চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ায় যাত্রীবাহী দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক বাসচালক নিহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নয়াহাট গ্যাস পাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুই বাসের অন্তত ৪০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর বাস দুটি দুমড়ে–মুচড়ে মহাসড়কের মাঝখানে আটকে যায়। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। বাস দুটি ঈগল স্পেশাল ও সৌদিয়া পরিবহনের।
দুর্ঘটনায় নিহত মো. আরাফাতুল ইসলাম (২৭) কক্সবাজারের চকরিয়া থানার বানিয়ারছরা এলাকার মৃত নুর হোসেনের পুত্র। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলেও, চিকিৎসার পূর্বেই তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেন নিহতের ভাই ও দুর্ঘটনাকবলিত ঈগল স্পেশাল পরিবহনের হেলপার মো. রিফাতুল ইসলাম।
দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে কয়েকজন পটিয়া হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেন। তারা হলেন সাতকানিয়ার নাইম উদ্দিন (২২), লোহাগড়ার আলিফ (২২), রাঙ্গুনিয়ার সৌরভ (২৪), পটিয়ার জিরির মোহাম্মদ নগর এলাকার মানিক (২৩), লোহাগাড়ার প্রফেসর আহমদ কবির (৪৮), লোহাগাড়ার আসিফ (৩০), রাঙ্গুনিয়ার ইসফাকুল ইসলাম (২৪), পটিয়া ফকিরপাড়ার নাছির উদ্দিন (৪৫), বোয়ালখালীর আলী হায়দার (২৬), সাতকানিয়ার ইসমাইল (২৯), ডুলহাজারা মালুমঘাটের জালাল উদ্দীন (২৫), চকরিয়ার হারবাং এলাকার নুর বানু (১৮), পটিয়ার উত্তর দেয়াং এলাকার মানিক (২৩)।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, গুরুতর আহতদের মধ্যে চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেছেন। বাকিদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও টেক্সিচালক মোহাম্মদ রুবেল জানান, দুইটি গাড়ি ছিল বেশ দ্রুতগতির। একটি অটোরিকশাকে ওভারটেক করতে গিয়ে ঈগল ও সৌদিয়া পরিবহনের বাস দুটি মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ৪০–৪৫ জন যাত্রী আহত হয়। আহত কয়েকজনকে আমার গাড়ি করে পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি। অনেক গুরুতর আহত যাত্রীকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
অপর প্রত্যক্ষদর্শী সাইফুল ইসলাম রানা জানান, দুই বাসের তীব্র সংঘর্ষে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেককে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অন্যদের পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন জানান, দুর্ঘটনার পর আমরা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করি। তখন প্রচুর বৃষ্টি থাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালাতে কিছুটা বেগ পেতে হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আমরা দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি রাস্তা থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করি। এছাড়া দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি হাইওয়ে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।












