নগরের ৪১ ওয়ার্ড থেকে এবার কোরবানি পশুর ১৪ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। গত রোববার ঈদুল আজহার দিন এবং পরদিন সোমবার এ বর্জ্য অপসারণ করা হয়। পুরো শহরকে ছয়টি জোনে ভাগ করে চলে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম। একই সময়ে কোরবানি পশুর বর্জ্যের পাশাপাশি নিয়মিত গৃহস্থালি বর্জ্যও অপসারণ করা হয়েছে। কোরবানি পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমে জড়িত চসিকের দায়িত্বশীলরা এ তথ্য জানিয়েছেন। এদিকে দ্রুত সময়ে জবাইকৃত পশুর বর্জ্য অপসারণ করায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নগরবাসী।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দিন দুপুর ২টার মধ্যে প্রধান সড়ক থেকে এবং বিকেল ৫টার মধ্যে অলিগলি থেকে বর্জ্য অপসারণ করা হয়। এছাড়া দ্বিতীয় দিন দুপুর ২টার মধ্যে সম্পূর্ণ বর্জ্য অপসারণ করা হয়। অবশ্য প্রথম দিন এবং দ্বিতীয় দিন শহরের অনেক এলাকায় দুপুরের পরও কোরবানি পশু জবাই করা হয়। এসব পশুর বর্জ্য উৎসস্থল থেকে সাথে সাথে অপসারণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অন্যান্য ওয়ার্ডের তুলনায় চকবাজার এবং উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ডে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম একটু বিলম্ব হয়েছে। এসব ওয়ার্ডের প্রধান সড়কে দুপুরের পরও বর্জ্য ছিল। যা অন্যান্য ওয়ার্ডে ছিল না। এছাড়া দুপুর ১টার মধ্যে আলকরণ, ফিরিঙ্গি বাজার, পাথরঘাটা, আন্দরকিল্লা, দেওয়ান বাজার ও জামালখান ওয়ার্ডে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শেষ হয়।
এদিকে রোববার এবং সোমবার দুইদিনই বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। প্রথমদিন বিকেলে আলমাস সিনেমা হল মোড় এলাকায় পরিদর্শনকালে মেয়র উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, বিকেল চারটার মধ্যে ৮০ শতাংশ বর্জ্য অপসারণ করা হয়। সন্ধ্যার মধ্যেই সব বর্জ্য অপসারণ হয়ে যাবে। এর আগে সকালে তিনি সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করার ঘোষণা দেন।
চসিকের বর্জ্য স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি ও পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মোবারক আলী দৈনিক আজাদীকে বলেন, বিকেল ৫টার মধ্যেই কোরবানি পশুর বর্জ্য শতভাগ অপসারণ করতে পেরেছি। যেসব কোরবানিদাতা দুপুরের পর পশু জবাই করেছে সেগুলো উৎসস্থল থেকে নিয়ে এসেছি। দুইদিনে অপসারণকৃত বর্জ্যের পরিমাণ ১৪ হাজার মেট্রিক টন হবে। তিনি বলেন, দুইদিন পরিদর্শনে গিয়ে মেয়র মহোদয় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। মোহরায় শুধু ধুলো দেখে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। সেখানেও কর্মী লাগিয়ে তা দ্রুত পরিষ্কার করে দিই। এছাড়া কোথাও নগরবাসীর কাছ থেকে অভিযোগ পাইনি।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নগরে এবার কোরবানিতে ১ লাখ ৮ হাজার গবাদি পশু জবাই হয়েছে। বেশ কয়েকটি এলাকায় দেখা গেছে, কোরবানিদাতারা পশুর বিভিন্ন উচ্ছিষ্ট ব্যাগে ভরে রাখে। পরে কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মীরা এসে তা নিয়ে যায়।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমে প্রথমদিন ৫ হাজার এবং দ্বিতীয় দিন সাড়ে চার হাজার পরিচ্ছন্ন কর্মী কাজ করে। এছাড়া ৩৪৫টি গাড়ি ব্যবহার করা হয়। জবাইকৃত স্থানে ব্লিচিং পাওডার ছিটানো হয়। রাস্তা ও গলি থেকে বর্জ্য অপসারণের জন্য টমটম, হুইল ভেরু ব্যবহার করা হয়। এছাড়া দামপাড়াস্থ চসিক কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুমও ছিল।








