পরিত্যক্ত ১০ একর ভূমিতে বন্যপ্রাণীর খাদ্যোপযোগী ১০ হাজার বৃক্ষরোপণ

রাঙামাটির কাউখালী

প্রান্ত রনি, রাঙামাটি | শনিবার , ২০ জুন, ২০২৬ at ৯:২০ পূর্বাহ্ণ

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ মোকাবিলা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের অঙ্গীকার করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় রাঙামাটির এক উপজেলাতেই বিগত দুই সপ্তাহে ১০ হাজার বৃক্ষরোপণ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগ। যার বেশিরভাগই বন্যপ্রাণীর খাদ্যোপযোগী উদ্ভিদ হিসেবে পরিচিত।

বন কর্মকর্তারা বলছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থানীয় ও দেশীয় (নেটিভ) প্রজাতির বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সবুজায়ন আরও বাড়বে এবং পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে। দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষ ও বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ সংরক্ষণের পাশাপাশি প্রাণিকূলের খাদ্য ও আবাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে উঠবে। জীববৈচিত্র্য রক্ষার প্রথম ধাপ হলো বন সৃজন, প্রাণিকূলের খাদ্য ও আবাসস্থল উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি ২০২৫২৬ অর্থবছরে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কাউখালী উপজেলার কমলপতি ইউনিয়নের খাসখালী (কাশখালী) রেঞ্জের অধীন কমলপতি বিটের গোদার পাড় নামক এলাকায় পরিত্যক্ত ১০ একর ভূমিতে ১০ হাজার স্থানীয় ৪০ প্রজাতির বৃক্ষরোপণ করে বন বিভাগ। আগে এই ১০ একর বনভূমি ভূমিদস্যুদের কাছে জবরদখলে ছিল। জবরদখল থেকে উদ্ধারের পর পরিত্যক্ত জমিতে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেয় ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগ।

বন বিভাগ জানিয়েছে, বনায়ন করা দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষের মধ্যে ঔষধি ও বন্যপ্রাণী খাদ্যোপযোগী বৃক্ষের প্রজাতিসমূহকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। সৃজিত বৃক্ষের মধ্যে রয়েছেনিম, উড়িআম, বুদ্ধ নারিকেল, তমাল, বৈলাম, মালিআম, চাল মুগড়া, উদাল, গর্জন, চালতা, বহেরা, গোদা, বিলাতি গাব, সিভিট, তেলশুর, আমলকী, হরিতকি, কাঠবাদাম, গোলাপজাম, কালো জাম, খুদি জাম, ঢাকি জাম, ছাতিয়ান, কদম, জারুল, সোনালু, বাঁশপাতা, কদম, চাম্পাফুল, চাপালিশ, কাঁঠাল, টেউয়া, পলাশ, বট, পাকুড়, যজ্ঞডুমুর, রসকাউ, গুদগুড়িয়া প্রভৃতি। সৃজিত বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষসমূহের মধ্যে অনেক প্রজাতি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) লাল তালিকায় রয়েছে। আবার লাল তালিকায় থাকা বেশ কিছু উদ্ভিদকে সংরক্ষিত বা রক্ষিত উদ্ভিদ ঘোষণা করে আইন প্রয়োগ করে সংরক্ষণেরও উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পার্বত্য চট্টগ্রাম ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. তবিবুর রহমান আজাদীকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগ কাউখালী উপজেলার কমলপতি বিটের গোদার পাড় এলাকায় পরিত্যক্ত ১০ একর বনভূমিজুড়ে দেশীয় ও পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থানীয় ৪০ প্রজাতির উদ্ভিদের ১০ হাজার চারা রোপণ করেছে। যার সবগুলোই বন্যপ্রাণীর খাদ্যোপযোগী উদ্ভিদ। এই উদ্ভিদগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামের জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি সবুজের আচ্ছাদন বাড়াবে।

এ বন কর্মকর্তা বলেন, ওই এলাকায় আগে ৩ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হয়। গত ১৩ জুন থেকে ১৯ জুন আরও ৭ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। বিশেষত গোলামজাম, টেউয়া, চালতা, চাম্পাফুল, চাপালিশ, কাঁঠাল, বাদাম, বট, পাকুড়সহ পাখির খাদ্য উপযোগী বিভিন্ন প্রজাতির গাছকে এখানে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এখানে চাম্পাফুল ফুল ময়না পাখির প্রিয় খাবার। তিনি আরও বলেন, যে ১০ একর সংরক্ষিত বনভূমিতে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে, ইতোপূর্বে যে জায়গাটি স্থানীয় প্রভাবশালীদের জবরদখল থেকে উদ্ধার করা হয়। বন বিভাগ স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহায়তায় উদ্ধারপূর্বক বনায়ন শুরু করেছে। ভবিষ্যতে অন্য পরিত্যক্ত বনভূমিগুলোও বনায়নের আওতায় আসবে। এই স্থানে উদ্ভিদের ভ্যারাইটি (বিভিন্ন প্রজাতি) তৈরি করায় ভবিষ্যতে গাছগুলো বড় হলে পরিবেশবিষয়ক গবেষক ও অধ্যয়নরতরা মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন করেও উদ্ভিদ সম্পর্কে জানতে ও ধারণা নিতে পারবেন বলে মনে করেন এই এসিএফ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমহামায়া লেকের টোপাপানা পরিষ্কার, ফিরেছে স্বস্তি
পরবর্তী নিবন্ধখাগড়াছড়িতে বিদেশি আম চাষে ঝুঁকছেন কৃষক