ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে সফল হলে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোতে সেনা ও গোয়েন্দা উপস্থিতি এবং স্থাপনার সংখ্যা কমিয়ে আনতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে দেশটির সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমপ্রতি বেশ কিছু অপ্রকাশ্য আলোচনা শুরু হয়েছে। খবর বিডিনিউজের।
মার্কিন সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার অন্তত ছয়টি দায়িত্বশীল সূত্রের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার সিএনএনে প্রকাশিত এক খবরে এতথ্য দেওয়া হয়েছে। খবরে বলা হয়, সেনা ও গোয়েন্দা উপস্থিতি কমানোর এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে, তা হবে বহু বছর ধরে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো ছেড়ে বের হয়ে যাওয়ার আকাঙ্খার বাস্তবায়িত করতে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তন। কারণ ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কের টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম এশিয়ার ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইরান, ইয়েমেন ও লিবিয়ায় স্থায়ী সামরিক ও গোয়েন্দা ঘাঁটির একটি বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল। তবে সামপ্রতিক যুদ্ধে ইরানের হামলায় এসব দেশে মার্কিন অবকাঠামোর মারাত্মক দুর্বলতাগুলো প্রকাশ পেয়েছে। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত ১৮ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। সিএনএন বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এক খামখেয়ালী ও সব সময় মন পরিবর্তন হয় এমন মানুষ বলে মনে করছেন সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় যুক্ত এই কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, তারা এখন ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ কি হতে পারে তা অনুমানের চেষ্টা করছেন। কারণ যুদ্ধপরবর্তী ভবিষ্যতের জন্য প্রেসিউন্েট ট্রাম্প এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট কৌশল বা পরিকল্পনা তুলে ধরেননি। অথচ অতীতে ট্রাম্প বিদেশে মার্কিন সেনা কমানোর কথা বলে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেছিলেন। আলোচনা এমন এক সময়ে চলছে, যখন পশ্চিম এশিয়ায় এখনও প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা, দুটি বিমানবাহী রণতরী ও এক ডজনেরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী জাহাজসহ বিশাল সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। একটি সূত্রের বরাতে খবরে দাবি করা হয়, চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরান যুদ্ধের তীব্রতম সময়ে যে সিআইএ কর্মকর্তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল, তাদের আবার ওই অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। ফলে মার্কিন সামরিক বাহিনী এখন মূল্যায়ন করছে, ইরান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যে সেনারা মধ্যপ্রাচ্যে থেকে যাবেন, তাদের সুরক্ষায় কীভাবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও মজবুত করা যায়।










