পটিয়ায় নাস্তা নিয়ে গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় শাশুড়ি গ্রেপ্তার

স্বামীর দাবি স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে চন্দনাইশে বাবার বাড়িতে দাফন

পটিয়া প্রতিনিধি | রবিবার , ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ at ৭:৩৯ পূর্বাহ্ণ

পটিয়ায় মারধরের শিকার হয়ে চিকিৎসাধীন থাকার অভিযোগের ৯ দিন পর মৃত্যু হওয়া তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ সিফাতুন নূরের (২২) শাশুড়ি রিজিয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ দিকে নিহতের স্বামী মো. তারেক দাবি করেছেন, তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। গতকাল শনিবার বিকেলে চন্দনাইশে বাবার বাড়িতে বাদ মাগরিব জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। সিফাতুন চন্দনাইশ পৌরসভার নয়া পাড়ার বাসিন্দা মো. নুরের মেয়ে। প্রায় পাঁচ মাস আগে পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের পূর্ব কুসুমপুরা গ্রামের দুবাইপ্রবাসী মো. তারেকের (২৬) সঙ্গে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয়।

গত শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিফাতুনের মৃত্যু হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, টানা নয় দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় সিফাতুনের মা জুহিনুর আক্তার মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে হাতে তৈরি নাস্তা নিয়ে যান। নাস্তার পরিমাণ কম হওয়াকে কেন্দ্র করে সেখানে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সিফাতুনের শাশুড়ি তাঁর মাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, ঘটনার পর সিফাতুনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গত ১৪ অক্টোবর সিফাতুনের মা পটিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তবে একটি অনলাইন গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে সিফাতুনের স্বামী মো. তারেক দাবি করেন, নাস্তা নিয়ে কোনো ঘটনা ঘটেনি। তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে তাঁর মা ও শাশুড়ির মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। আমার স্ত্রী নিজেই তার মাকে চলে যেতে বের করে দেন।

স্বামীর দাবি, এর কিছুক্ষণ পর সিফাতুন একটি কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে তাঁর মা প্রতিবেশীদের খবর দেন। পরে প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে সিফাতুনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান বলে দাবি করেন তিনি।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক জানিয়েছেন, এ ঘটনায় সিফাতুনের শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তে জড়িতদের বিষয়ে তথ্য–প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহতের বাবা মো. নুর জানিয়েছেন, তিনি তাঁর মেয়ের শাশুড়ি, স্বামী ও স্বামীর দুই বোনের বিরুদ্ধে মামলা করবেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাঙামাটিতে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ, খাগড়াছড়ির সঙ্গে বন্ধ যান চলাচল
পরবর্তী নিবন্ধএইচএসসির ফল বৃহস্পতিবার