নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হয় এমন উত্তেজনা তৈরি করা থেকে বিরত থাকতে সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। একইসঙ্গে ধর্মের অপব্যাখ্যা করে বিশৃঙ্খলা তৈরির সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। গতকার শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব পাশে ইন্টারন্যাশনাল কোরআন রিসাইটেশন কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। ইন্টারন্যাশনাল কোরআন রিসাইটেশন অ্যাসোসিয়েশন (ইকরা) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। খবর বাংলানিউজের।
উপদেষ্টা বলেন, ধর্মের অপব্যাখ্যা করে বিশৃঙ্খলা তৈরির সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। ধর্মের বিষয়ে শুধু প্রকৃত আলেম–ওলামাদের ব্যাখ্যাই গ্রহণযোগ্য। কোনো অপব্যাখ্যাকে গ্রহণ করা হবে না। আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, আমরা এমন কোনো কাজ করবো না যাতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এমন কোনো কাজ করবো না যাতে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। আমরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করব, সচেতনভাবে পা ফেলব।
বাংলাদেশ কোরআনের উর্বর ভূমি উল্লেখ করে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, প্রতিবছরই বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে এদেশের হাফেজ ও ক্বারীরা পুরস্কার নিয়ে আসছে। এটি আমাদের জন্য গর্ব ও আনন্দের বিষয়।
তিনি বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে দ্বীনি দাওয়াত বিভাগ যে বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিযোগী নির্বাচন করে সেটা নিখুঁত হওয়ার কারণেই আমরা আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়ে আসছি। এজন্য তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এছাড়া, হাফেজ, ক্বারী, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের কী কী সুযোগ–সুবিধা বাড়ানো যায় সে বিষয়ে চেষ্টা চালানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ড. খালিদ বলেন, ইসলাম, আল্লাহ, কোরআন, হাদিস, কবর, হাশর, জান্নাত, জাহান্নাম, শরিয়ত, মারফত, হকিকত প্রভৃতির ব্যাখ্যা দিবেন হাক্কানী আলেম–ওলামারা। যাদের এ বিষয়ে জ্ঞান নেই তারা শরিয়তের ব্যাখ্যা দিতে গেলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে, উত্তেজনাও সৃষ্টি হতে পারে। ধর্মের অবমাননা হতে পারে। এমনকি কটূক্তিও হতে পারে।
কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা আইন মেনে চলব। আমরা কেউ আইন হাতে তুলে নেব না, বিচারের ভার নিজের হাতে নেব না। বিচারের জন্য আইন আছে, আদালত আছে, সরকার আছে। সবাইকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার অনুরোধ জানান তিনি। ইকরার সভাপতি শেখ ক্বারী আহমেদ বিন ইউসুফ আল–আযহারীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব তানভীর আহমেদ, পুলিশের বিশেষ শাখার ডিআইজি এজাজ আহমেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক হারুনুর রশিদ বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। সম্মেলনে বাংলাদেশে বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত, মিশন প্রধান, প্রসিদ্ধ ক্বারীসহ আলেম–ওলামারা অংশ নেন।












