নারী এশিয়ান কাপে আজ চীনের মুখোমুখি বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক  | মঙ্গলবার , ৩ মার্চ, ২০২৬ at ৬:৫৪ পূর্বাহ্ণ

নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশ মাঠে নামছে আজ। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ও প্রতিযোগিতার নয়বারের শিরোপাজয়ী চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে আফঈদা খন্দকারদের এশিয়ান কাপ মিশন। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার খেলাটি সিডনির ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে হবে। বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় ম্যাচটি সরাসরি সমপ্রচার করবে চ্যানেল টিস্পোর্টস।ম্যাচের আগে গতকাল আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন দুই দলের কোচ এবং অধিনায়ক। আফঈদা খন্দকার বলেছেন, ‘চীন সব দিক দিয়েই ভালো। এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন এবং শক্তিশালী দল হিসেবে তারা খেলছে। তবে তারা ভালো টিম বলে অবশ্যই মাঠের লড়াইয়ে ছেড়ে দিব না। আমরা ফাইট করবো, ইনশাআল্লাহ ভালো কিছু হবে।’ প্রতিরোধ গড়তে চেয়েছেন আফঈদা। তবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের প্রতি সমীহ রেখে আফঈদা বলেন, ‘চীনের সঙ্গে খেলতে পারাটাও আমাদের একটা সৌভাগ্যের ব্যাপার। তাদের থেকে আমরা অনেক কিছু শিখবো।’ এশিয়ার পরাশক্তি চীনের সঙ্গে এর আগে কখনও খেলেনি বাংলাদেশ। সেক্ষেত্রে তাদের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা নতুনই বলা যায়। বাংলাদেশের জন্য এশিয়ান মঞ্চটাই আসলে নতুন। এবারই প্রথমবার এশিয়ান কাপে নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ায় দারুণ অভিজ্ঞতা হচ্ছে দলের। সেটি জানিয়েছেন অধিনায়ক আফঈদা, ‘এখানে বেশ ক’দিন হয়েছে আসছি, সবাই অনেক উপভোগ করছি। পরিবেশ অনেক সুন্দর, প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডগুলা অনেক সুন্দর।’ এবার মাঠে ভালো কিছু করার অপেক্ষায় ডিফেন্ডার আফঈদা, ‘চেষ্টা থাকবে অবশ্যই আমরা ভালো কিছু করব। আমাদের প্রতিপক্ষ হচ্ছে চীন, উত্তর কোরিয়া, উজবেকিস্তান। তারা অনেক শক্তিশালী টিম। আমরা ওদের সঙ্গে সেভাবেই খেলব কোচ আমাদের যেভাবে খেলতে বলবে। চেষ্টা করব যেন ভালো কিছু করতে পারি।’ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কোচ পিটার জেমস বাটলার বলেন চীনের বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক ম্যাচ। ‘বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ইতিহাসে এটি সম্ভবত সবচেয়ে ঐতিহাসিক খেলা। মেয়েরা কোয়ালিফাই করার জন্য অসাধারণ পরিশ্রম করেছে। আমরা এখানে এসেছি এবং আশা করছি ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করতে পারব, কারণ এই পর্যায়ের ইভেন্টগুলোতেই আপনি আসলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান।’কোচ বাংলাদেশচীন ম্যাচটি ‘ডেভিড বনাম গোলাইয়াথ’ লড়াই মেনে নিচ্ছেন। তবে, ফুটবলীয় বাস্তবতায় ‘অদ্ভূত ও অবিশ্বাস্য’ কিছু হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন তিনিও। ‘চীন খুবই শক্তিশালী এবং সুসংগঠিত দল। এটি অনেকটা ডেভিড এবং গোলাইয়াথের লড়াইয়ের মতো। আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে, আমরা এখনও ওদের পর্যায়ে নেই। কিন্তু ফুটবল এক অদ্ভুত খেলা! তবে, ফলাফল যাই হোক, আমরা আমাদের নিজস্ব কৌশলে খেলব। রক্ষণাত্মক হয়ে স্রেফ গোল ঠেকানোর মানসিকতা আমাদের নেই। যদি তাদের খেলার জায়গা দেন, তবে চীন আপনাকে শাস্তি দেবে। আমরা খারাপ দিনে তাদের ধরতে পারি ফুটবলে অদ্ভুত কিছু ঘটে। আমরা সততা এবং নিষ্ঠার সাথে আমাদের সেরাটা দেব।’ ‘বাংলাদেশের মানুষের কথা বলতে গেলে, তাদের সৎ প্রচেষ্টা আশা করা উচিত। আমরা একটি সৎ দল। খেলোয়াড়রা ছোট হতে পারে, কিন্তু তাদের হৃদয় বিশাল। তারা তাদের দেশের জন্য ভালো করতে চায়।’ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পরের ম্যাচ ৬ মার্চ, উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে। এরপর গ্রুপ পর্বে শেষ খেলায় ৯ মার্চ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে পিটার বাটলারের দল।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচীনা কোচের চোখে বাংলাদেশ আগ্রাসী দল
পরবর্তী নিবন্ধমোহরা এশিয়ান ও চিটাগাং রয়েলের শুভসূচনা