নারী ফুটবল লিগে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন ঋতুপর্ণারা

স্পোর্টস ডেস্ক | শনিবার , ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ১১:২২ পূর্বাহ্ণ

নারী ফুটবল লিগে প্রথমবার অংশ নিয়েই বাজিমাত করতে রাজশাহী স্টার্সের দরকার ছিল ১ পয়েন্টে। শিরোপা লড়াইয়ে প্লেঅফে টেনে নিতে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রয়োজন ছিল জয়। দুই দলের লড়াইয়ে অনায়াস জয়ে শিরোপা জিতেছে ঋতুপর্ণাআলপিদের রাজশাহী। কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে গতকাল শুক্রবার শেষ রাউন্ডের খেলায় সেনাবাহিনীকে ৩০ গোলে হারায় রাজশাহী। ১০ ম্যাচের সবগুলো জিতে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হলো তারা। দুই দলের প্রথমার্ধে লড়াই হয়েছে জমজমাট। রক্ষণ জমাট রাখার দিকেই মনোযোগী ছিল দুই দল। এ অর্ধে গোল পায়নি কেউই। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়তে থাকে রাজশাহীর। ৪৭তম মিনিটে সুরভী আকন্দ প্রীতির গোলমুখে বাড়ানো আড়াআড়ি পাস গোলকিপার ঝাঁপিয়ে আটকাতে পারেননি। অনায়াসে ফাঁকা পোস্টে জাল জড়িয়ে দেন আলপি আক্তার। রাজশাহী ব্যবধান দ্বিগুণ করে নেয় দ্রুতই। ৫৮তম মিনিটে বাম দিক থেকে ঋতুপর্ণা চাকমার বাড়ানো ক্রসে দৃষ্টিনন্দন ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন শাহেদা আক্তার রিপা। শেষ দিকে রিপার ক্রসে আলপির হেড পাস পেয়ে ঋতুপর্ণা লক্ষ্যভেদ করলে শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যায় রাজশাহীর। প্রথমবারের মতো লিগে খেলতে এসেই অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর শিউলিঋতুপর্ণাআফঈদারা বলেন, গতবারের তুলনায় এবারের লিগ ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।

অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দ নিয়ে দলটির কোচ মাহমুদা শরীফা অদিতি জানান ড্র তাদের ভাবনাতেই ছিল না। ‘আমাদের পরিকল্পনাই ছিল ‘ম্যাচ বাই ম্যাচ’ আমরা ৩ পয়েন্ট করে নেব। এ ম্যাচেও ড্রয়ের কথা মাথায় আনিনি। জয়ের জন্য, ৩ পয়েন্টের জন্য আমরা মাঠে নেমেছিলাম। ড্র করার কোনো চিন্তাও ছিল না আমাদের।’ রাজশাহী অধিনায়ক শিউলি আজিম বললেন, সেনাবাহিনীর সামর্থ্যের দিকটি ভাবনায় রেখেই খেলতে নেমেছিলেন তারা। ‘ফরাশগঞ্জ এবং সেনাবাহিনী এই দুইটা টিমই আমার কাছে মনে হয়েছে যে, খুব কঠিন প্রতিপক্ষ ছিল। ফুটবলটা তো আনপ্রেডিক্টেবল। যে যত ভালো দলই হোক, আসলে রুখে দেওয়া সম্ভব যেকোনো দলের জন্যই। আমরা ওইটা মাথায় রেখেই মাঠে নেমেছি। আমরা জানি সেনাবাহিনী একটা ভারসাম্যপূর্ণ এবং ভালো দল। আমরা ওইটা মাথায় রেখেই খেলেছি। এবারের লিগটা অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল। কেননা, জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা চারটাপাঁচটা টিমে ভাগ হয়ে গিয়েছে। তাই প্রতিটা ম্যাচেই কিন্তু অনেক লড়াই হয়েছে। আগের মতো একপাক্ষিক খেলা হয়নি।’ অধিনায়কের সুরে সুর মিলিয়ে ফরোয়ার্ড ঋতুপর্ণা চাকমাও বললেন, অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথটা তাদের জন্য মসৃণ ছিল না মোটেও। ‘অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়া সহজ ছিল না অবশ্যই। বিগত লিগের থেকে এই লিগটা খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছে এবং আমাদের এবং ক্লাবেরও লক্ষ্য ছিল শিরোপা জয়ের। সেটা আমরা পূরণ করতে পেরেছি। আমরা খুশি।’ লিগের প্রাপ্তির আনন্দ উদযাপনের জন্য অবশ্য খুব বেশি সময় পাচ্ছেন না ঋতুপর্ণারা। রাজশাহী স্টার্সের ডিফেন্ডার ও জাতীয় দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকারের মনে হচ্ছে, লিগের খেলার অভিজ্ঞতা মার্চে চীন, উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষের ম্যাচে কাজে লাগবে তাদের। ‘লিগ হওয়ায় সুবিধা অনেক হয়েছে। কারণ যেহেতু এশিয়া কাপের খেলা আছে আমরা খেলার ভিতরে থাকতে পারি, গেম টাইম পাই, তাহলে ম্যাচগুলো থেকে আমাদের ভুলগুলা শিখতে পারব.. এখানে যে ভুলগুলো আমাদের হয়েছে, সেগুলো শুধরে নিয়ে এশিয়া কাপের জন্য আমরা তৈরি হতে পারব। চীন, কোরিয়া ওরা তো খুবই ভালো দল, এশিয়ার মধ্যে সেরা দল। ওদের সঙ্গে খেলতে পারব, ওদের সঙ্গে খেলে আমরা অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবো। ওদের পর্যায়ে যেতে গেলে আমাদেরকে আরও কত পরিশ্রম করতে হবে, কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, এগুলা আমরা শিখতে পারব। অবশ্যই চেষ্টা করব ওখানে ওদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আর উপরওয়ালা তো আছেই।’

পূর্ববর্তী নিবন্ধকানাডাকে হারিয়ে বিশ্বকাপে আমিরাতের প্রথম জয়
পরবর্তী নিবন্ধবার্সাকে উড়িয়ে দিয়েছে অ্যাতলেতিকো