পাল্টাপাল্টি হামলায় বিধ্বস্ত রাশিয়া-ইউক্রেন

কিয়েভের মার্কেট, মস্কোর ওয়াইল্ডবেরিজ

| সোমবার , ১৭ আগস্ট, ২০২৬ at ৭:৩০ পূর্বাহ্ণ

রাশিয়া এবং ইউক্রেন একে অপরের ওপর ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর এটি একটি। হামলায় বেসামরিক এলাকা, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের একটি বইয়ের বাজার, একটি ইস্পাত কারখানা এবং রাশিয়ার ওয়াইল্ডবেরিজে একটি বড় অনলাইন শপের মালামাল রাখার গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাশিয়া এবং ইউক্রেনের রাতভর দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছে অন্তত ১২ জন। অন্যতম ভয়াবহ হামলায় উভয় পক্ষেরই আবাসিক এলাকা এবং বেসামরিক অবকাঠামোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে। খবর বিডিনিউজের।

যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই যখন বহুলাংশে স্থবির এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থমকে রয়েছে, ঠিক তখনই দুইদেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেল। কারণ, ইউক্রেন এবং রাশিয়া উভয়ই এখন একে অপরের ভূখণ্ডের গভীরে দূরপাল্লার আঘাত হানার ওপরই বেশি নির্ভর করছে।

ইউক্রেনের ইস্পাত কারখানায় রুশ হামলা : ইউক্রেনে, রাশিয়ান ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির নিজ শহর ক্রিভি রিহতে আঘাত হেনেছে। হামলায় ইউক্রেনের অন্যতম বৃহত্তম ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আর্সেলোরমিত্তাল ইস্পাত কারখানায় দুইজন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছে। ইস্পাত কোম্পানি জানিয়েছে, হামলায় তাদের প্রধান উৎপাদন কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তারা কার্যক্রম আংশিকভাবে বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। ওদিকে, দক্ষিণপূর্ব জাপোরিঝঝিয়াতে রুশ হামলায় আরও দুইজন নিহত হয়েছেন, এবং সুমি অঞ্চলে অন্য আরেকজন মারা গেছেন। দনিপ্রোভোস্কে মারা গেছে আরও দু’জন। দোনেৎস্কেও একজন মারা গেছে। সব মিলে রাশিয়ার হামলায় মোট ৮ জন নিহত এবং ৩৯ জন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে ইউক্রেন।

কিয়েভে বইয়ের বাজার ধ্বংস : রাতের বিমান হামলায় কিয়েভে আঘাত হেনেছে, যেখানে পোচাইনা নামের একটি জনপ্রিয় উন্মুক্ত বইয়ের বাজার আগুনে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাজারটি বিরল এবং প্রাচীন বইয়ের জন্য সুপরিচিত ছিল। বই বিক্রেতা দিমিত্রো সেমেনুখা গণমাধ্যমকে বলেন, তার চারটি স্টলের সবকটিই ধ্বংস হয়ে গেছে। ৪৫ বছর বয়সী বিক্রেতা বলেন, এখানে একটি দোকান ছিল। আর বই, এবং সব দেশের পতাকা, সব দেশের। প্রচুর পরিমাণে সব কিছু ছিল। আর এখন সব শেষ।

রাশিয়ায় ইউক্রেনের প্রাণঘাতী ড্রোন হামলা : রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় রোস্তভ অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর একটি আবাসিক এলাকায় ৫ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর ইউরি স্লাসার। বেলগোরোদ এবং মস্কোয় আরও দুইজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মস্কোর গভর্নর আন্দ্রে ভোরোবিওভ এ হামলাকে সামপ্রতিক সময়ে ইউক্রেনের সবচেয়ে ভয়াবহ ড্রোন হামলাগুলোর অন্যতম বলে অভিহিত করেছেন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বাহিনী গোটা দেশে ইউক্রেবনের ৮২২টি ড্রোন আটকে দিয়েছে।

হামলা বেড়ে যাওয়া নিয়ে জেলেনস্কির সতর্কবার্তা : ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেন, রাশিয়ানরা তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে যেখানেই পৌঁছাতে পারে, সেখানেই তারা বেসামরিক অবকাঠামোতে আঘাত হানে। তিনি হিসাব দিয়ে বলেন, এ সপ্তাহেই ১৩টি অঞ্চলে হামলা হয়েছে। শত্রুপক্ষ আমাদের শহর ও জনবসতিতে ১,৫৫০টির বেশি আক্রমণাত্মক ড্রোন, প্রায় ১,৫৬০টি নির্দেশিত বিমান বোমা এবং ৬২টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার বেশিরভাগই বিভিন্ন ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার হামলা তীব্রতর হওয়ার প্রেক্ষাপটে মিত্র দেশগুলোর কাছে আরও বেশি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

বেসামরিক নাগরিক নিহতের সংখ্যা নতুন করে বেড়েছে : দুই দেশের মধ্যে তীব্রতর হতে থাকা দূরপাল্লার সামরিক অভিযানে বেসামরিক নাগরিকদেরকে ক্রমেই অনেক বেশি খেসারত দিতে হচ্ছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে ইউক্রেনে ৪৩৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেযা ২০২২ সালের মে মাসের পর থেকে এক মাসে সর্বোচ্চ মৃতের সংখ্যা। রাশিয়া কর্তৃপক্ষ আলাদাভাবে জুলাই মাসে ৭৯ জন বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে, যা আগের মাসের তুলনায় বেড়ে গেছে। সম্মুখসারির যুদ্ধ অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়া এবং শান্তি আলোচনায় কোনও অগ্রগতি না থাকায়, ক্রমাগত বাড়তে থাকা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা উভয় দেশের শহর এবং বেসামরিক এলাকাগুলোর আরও ভেতরে সংঘাতের বিস্তৃতি ঘটাচ্ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসমুদ্রে ৯ মাস, আত্মহত্যার ঝুঁকিতে হাজারো মার্কিন সেনা
পরবর্তী নিবন্ধওষখাইন দরবার শরীফের জশনে জুলুছ আজ