লাইসেন্স ব্যতীত জ্বালানি তেল মজুদ করার দায়ে নগরীর পতেঙ্গার তালতলার হাফেজ মোবারক আলী শাহ ট্রেডার্স থেকে ২ হাজার ৪৮০ লিটার অকটেন জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন। এসময় প্রতিষ্ঠানটিকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
গতকাল বিকেল পৌনে ৪টার দিকে জ্বালানি মজুদ বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটট এস এম আমিরুল মোস্তফা। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম আইন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট দৈনিক আজাদীকে বলেন, জব্দকৃত অকটেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের প্রতিনিধির কাছে প্রদান করে নিলামের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দোকান মালিক জয়নাল আবেদীনের উপস্থিতিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জব্দকৃত অকটেন ১১ টি ড্রাম ও ১৪ টি প্লাস্টিক জারে ভর্তি ছিল।
ম্যাজিস্ট্রেট আরো বলেন, লাইসেন্স ব্যতীত অকটেন রাখার অপরাধ স্বীকার করেছেন দোকান মালিক। তিনি নিজেকে ১৩টি বাণিজ্যিক স্পিডবোটের মালিক হিসেবে পরিচয় দিলেও স্পিডবোটের জন্য অকটেন ক্রয়ের কোনো বৈধ রশিদ দেখাতে পারেন নি। স্কুল, দোকানপাট ও আবাসিক ভবনের সাথে লাগোয়া ছিল জয়নাল আবেদীনের প্রতিষ্ঠানটি জানিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আমিরুল মোস্তফা বলেন, স্কুল, দোকানপাট ও আবাসিক ভবনের সাথে লাগোয়া একটি দোকানে সরকারি আইন ও বিধি নিষেধ অমান্য করে তিনি অকটেন মজুদ করে আসছিলেন। এদিকে গত মঙ্গলবার রাতে নগরীর কয়েকটি এলাকায় ভোজ্য তেল মজুদদারদের বিরুদ্ধেও পৃথক অভিযান চালানো হয়েছে।
র্যাব ও জেলা প্রশাসন পরিচালিত যৌথ এ অভিযানে সিএম সনদ গ্রহণ না করে ফর্টিফাইড সয়াবিন তেল বোতলজাতকরণ এবং পণ্যের মোড়কে মানচিহ্ন ব্যবহারপূর্বক বাজারজাতকরণের দায়ে নগরীর বায়েজিদের গুলবাগের আমানত প্যাকেজিং এন্ড মার্কেটিং থেকে ১ হাজার ৪২ লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির আনুমানিক ১০ হাজার পিস পণ্যের মোড়ক এবং বেশ কিছু খালি বোতলও জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠান মালিকের বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাকিব শাহরিয়ার।
গতকাল তিনি দৈনিক আজাদীকে বলেন, বায়েজিদের অভিযান পরবর্তী খুলশী থানা এলাকার ২টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে প্রতিষ্ঠান দুটিকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। খাদ্যপণ্য মজুতের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ব্যতিরেকে প্রায় ৫০ ড্রাম (প্রতি ড্রাম ২০০ লিটার) ফর্টিফায়েড সয়াবিন তেল মজুত এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ড্রামজাত ফর্টিফায়েড সয়াবিন তেল মজুতের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে এ জরিমানা করা হয়।
জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়, জেলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সার্বিক নির্দেশনায় জ্বালানি খাতে শৃক্সখলা বজায় রাখতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এ পর্যন্ত জেলাজুড়ে ২৬৯টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬ লাখ ৭৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র্যাব, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ অভিযানে প্রায় ৭৫ হাজার ৮২৪ লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে। অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির বিরুদ্ধে এই ধরণের অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।













