অন্তর্বর্তী সরকারের গত দেড় বছরে দেশজুড়ে ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে সাড়ে ৫০০টিতেই বিএনপির সম্পৃক্ত থাকার তথ্য দিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল সোমবার ঢাকার ধানমন্ডি মাইডাস সেন্টারে এ সংবাদ সম্মেলনে ‘কর্তৃত্ববাদ পতন পরবর্তী দেড় বছর : প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সংবাদ সম্মেলনে এ গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন টিআইবির শাহজাদা এম আকরাম ও মো. জুলকারনাইন। এতে বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার, নির্বাচন এবং রাষ্ট্র পরিচালনের নিরিখে অন্তর্বর্তী সরকারকে বিচার–বিশ্লেষণ করার কথা বলেন তারা। খবর বিডিনিউজের।
চব্বিশের আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনের এ সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকার অংশে প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে অন্তর্কোন্দল ও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে ২০২৪ সালে আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৭ মাসে মোট ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১৫৮ জন রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যু এবং ৭ হাজার ৮২ জন আহতের তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে দাবি করা হয়, এর মধ্যে ৫৫০টি ঘটনায় বিএনপি সম্পৃক্ত, শতাংশের হিসেবে যেটি ৯১.৯ ভাগ। আর আওয়ামী লীগ ১২৪টি ঘটনায় (২০.৭ শতাংশ) এবং জামায়াতে ইসলামী ৪৬টি ঘটনায় (৭.৭ শতাংশ) সম্পৃক্ত ছিল। সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের দখলে থাকা প্রতিষ্ঠান ও কার্যক্রমের ‘দখল ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টায়’ সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়। এরমধ্যে পরিবহন টার্মিনাল ও স্ট্যান্ড থেকে চাঁদাবাজি, সিলেটের কোয়ারি ও নদ–নদী থেকে পাথর লুটপাট, সেতু, বাজার, ঘাট, বালু মহাল ও জল মহালসহ বিভিন্ন ইজারা নিয়ন্ত্রণের ঘটনাগুলো প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়। এসব ক্ষেত্রে দলগুলোর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর না থাকা এবং কর্মীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারাকে কারণ হিসেবে দেখছে টিআইবি। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন শেষে সার্বিক পর্যবেক্ষণে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে ‘সবচেয়ে দুর্বল’ জায়গা ছিল। নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ‘অনিশ্চয়তা ও আশঙ্কা’ থাকলেও নির্বাচনি ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার যে প্রবণতা সবসময় ছিল, সেটি অব্যাহত আছে বলে মনে করেন তিনি। সুষ্ঠু বা নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে কি না–এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, অর্থ, পেশীশক্তি এবং ধর্ম– এই তিন শক্তির অপব্যবহার প্রকট হওয়ার দৃষ্টান্ত দেখা যাচ্ছে। যার ফলে বাস্তবে সমান প্রতিযোগিতাসহ কতটুকু সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, সেটি আমাদের দেখার বিষয়।
গবেষণা প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে :
গবেষণায় নির্বাচন বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের নানা ‘অগ্রগতি ও ঘাটতি’ পর্যালোচনায় প্রতিষ্ঠানটি বলছে, নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা, রাজনৈতিক নেতা–কর্মীর হেনস্তা ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। তাদের ভাষ্য, তফসিল ঘোষণার পর ৩৬ দিনে সারাদেশে অন্তত ১৫ জন রাজনৈতিক নেতা–কর্মী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। বছর হিসাবে ২০২৫ সালে ৪০১ রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১০২ নিহত হয়েছেন।












