পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

স্পিকার দেশে ফিরলে তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন আজই পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স

| শুক্রবার , ২৪ জুলাই, ২০২৬ at ৮:১১ পূর্বাহ্ণ

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দুই একদিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন, তিনি বঙ্গভবনের কর্মকর্তাদের কাছে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি বাংলা। স্পিকার দেশে না থাকায় তিনি এখনও পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেননি বলে জানিয়েছেন বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা। বাংলানিউজের খবরে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন শুক্রবার (আজ) পদত্যাগ করবেন বলে বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে তিনটি সূত্র থেকে জানানো হয়েছে।

বিবিসি বাংলা জানায় : বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টাতে তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই। মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। এখন জাতীয় সংসদের স্পিকার দেশে ফিরলে তার কাছে পদত্যাগপত্র দেবেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ যাতে নির্বিঘ্নে হয়, কোনো বিতর্কের সৃষ্টি যেন না হয়এমন পরিকল্পনা অনুযায়ীই প্রক্রিয়াগুলো এগিয়ে নেওয়ার চিন্তা রয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা। তারা বলেন, আর সেজন্যই স্পিকারের দেশে ফেরার অপেক্ষায়। কারণ রাষ্ট্রপতিকে স্পিকারের কাছেই পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয় এবং রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য রাখা যাবে না।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে আছেন। তিনি সফর সংক্ষিপ্ত করে অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগে আজ শুক্রবার দেশে ফিরছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।

বিডিনিউজের খবরে বলা হয় : রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বৃহস্পতিবার বলেন, ‘পদত্যাগপত্রে এখনো তিনি স্বাক্ষর করেননি। পদত্যাগ করলে জানানো হবে।’

সংবিধানের ৫০() অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র পাঠিয়ে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধানের ১২৩() অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। আর ৪৮() অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান রয়েছে।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সময় স্পিকারকে দেশে বা সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে, সংবিধানে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলেও রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পিকারকে দায়িত্ব নিতে হয় বলে পদত্যাগ ও দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি সমন্বয় করে এগোনো হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন বঙ্গভবনের একজন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি শিগগিরই পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে পারেন। তবে তিনি এখনও পত্রটি দেখেননি এবং সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরও হয়নি। স্পিকার দেশে ফিরলে বিষয়টি দ্রুত এগোতে পারে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন ৭৫ বছর বয়সী সাহাবুদ্দিন। সে অনুযায়ী তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য গত মে মাসে লন্ডনে ঘুরে আসেন রাষ্ট্রপতি। পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক, স্টাফ নার্স ও বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও তার সঙ্গে ছিলেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে তার কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি হয়েছিল। চিকিৎসকদের পরামর্শে সেই অস্ত্রোপচারের ফলোআপ পরীক্ষা করাতেই তিনি যুক্তরাজ্যে যান।

১২ মে কেমব্রিজের রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে রাষ্ট্রপতির এনজিওগ্রাম করা হয়। সে সময় হৃদযন্ত্রের একটি ধমনিতে গুরুতর ব্লক শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে এনজিওপ্লাস্টি করে একটি স্টেন্ট বসানো হয়। এরপর তাকে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। নয় দিন পর দেশে ফেরেন রাষ্ট্রপতি। তখন বঙ্গভবনের প্রেস বিভাগ ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের বরাতে তার শারীরিক অবস্থা ‘স্থিতিশীল ও সন্তোষজনক’ বলে জানিয়েছিল।

যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সারসংক্ষেপ ও নথিতে ডিজিটালি অনুমোদন দিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন। লন্ডনে সুদানের প্রধানমন্ত্রী কামিল ইদ্রিসের সঙ্গে তার অনানুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাতও হয়।

বুধবার হঠাৎ করেই প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের এক ফেসবুক পোস্ট ঘিরে নতুন করে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন শুরু হয়। সায়ের ফেসবুকে লেখেন, ‘আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। এর চাইতেও বিস্ময়কর খবর হলো নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির কোনো শীর্ষ নেতার পরিবর্তে পছন্দের তালিকায় রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।’

পূর্ববর্তী নিবন্ধথাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে আজ দেশে ফিরছেন স্পিকার
পরবর্তী নিবন্ধআল-আকসা মসজিদে ঢুকে চার সহস্রাধিক ইসরায়েলির তাণ্ডব