেমির পরিচালক এস.এম. আবদুল আজিজ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কবি–শিশুসাহিত্যিক রাশেদ রউফ। তিনি বলেন, অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ ছিলেন চট্টগ্রামের আইকন। বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী ছিলেন তিনি, স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির তিনি ছিলেন অন্যতম সদস্য। ছোটদের তিনি খুব ভালোবাসতেন। পরমত সহিষ্ণুতা ছিল তাঁর একটি বিশেষ গুণ। আরো বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম একাডেমির পরিচালক বিপুল বড়ুয়া, কথাসাহিত্যিক দীপক বড়ুয়া, অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদের পুত্র মোহাম্মদ জোবাইর, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ কবি ও লেখক ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী ও অনুবাদক ফারজানা রহমান শিমু। অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদকে নিয়ে স্বরচিত ছড়া পাঠ করেন উৎপল কান্তি বড়ুয়া, অধ্যাপক বাসুদেব খাস্তগীর, কাঞ্চনা চক্রবর্ত্তী, সেলিমা আক্তার, সুবর্ণা দাশ মুনমুন, মর্জিনা আখতার, তানজিনা রাহী ও সৈয়দ জিয়াউদ্দিন। অনুভূতি ব্যক্ত করে আখতারুল ইসলাম বলেন – লেখালেখি আমি ভালোবাসি যেখানে বই পাই সেখানেই আমি বই পড়ি, পুরস্কার লেখককে লিখতে উৎসাহিত করবে। কানিজ ফাতিমা অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন – আজকের এ পুরস্কার আমার জীবনে একটি বিরাট অর্জন, আমি সত্যিই অভিভূত। যাঁরা আমাকে কবিসত্তা জাগিয়ে তুলতে সাহায্য করেছেন তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। মোহাম্মদ জহির চট্টগ্রাম একাডেমিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন– বাংলাদেশের ইতিহাসে আমার বাবার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আবৃত্তিশিল্পী আয়েশা হক শিমু। পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই গুণীজনকে জানাই অভিনন্দন। তাঁদের সাহিত্যজীবন সমৃদ্ধ হোক– এ কামনা করছি। সুন্দর অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য চট্টগ্রাম একাডেমির প্রতি রইলো ধন্যবাদ।