ঢাকায় নিজের নির্বাচনী এলাকায় প্রথম জনসভায় এসে ভোটার মঞ্চে ডেকে ডেকে সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শুনলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান; দিলেন সমাধানের প্রতিশ্রুতি। আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর দ্বিতীয় দিন গতকাল শুক্রবার ঢাকা–১৭ আসনের ভাষানটেক এলাকায় এই জনসভায় অংশ নেন তিনি। স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপচারিতার ফাঁকে তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ভাষানটেকের বিআরবি মাঠে সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, আমরা অতীতে দেখেছি এই জনগণের পাশে কারা এসে দাঁড়িয়েছে। কাজেই আমরা যদি অতীতের সবগুলো কাজ বিবেচনা করি, আমরা দেখব, একমাত্র ধানের শীষকে যতবার নির্বাচিত করেছে এই দেশের মানুষ, ততবারই এই দেশের উন্নয়ন হয়েছে। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে, ভালো পরিবর্তন হয়েছে। কাজেই আমি ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে আপনাদের কাছে ভোট চেয়ে যাচ্ছি। খবর বিডিনিউজের।
ভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর প্রথম দিন বৃহস্পতিবার রেওয়াজ অনুযায়ী সিলেট থেকে দলের প্রচার শুরু করেন তারেক রহমান। সেখানে হযরত শাহজালাল ও শাহপরানের মাজার জিয়ারত করে ভোটের প্রচারে নামেন। সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেন। প্রচারের দ্বিতীয় দিন ভাষানটেকে সমাবেশে তিনি বলেন, আমরা দেখেছি গত ১৫/১৬ বছর কী হয়েছে। চব্বিশের ৫ আগস্ট দেশে একটি পরিবর্তন হয়েছে। আমি মনে করি, সারা দেশের মানুষ একটি পরিবর্তন চায়, ভালো পরিবর্তন চায়। মানুষের সমস্যাগুলো যাতে সমাধান হয়, মানুষের চলাফেরা, মানুষের নিরাপত্তা, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান, দেশে বেকার তরুণ–তরুণী যারা আছে, যুবক আছে, যারা কর্মহীন অবস্থায় আছে তাদের কর্মসংস্থান করা– এইগুলোর সমাধান চায় মানুষ।
সমাবেশ মঞ্চে ভাষানটেকের বাসিন্দাদের কয়েকজনকে ডেকে নেন তারেক রহমান। তাদের কাছে থেকে সমস্যার কথা শোনেন। মঞ্চে ডাক পাওয়া বাসিন্দারা ভাষানটেকের বস্তিবাসীর পুনর্বাসন, নারীদের কর্মসংস্থান ও ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন দাবিদাওয়া তুলে ধরেন। জবাবে তারেক রহমান বলেন, আমিও এ এলাকায় গত ৫০ বছর যাবত বড় হয়েছি। যদিও মধ্যে অনেকদিন বাইরে থাকতে হয়েছে আমাকে। তারপরও আমি আপনাদেরই একজন। স্বাভাবিকভাবেই যখন আমি এই এলাকার প্রার্থী হয়েছি। আমি আপনাদের এতটুকু বলতে পারি, ইনশাআল্লাহ আপনাদের দোয়া, আল্লাহর রহমতে আগামী নির্বাচনে আমি জয়ী হলে এবং ধানের শীষ সরকার গঠনে সক্ষম হলে, আজকে এই যে কয়জন মানুষ এখানে উপস্থিত হাজার হাজার এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে যে সমস্যার কথা বলে গেছেন, ইনশাল্লাহ আমরা সেই সমস্যার সমাধান করব।
মঞ্চে থাকা বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হককে দেখিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই যে এখানে আমিনুল হক আছেন। সবাই চেনেন তাকে। ছেলে হোক মেয়ে হোক, তারা যাতে প্রফেশনাল খেলোয়াড় হতে পারে, ক্রীড়া দিয়ে যাতে জীবিকা অর্জন করতে পারে, সেই প্রতিভাগুলোকে আমরা বের করে নিয়ে আসতে চাই।
গত ১৫/১৬ বছরে দেশের অনেক খাত ধ্বংস হয়ে গেছে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেছেন, এই ধ্বংস হওয়ার ফলে দেশ অনেক পিছিয়ে গিয়েছে। আমাদের এগুলোকে পুনর্নির্মাণ করতে হবে। এর জন্য গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কেন প্রতিষ্ঠিত করতে হবে? কারণ গণতান্ত্রিকভাবে আপনারা যদি আপনাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারেন, তাহলেই কিন্তু আপনার এলাকার সমস্যা তার কাছে নিয়ে যেতে পারবেন। তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছর যে নির্বাচন হয়েছিল, সেই নির্বাচনে যে তথাকথিত এমপি ছিল, আপনারা কি তাদের যেতে পেরেছিলেন? আপনাদের এলাকার সমস্যা নিয়ে যেতে পেরেছেন? পারেন নাই। সেই জন্যই এলাকার সমস্যার সমাধান যদি করতে হয়, দেশের উন্নয়ন যদি করতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদেরকে গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হবে। আপনারা যদি প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারেন, শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচন নয়, একইসঙ্গে সেটি পৌরসভা হোক, উপজেলা হোক, ইউনিয়ন পরিষদ হোক, সব জায়গায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হবে।












