বহু যুগ ধরে জ্ঞান–বিজ্ঞানের বিবিধ ক্ষেত্রে মানুষের চিন্তাধারা লিপিবদ্ধ হয়ে আসছে গ্রন্থসম্পদে। মানবীয় বিকাশে ব্যক্তি, পরিবেশ, গ্রন্থ প্রভৃতি নিজ নিজ ভূমিকায় নিঃশব্দে কাজ করে যায়। চিন্তা ও মননের সার্থকতা মূলত প্রকাশ পায় চরিত্র ও সমাজ জীবনে। মানুষের মননশীলতার যুক্তির ক্ষেত্র বিশাল। দেশের শহরে শহরে গ্রামে গ্রামে সংস্কৃতিচর্চার কেন্দ্র গড়ে ওঠে। এইসব সংস্থার মধ্যমনি ছিল গ্রন্থাগার বা সাধারণ পাঠাগার। দেশের যুবশক্তি জাগ্রত হয়ে উঠেছিল এইসব কেন্দ্রের মাধ্যমে। দেশজোড়া অশিক্ষা দূরীকরণের উদ্দেশ্যের সুত্রপাত হয়েছিল নৈশ পাঠচক্রের পরিকল্পনা। গ্রন্থাগার যেমন অবসর বিনোদনের সহায়তার মাধ্যম, তেমনি অবসর সময়ের যথোপযুক্ত এবং উদ্দেশ্যমুখী ব্যবহার। গ্রন্থাগার বিশাল তথ্যকেন্দ্রের ভাণ্ডার যদিও এটি একদিকে মানুষকে ক্রমে স্বাক্ষর হতে উৎসাহ দান করবে, অন্যদিকে গ্রন্থাগারে প্রস্তাবিত স্বাক্ষরতা বিস্তারের ব্যবস্থা কৌতুহলী মানুষের মনে তথ্য আহরণের আগ্রহ সঞ্চার করবে। উন্নত সমাজে নানা কারণে যাদের শিক্ষা অসম্পূর্ণ থেকে যায়, তারা নিজেদের উদ্যমে স্বশিক্ষায় সচেষ্ট হন– যাতে পেশাগত ক্ষেত্রে উন্নতি লাভ করতে পারে এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে। ক্রমবর্ধনশীল এবং ক্রমপরিবর্তনশীল প্রক্রিয়ায় গ্রন্থাগারে জ্ঞানের ভাণ্ডার তথা গ্রন্থসম্পদ বর্ধিত হয়। চিন্তাধারার প্রসার ও কল্পনা পদ্ধতির প্রবর্তনে–বিবর্তনে নানাবিধ পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। পুরানোকে সরিয়ে নতুন চিন্তাধারা যুগ যুগ ধরে চলতে থাকে। এই নিত্য নবীনতাকে গ্রহণ করতে না পারলে পিছিয়ে থাকতে হয়, থিতিয়ে যেতে হয়। জ্ঞান–সম্পদ এক মন থেকে আরেক মনে সঞ্চারিত হয়ে চলতে থাকে।












