কক্সবাজার–৪ (উখিয়া–টেকনাফ) আসনের ১১ দলীয় জোটের মনোনিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী গণনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে পুনঃভোট গণনার দাবি জানিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় জেলা জামায়াত কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান। এর আগে দুপুরে ভোট পুনঃগণনার জন্য জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তিনি। ১ হাজার ৫৪৯ ভোটের ব্যবধানের হেরেছেন জামায়াতের এই প্রার্থী।
নূর আহমদ আনোয়ারী অভিযোগ করেছেন, ভোট গণনায় নানাভাবে অনিয়ম হয়েছে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দাঁড়িপাল্লার ভোট ভুলবশত বা জ্ঞাতসারে বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলের অসামঞ্জস্য, এজেন্টদের ভোট গণনায় পর্যবেক্ষণ করতে না দেওয়া এবং পোস্টাল ভোটের স্বচ্ছতায় ঘাটতি থাকার অভিযোগও তিনি তোলেন।
তিনি বলেন, ভোটের দিন শুরু থেকেই নানা অসঙ্গতি দেখা গেছে, যা আইন–শৃঙ্খলাবাহিনী অবগত। গণনার সময় উখিয়ার বহু কেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এজেন্টদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে তারা ভয়ে সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারেননি। ফলস্বরূপ দাঁড়িপাল্লার অনেক ব্যালেট কৌশলে বাতিল করা হয়েছে। ৪৮৯৯ ভোট কীভাবে বাতিল হয়, এটি পুনঃগণনার বিষয়।
ধানের শীষের পক্ষে জাল ভোটের অভিযোগ করে তিনি বলেন, উখিয়ার নিজের প্রভাবভুক্ত এলাকায় বিএনপির প্রার্থীর লোকজন ব্যাপক জাল ভোট দিয়েছেন। পাশের কেন্দ্রে ৬০ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে, কিন্তু ধানের শীষের প্রভাবভুক্ত কেন্দ্রে ৮০ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে–এটি স্বাভাবিক নয়।
পোস্টাল ভোট গণনায়ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন নূর আহমদ আনোয়ারী। তিনি বলেন, সেখানে দাঁড়িপাল্লার এজেন্টদের সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে দেয়া হয়নি। ভোট গণনার দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তারা হস্তক্ষেপ করে দাঁড়িপাল্লার ভোট কম দেখিয়েছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ভোট পুনঃগণনার ব্যবস্থা করুন। বাতিল করা ভোটে দাঁড়িপাল্লার বহু বৈধ ভোট রয়েছে। গণনার সময় আমার এজেন্টদের পর্যবেক্ষণের সঠিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পুনঃগণনার মাধ্যমে প্রকৃত ফলাফল ঘোষণা করা হোক। এতে দাড়িপাল্লা এগিয়ে থাকবে। ভোটের পর বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর সমর্থক ও দলীয় লোকজনের পক্ষ থেকে দাঁড়িপাল্লার লোকজনের উপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও হুমকির অভিযোগও করেছেন নূর আহমদ আনোয়ারী।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা জাহিদুল ইসলাম, প্রচার সেক্রেটারি আল–আমিন মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলা জামায়াতের আমিরসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের জেলা শাখার সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৮২ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নুর আহমদ আনোয়ারী পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৩৩ ভোট। দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ১ হাজার ৫৪৯।











