পাহাড়ে বিদেশি জাতের আঙুর চাষে সাফল্য সম্ভাবনার দ্বার খুলছেন দীঘিনালার উদ্যোক্তা

সমির মল্লিক, খাগড়াছড়ি | শনিবার , ৯ মে, ২০২৬ at ১১:০১ পূর্বাহ্ণ

শখ থেকে শুরু, এখন তা সফলতার পথে। খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার এক উদ্যোক্তা পাহাড়ের চূড়ায় বিদেশি জাতের আঙ্গুর চাষ করে সৃষ্টি করেছেন নতুন সম্ভাবনা। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তার ব্যতিক্রমধর্মী আঙুর বাগান এখন স্থানীয়দের পাশাপাশি দর্শনার্থীদেরও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মেরুং ইউনিয়নের ভূইয়াছড়ি এলাকার বাসিন্দা মো. সালাউদ্দিন (৪০) নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন বিদেশি জাতের আঙুরের বাগান। ইউটিউব ও ফেসবুক দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০২৩ সালে অনলাইনে ইউক্রেনের ‘বাইকুনুর’ জাতের দুটি চারা ১ হাজার ৪০০ টাকায় কিনে শুরু করেন তার এই যাত্রা। বর্তমানে প্রায় ১৫ শতক জমিজুড়ে বিস্তৃত হয়েছে তার স্বপ্নের বাগান।

খাগড়াছড়িতে বিদেশি জাতের মিষ্টি আঙুর চাষে তিনি অন্যতম পথিকৃৎ এবং দীঘিনালার একমাত্র আঙুর চাষি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার বাগানে বর্তমানে দেশিবিদেশি মিলিয়ে প্রায় ৬০ ধরনের আঙুরের জাত রয়েছে। ফেসবুক মেসেঞ্জার ও বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে রাশিয়া, ইউক্রেন, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সংগ্রহ করেছেন এসব চারা। তার বাগানের উল্লেখযোগ্য জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘বাইকুনুর’, ‘দোভস্কি পিং’, ‘ভাইকিংস টু’, ‘গ্লুরি’, ‘ডিক্সন’, ‘দাসোনিয়া’, ‘নিউরো ব্ল্যাক’, চীনের ‘চ্যাং ফিঙ্গার’ এবং মালয়েশিয়ার ‘গ্রীন লং’। এছাড়া ‘সিসিলি’, ‘রেড গ্লোব’, ‘আইসবার্গ’, ‘আর্লি রেড’, ‘ব্ল্যাক ম্যাজিক’, ‘এলব্রোস’ ও ‘রেড রোজ’সহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জাতের আঙুরও রয়েছে তার সংগ্রহে।

সালাউদ্দিন জানান, চলতি মৌসুমে তার বাগান থেকে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কেজি আঙুর উৎপাদনের আশা করছেন তিনি। শুধু ফল উৎপাদনই নয়, গ্রাফটিং ও রুট পদ্ধতিতে তৈরি আঙুরের চারা অনলাইনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করেও আয় করছেন। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মৌসুমে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার চারা বিক্রি হয়, যার প্রতিটির দাম ২০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। বিদেশি জাতের এই আঙুর বাগান দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন। বাগান ঘুরতে আসা মো. জাফর সবুজ বলেন, “বাংলাদেশে এই প্রথম এত বড় আঙুরের বাগান দেখলাম। বিদেশি জাতের আঙুরগুলো খুবই মিষ্টি ও আকর্ষণীয়। পাহাড়ের চূড়ায় এমন একটি বাগান সত্যিই ব্যতিক্রম।” সালাউদ্দিন জানান, বাগান তৈরিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। সঠিক পরিচর্যা ও জৈব সার ব্যবহারের মাধ্যমে সহজেই আঙুর চাষ সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। তবে পাহাড়ের চূড়ায় বাগান হওয়ায় মাঝে মধ্যে পানির সংকটে পড়তে হয়। সরকারি সহযোগিতা পেলে বাণিজ্যিকভাবে আরও বড় পরিসরে আঙ্গুর চাষ সমপ্রসারণের আশা প্রকাশ করেন তিনি। দীঘিনালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, “পাহাড়ে আঙুর বাগান গড়ে তুলে সালাউদ্দিন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত তার বাগান পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলে উচ্চমূল্যের ফল হিসেবে আঙুর চাষ সমপ্রসারণে কৃষি বিভাগ উদ্যোগ নেবে। এতে প্রান্তিক কৃষকদের নতুন আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং তারা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধফয়যানে শাহ আমানতে জামেয়াতুল মদিনার ১১তম সালানা জলসা
পরবর্তী নিবন্ধজ্ঞান, তাকওয়া ও গণজাগরণের মাধ্যমে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে