পবিত্র ঈদুল আজহা কাল

ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর

আজাদী ডেস্ক | শনিবার , ৯ জুলাই, ২০২২ at ৮:০৮ পূর্বাহ্ণ

মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা আগামীকাল রোববার। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এই ঈদ। সুরা হাজ্জে বলা হয়েছে, ‘এগুলোর (কোরবানির পশুর) গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, কিন্তু তোমাদের তাকওয়া পৌঁছে যায়।’ আল্লাহর বান্দারা কে কতটুকু ত্যাগ ও খোদাভীতির পরিচয় দিতে প্রস্তুত এবং আল্লাহপাকের নির্দেশ পালন করেন তিনি তাই প্রত্যক্ষ করেন কেবল। প্রত্যেক আর্থিক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকার পরও কোরবানি দিল না, সে যেন আমার ঈদগাঁহে না আসে (মুসনাদে আহমদ)। আল কোরআনের সুরা কাউসারে বলা হয়েছে, অতএব, তোমার পালনকর্তার উদ্দেশে নামাজ পড়ো এবং কোরবানি করো। সুরা হাজ্জে বলা হয়েছে, কোরবানি করার পশু মানুষের জন্য কল্যাণের নির্দেশনা।
এদিকে দেশবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীও ঈদুল আজহা উপলক্ষে নগরবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো ঈদ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। ঈদের দিন সরকারিভাবে হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা ও শিশু সদনে উন্নত খাবার পরিবেশন করা হবে।
চট্টগ্রামে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদে। জামাতের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল পৌনে ৮টা। এ মসজিদে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) তত্ত্বাবধানে দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল পৌনে ৯টায়। প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের খতিব আল্লামা সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আল কাদেরী। এছাড়া লালদীঘি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন শাহী জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। একই সময়ে সুগন্ধা আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, হযরত শেখ ফরিদ (র.) চশমা ঈদগাহ মসজিদ, চকবাজার সিটি কর্পোরেশন জামে মসজিদ, জহুর হকার্স মার্কেট জামে মসজিদ, দক্ষিণ খুলশী (ভিআইপি) আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, আরেফীন নগর কেন্দ্রীয় কবরস্থান জামে মসজিদ ও মা আয়েশা সিদ্দিকা চসিক জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরদের তত্ত্বাবধানে একটি করে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে চসিক। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত কমিটির ব্যবস্থাপনায় এবারের ঈদুল আজহার প্রধান ঈদ জামাত স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম মাঠে সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত কমিটির সভাপতি ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমানের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মু. মাহমুদ উল্লাহ মারুফের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে কমিটির প্রস্তুতি সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এবারের ঈদ জামাতে ইমামতি করবেন বায়তুশ শরফ আদর্শ সিনিয়র কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আল্লামা ড. সাইয়েদ আবু নোমান।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মু. মাহমুদ উল্লাহ মারুফ বলেন, প্রতিবারের ন্যায় এবারও জেলা প্রশাসন এবং ঈদ জামাত কমিটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ঈদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এখানে সকাল ৭টায় প্রথম জামাত এবং সকাল ৮টায় দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। নগরীর আন্দরল্লিা শাহী জামে মসজিদেও সকাল ৭টা ও ৮টায় দুইটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ঈদের জামাতসহ নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‌্যাব ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করেছে।
উল্লেখ্য, ঈদুল আজহা হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) এর সঙ্গে সম্পর্কিত। হজরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে নিজের অতি প্রিয় পুত্র ইসমাইলকে (আ.) আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানি করতে নিয়ে গিয়েছিলেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে এই আদেশ ছিল হজরত ইব্রাহিমের জন্য পরীক্ষা। তিনি পুত্র ইসমাইলকে (আ.) আল্লাহর নির্দেশে জবাই করার সব প্রস্তুতি নিয়ে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ইসলামে বর্ণিত আছে, নিজের চোখ বেঁধে পুত্র ইসমাইলকে ভেবে যখন জবেহ সম্পন্ন করেন তখন চোখ খুলে দেখেন ইসমাইলের পরিবর্তে একটি দুম্বা (পশু) কোরবানি হয়েছে। আল্লাহর পক্ষ থেকে গায়েবিভাবে এই দুম্বা দেয়া হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি ধারণ করেই পশু জবাইয়ের মধ্য দিয়ে কোরবানির বিধান এসেছে ইসলামী শরিয়তে। প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য পশু কোরবানি করা ওয়াজিব।
আল কোরআনের সুরা কাউসারে বলা হয়েছে, অতএব, তোমার পালনকর্তার উদ্দেশে নামাজ পড়ো এবং কোরবানি করো। জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখের যে কোনো একদিন কোরবানি করা যায়। কোরবানি করা পশুর তিন ভাগের এক ভাগ নিজের জন্য রেখে আরেক ভাগ গরিব-মিসকিন ও এক ভাগ আত্মীয়স্বজনের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়ার বিধান আছে। এদিকে ৯ জিলহজ ফজরের নামাজের পর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তালবিয়াহ পাঠ করা ওয়াজিব। তালবিয়াহ হল- আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে চার লাখ চামড়া সংগ্রহের টার্গেট
পরবর্তী নিবন্ধজোরারগঞ্জে সড়ক দখল করে কাঠের ব্যবসা