বরইতলী ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের রসুলাবাদ গ্রামের আবদুল মালেক গতকাল শুক্রবার সকাল আটটার দিকে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে যাওয়ার জন্য পরিবারের সকল সদস্য নিয়ে বের হন এবং একটি নৌকায় চেপে রওনা দেন। কিন্তু ঝড়ো বাতাসের কবলে পড়ে সেই নৌকা ডুবে তিন কন্যাশিশুসহ বেশ কয়েকজন পানিতে তলিয়ে যায়। তন্মধ্যে এক কন্যা শিশু নিখোঁজ হয়ে পড়ে এবং দুই কন্যাশিশুকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে নেওয়া হয় হাসপাতালে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ছয় ঘন্টা পর নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে।
মারা যাওয়া শিশুর নাম হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণা (১২)। উদ্ধারের পর হাসপাতালে ভর্তি দুই শিশুকন্যা হলো দুই বোন জেরিন মনি (৮) আর শাওরিন মনি (৬)। আবদুল মালেক জানান, তাদের বাড়িঘরসহ পুরো রসুলাবাদ গ্রামে ১০ থেকে ১২ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় বাড়ির চালা পর্যন্ত ডুবে গেছে। এই অবস্থায় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য স্ত্রী ও তিন কন্যাশিশুসন্তানকে নিয়ে নৌকাযোগে রওনা দেন তারা। কিন্তু তাদের বহনকারী নৌকাটি তীব্র ঝড়ো বাতাসের কবলে পড়ে হারবাং ছড়া সেতুর অদূরে পানিতে ডুবে গেলে তিন কন্যা সন্তান ও স্ত্রী তলিয়ে যায়। এ সময় স্ত্রী সাঁতরিয়ে এবং ও দুই কন্যাকে কোনমতে উদ্ধার করা গেলেও বড় কন্যা হাসনাতুল জন্নাত ঝর্ণা নিখোঁজ হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিখোঁজ মেয়েকে উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং প্রায় ছয় ঘন্টা পর মরদেহ উদ্ধার করে তারা।
এদিকে কয়েকদিনের লাগাতার ভারি বর্ষণ ও পার্বত্য অববাহিকার মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা উজানের ঢলের পানিতে চকরিয়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বৃষ্টিপাতের মাত্রা সামান্য কমলেও উজানের ঢলের পানি প্রবল বেগে ভাটির দিকে চলমান থাকায় উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক স্থানে বাড়ির চালা পর্যন্ত ডুবে থাকায় মানবেতর জীবন–যাপন করছেন এখানকার লাখো মানুষ।
সরজমিন ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে– লাগাতার ভারি বর্ষণ ও মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা উজানের ঢলের পানিতে চকরিয়াজুড়ে লাখো মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। রয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট। অনেক স্থানে বাড়ির চালা পর্যন্ত ডুবে থাকায় রান্নাবান্না করা একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘জনপ্রতিনিধিদের সরবরাহকৃত তথ্যানুযায়ী উপজেলায় শতাধিক গ্রামের অন্তত ৩০ হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। তাদের মাঝে বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবার সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। ভাটির দিকে পানি বাড়লেও নদীতে ঢলের পানি প্রবাহ কমে এসেছে।’
ইউএনও বলেন, ‘বরইতলীতে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় নৌকাডুবিতে এক শিশু নিখোঁজ থাকার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় ছয় ঘন্টা তল্লাশী চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। এনিয়ে চকরিয়া উপজেলায় পাহাড় ধসে দুই শিশু, পানিতে ডুবে দুই শিশুসহ চারজন মারা গেছে বন্যায়।’












